logo

ওমানে গোপন বৈঠক/সৌদি-ইসরায়েলের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে হুতি

রয়টার্স
রয়টার্স
সৌদি-ইসরায়েলের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে হুতি
২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে হামলার নিন্দা জানাতে হুতি আন্দোলনের নেতা আবদুল-মালিক আল-হুতির ছবিসহ প্ল্যাকার্ড হাতে ইয়েমেনের সানায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সমর্থকরা। ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরব-সমর্থিত যৌথ বাহিনীকে পরাস্ত করে কৌশলগত লোহিত সাগরের উপকূলীয় ইয়েমেনি অঞ্চল দখল করে নেয় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম সংর্কীণ জলপথ বাব আল-মান্দেবেও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে গোষ্ঠীটি। দুপক্ষের তীব্র সংঘাতের মধ্যে ওমানে হুতি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাজধানী মাস্কাটে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি সূত্র জানায়, জনসমক্ষে প্রকাশ না করা এই বৈঠকটি মাস্কাটে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী ওমান সরকার এই সংবেদনশীল বৈঠকটি আয়োজনে মূল সহায়তা করেছিল বলে জানায় অন্য দুটি সূত্র।

বৈঠকের বিষয়ে দুটি সূত্র জানিয়েছে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে হুতিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মার্কিন জাহাজে হামলা চালানোর কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ইয়েমেনি একটি সূত্রের বরাতে জানা যায়, মিলিশিয়া গোষ্ঠীটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, তারা কেবল ইসরায়েলি ও সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করবে না। এদের ব্যাপারে হুতিরা কোনো ছাড় দিতে নারাজ।

ওমানের এই বৈঠকে মার্কিন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন মাস্কাটস্থ দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কূটনীতিকেরা। অন্যদিকে, হুতি প্রতিনিধিদলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত মাস্কাট-ভিত্তিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুসসালাম ও অপর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবদেলমালিক আল-আজিরি উপস্থিত ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওমানে হুতিদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের সত্যতা বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র সুনির্দিষ্টভাবে বৈঠকটি নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি বলেন, ‘লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো প্রতিরোধ করা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের অংশ।’

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত ওমান দূতাবাস ও হুতি প্রতিনিধি আবদুসসালাম মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের মার্চে হুতিদের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ (এফটিও) হিসেবে ঘোষণা করে এই ঘোষণার ফলে গোষ্ঠীটিকে যে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

তবুও ওয়াশিংটন চলতি সপ্তাহে সরাসরি হুতিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়। লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করতে দুই মাস ধরে টানা বিমান ও বোমা হামলার পর গত বছরের মে মাসে তারা একটি চুক্তি ও যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, হুতিরা তার প্রশাসনকে ফোন করে ইয়েমেন সংঘাত ও যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র হুতি গোষ্ঠীটির সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। যদিও এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলে নেওয়া হুতি বিদ্রোহীরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি যুদ্ধবিরতির অধীনে যুদ্ধ কিছুটা শান্ত হলেও ইয়েমেনের বিভিন্ন বন্দরে রিয়াদের অবরোধের জবাবে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর পাল্টা অবরোধ ঘোষণা করলে জুলাই মাসে পুনরায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়।

উপকূলীয় অঞ্চলে হুতিদের এই নাটকীয় ও বিশাল অগ্রগতির মুখে সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে জরুরি ভিত্তিতে মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন। তবে রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে রিয়াদকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত হবে না।