logo

নির্বাচনের শেষ দিনে মস্কোয় ব্যাপক ড্রোন হামলা, নিহত ২

এএফপি
এএফপি
নির্বাচনের শেষ দিনে মস্কোয় ব্যাপক ড্রোন হামলা, নিহত ২
ড্রোন হামলার পর মস্কোর একটি তেল শোধনাগার থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠছে (২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬)। ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনে রাজধানী মস্কো ও আশপাশের অঞ্চলে শত শত ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং মস্কোর একটি বড় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি ড্রোন মস্কোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সোবিয়ানিন অভিযোগ করেন, তিন দিনব্যাপী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এই নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়েছে। তবে শত্রুপক্ষের সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুটি পৃথক স্থানে ড্রোন হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ বছর বয়সি এক নারী ও একজন বয়স্ক পুরুষ রয়েছেন।

এ ছাড়া একটি ২১ তলা ভবনে ড্রোন আঘাত হানার পর আগুন ধরে যায়। এতে ভবনটি থেকে প্রায় ৪০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি গভর্নর।

এদিকে সোবিয়ানিন আরও জানান, মস্কো অয়েল রিফাইনারির একটি স্থাপনা ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। ঘটনাস্থলে জরুরি সেবার কর্মীরা কাজ করছেন। মস্কোর এই বড় তেল শোধনাগারটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও ইউক্রেনীয় হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

গত কয়েক মাসে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও জোরদার করেছে ইউক্রেন। বিশেষ করে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো এসব হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ রাজস্বের উৎস জ্বালানি খাত হওয়ায় ইউক্রেন এই অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই হামলার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার থেকে রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ সেনা অভিযান শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। ওই সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ক্রেমলিনের সামরিক অভিযানকে সমর্থনকারী দলগুলোই প্রার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। এমনকি রাশিয়া ইউক্রেনের দখল করা কিছু এলাকাতেও ভোটের আয়োজন করেছে।

পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া আবারও সহজেই জয় পাবে—এমনটাই ধারণা করা হলেও, এবারের নির্বাচনকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি রুশ জনগণের সমর্থনের মাত্রা বোঝার একটি সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।