logo

ইউনেস্কোর নামে প্রতারণা, ভারতীয় সংগীতশিল্পীর বাসায় অভিযান

কলকাতা ব্যুরো , পশ্চিমবঙ্গ
ইউনেস্কোর নামে প্রতারণা, ভারতীয় সংগীতশিল্পীর বাসায় অভিযান
সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের বাসায় ইডির তল্লাশি অভিযান। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে সংগীতশিল্পী, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ইন্দ্রনীল সেন ও তার একাধিক ঘনিষ্টদের বাড়িতে চলছে ভারতের আর্থিক গোয়েন্দ সংস্থা ইডির (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) তল্লাশি অভিযান। কলকাতা ও বিভিন্ন জেলা মিলিয়ে প্রায় ১৫টি ঠিকানায় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে একযোগে শুরু হয় অভিযান।

ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপূজোর টিকিট চড়া দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে।

আরও অভিযোগ, মাস-আর্ট নামক সংস্থার নামে বাজার থেকে বিরাট অঙ্কের টাকা তোলেন ইন্দ্রনীল সেন ও তার স্ত্রী মধুছন্দা সেন। ২০২২ সালে ইন্দ্রনীল সেন ও তার স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নেতৃত্বে ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে এই সংস্থাটি গড়ে ওঠে। অভিযোগ এই সংস্থা নিজেদের ইউনেস্কোর অফিসিয়াল পার্টনার বলে দাবি করত। কলকাতার ২৪টি দুর্গাপূজা মণ্ডপের প্রিভিউ শো দেখানোর নামে টিকিট চড়া দামে আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি করে। যেখানে মোট দুর্নীতির অংক প্রায় ৬০ কোটি রুপি।

সেই দুর্নীতির তদন্তেই আজ শহরের ১৫টি ঠিকানায় একযোগে হানা দেয় ইডির একাধিক দল। তার মধ্যে রয়েছে তৃণমূল আমলের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি, হিন্দুস্তান পার্কে তার আত্মীয়ের বাড়ি এবং হাইল্যান্ড পার্কের এক ইভেন্ট ম্যানেজার অরিজিৎ দাশগুপ্তর বাড়ি, পঞ্চসায়র ও সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি। ইডি আধিকারিকরা ঢোকার আগেই বাড়িগুলো চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় পুলিশ। সাবেক মন্ত্রীকেও এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অভিযোগ ২০২২সালে কলকাতার দুর্গাপূজা হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পরেই এই সংস্থা গজিয়ে ওঠে। সংস্থাটি কলকাতা শহরের প্রায় ২৪টি পূজাকে বেছে নিয়ে একটি মিউজিয়াম বা প্রদর্শনীতে তাদের থিম ও শিল্পকর্ম দেখানো হতো। সংস্থাটি দাবি করত, এই উদ্যোগ ইউনেস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রতারিত হওয়া জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামের এক অভিযোগকারীর দাবি, ইউনেস্কো কোনওদিনই এই বাণিজ্যিক উদ্যোগ বা প্রদর্শনীর সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে ভুয়া আন্তর্জাতিক তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছে বিপুল দামে এই টিকিট বিক্রি করা হত। টিকিট বিক্রি ছাড়াও স্পনসররশিপ এবং পুরস্কারের বিষয়েও ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি ছিল।

সরকারের মন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তার বিরুদ্ধে এতদিন পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি বলে অভিযোগ অভিযোগকারীদের। সম্প্রতি ক্ষমতার পরিবর্তনের জুন মাসে বউবাজার থানায় ইন্দ্রজিৎ সেন তার স্ত্রীর নামে পরপর দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং বা আর্থিক তছরূপের মামলা দায়ের হওয়ায় ঘটনা তদন্তে নেমেছে ভারতের আর্থিক দুর্নীতিসংক্রান্ত তদন্তকারী সংস্থা ইডি।