লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটোর পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

লিথুয়ানিয়া তাদের ভূখণ্ডে পারমানবিক অস্ত্র মোতায়েন করলে এর সমুচিত জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। বিদেশি পারমানিক অস্ত্র মোতায়েনকে সমর্থন করে লিথুয়ানিয়ার একটি আইনে দেশটির আইনসভা কর্তৃক পাস করা পবিবর্তনকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গ শহরে চলমান ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬” এর সাইডলাইনে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস ব্রিফিং এ এসব কথা বলেন তিনি।
রাশিয়া সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, “লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্ট বা 'সেইমাস'-এর শরৎকালীন অধিবেশন, যেখানে বিদেশি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সুযোগ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিষয়টি রয়েছে; এটি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, ‘এর পরিণতি কী হবে তা আমার জানা নেই। এই পদক্ষেপগুলো ন্যাটো দেশগুলোর চরম উসকানিমূলক ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী রুশ-বিরোধী নীতিরই অংশ। এই নীতিতে লিথুয়ানিয়ার জনগণের ইচ্ছার কোনো তোয়াক্কা করা হয় না; বরং লিথুয়ানিয়াকে কেবল একটি 'স্প্রিংবোর্ড' বা সম্ভাব্য উসকানির আরেকটি ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়’।
তিনি বলেন, এর সবকিছুতেই তথাকথিত 'সম্প্রসারিত পারমাণবিক প্রতিরোধ' এর বিভিন্ন কৌশল ও কর্মপদ্ধতি জোরদার করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে পারমাণবিক ক্ষেত্রে ন্যাটোর সম্মিলিত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ ঘটছে, যা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।"
মারিয়া আরও বলেন, “এই নীতির সরাসরি জবাব হিসেবেই বেলারুশের ভূখণ্ডে রাশিয়ার কৌশলগত নয় এমন পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে; যাকে আমরা এখন 'ইউনিয়ন স্টেট'-এর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করি।
লিথুয়ানিয়া সম্পর্কে রুশ সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্যটি এমন সময়ে এলো যখন দেশটিতে একটি ড্রোন আক্রমণের জন্য রাশিয়াকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াস এবং কনাস শহরে ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। তবে ড্রোনটি বিধ্বস্ত হওয়ার পূর্বেই ন্যাটোর যুদ্ধবিমান কনাসের আকাশে সেটিকে ধ্বংস করে।
