
ইউক্রেনে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আর্টিলারি হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। পাশাপাশি কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ইউক্রেনের আঞ্চলিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ভোরে রাশিয়া ও ক্রিমিয়া থেকে আসা ১৭৪টি ড্রোন এবং দুটি ‘জিরকন’ অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে এই তীব্র আক্রমণ চালানো হয়। বিমানবাহিনীর দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৪১টি লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত বা জ্যাম করতে সক্ষম হয়েছে। তবে শত্রু পক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মূল লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি।
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে তারা কৃষ্ণ সাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে—ওডেসা অভিমুখী একটি ইউক্রেনীয় শুকনো কার্গো জাহাজ এবং ওডেসা বন্দরের একটি নোঙর করা ট্যাংকারে—‘গেরান-৪ সিকার’ লয়টারিং ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার দাবি, জাহাজ দুটিতে সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিল।
আঞ্চলিক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের চিত্র:
খারকিভ: গভর্নর ওলেহ সিনিহুবভ জানিয়েছেন, খারকিভের ১৪টি জনবসতিতে রুশ হামলায় ৫ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। বালাকলিয়া ও লিপকুভাতিভকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খেরসন: গভর্নর ওলেকসান্দর প্রোকুদিন জানিয়েছেন, খেরসনের ২৫টি এলাকায় গোলাবর্ষণে ৩ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আবাসিক ভবন, সেল টাওয়ার ও গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দনিপ্রোপেত্রোভস্ক: এই অঞ্চলে ১০ বারেরও বেশি ড্রোন, আর্টিলারি ও বিমান থেকে হামলা চালানো হয়েছে। এতে দুজন আহত হওয়ার পাশাপাশি গুদাম, ক্লিনিক, শপিং মল ও বেশকিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পোল্যান্ডে উচ্চ সতর্কতা:
প্রতিবেশী ইউক্রেনে রাশিয়ার এই ব্যাপক বিমান হামলার পর পোল্যান্ড তাদের যুদ্ধবিমান আকাশে ওড়ায় এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখে। পোলিশ সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন কার্যক্রমের কারণে তাদের আকাশসীমায় সামরিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় বাহিনী ও রাডার ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়। পরবর্তীতে কোনো আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
অন্যদিকে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে চলতি বছর তাদের বাহিনী ৫ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন সেক্টরে তাদের আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।
