logo

শেহবাজের আমন্ত্রণ, পাকিস্তানে ফের যাবেন মোদি?

টাইমস অব ইন্ডিয়া
টাইমস অব ইন্ডিয়া
হিন্দুস্তান টাইমস
হিন্দুস্তান টাইমস
টিভি৯ বাংলা
টিভি৯ বাংলা
শেহবাজের আমন্ত্রণ, পাকিস্তানে ফের যাবেন মোদি?
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (বামে) ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (ডানে)। ছবি: পিটিআই

দীর্ঘদিনের শত্রুরাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিজ দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তবে দীর্ঘ ১২ বছর মোদি আবারও ইসলামাবাদ সফরে যাবেন কি না, এ নিয়ে আঞ্চলিক কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ তার এই সফর পাল্টে দিতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার সব হিসাব-নিকাশ।

Advertisement

মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) রাষ্ট্রপ্রধানদের কাউন্সিলের শেষ দিনে ২০২৬-২৭ মেয়াদে সংস্থাটির আবর্তনশীল সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছে পাকিস্তান।

২০২৭ সালে এসসিওর শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করবে তারা। পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, পরবর্তী বছরের এসসিও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলন ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।

একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, সেই সম্মেলন যোগ দিতেই অন্য রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শেহবাজ শরিফ।

অবশ্য এর আগেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, এসসিও-র নিয়ম অনুযায়ী সব সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেই তালিকায় ভারতও থাকবে।

বিশকেকে অবশ্য ভারত ও পাকিস্তানের দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ছিল আলাদা তাৎপর্যের। সেখানে নরেন্দ্র মোদি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের পুরো পরিবেশ ধ্বংস করতে হবে। কোনো দেশ যেন সন্ত্রাসবাদকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। পাশাপাশি পানিকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির অস্ত্র না করার বার্তাও দিয়েছেন। ফলে একই মঞ্চে থেকেও দুই দেশের অবস্থানের ফারাক স্পষ্ট হয়েছে। এখন প্রশ্ন, এমন পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালে ইসলামাবাদ যাবেন কি মোদি?

নয়াদিল্লির অবস্থান এখনও চূড়ান্ত নয়। সূত্রের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস দাবি করেছে যে, সম্মেলনের সময়কার আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ আমন্ত্রণ পেলেই যে প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান যাবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনে যোগ দেননি মোদি। ভারতের হয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ফলে ২০২৭ সালের সম্মেলনে মোদির সম্ভাব্য সফর কূটনৈতিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি শেষবার পাকিস্তানে গিয়েছিলেন ২০১৫ সালে। আফগানিস্তান সফর শেষে আচমকাই লাহোরে নেমেছিলেন তিনি। সেই সফর ছিল অপ্রত্যাশিত এবং কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কিন্তু তারপর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে গভীর টানাপোড়েন তৈরি হয়। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান এখনও সীমান্তে সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া বন্ধ করেনি। এই অবস্থায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও কার্যত থমকে রয়েছে।

ফলে এসসিও-র মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চই দুই দেশের নেতাদের একই জায়গায় আনার অন্যতম সুযোগ। ২০২৬ সালের বিশকেক সম্মেলনেও দুই নেতা একই মঞ্চে ছিলেন। আগামী বছর ইসলামাবাদে যদি মোদি উপস্থিত হন, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে বড় কূটনৈতিক বার্তা বহন করবে।

তবে সফর হলেও সেটিকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সংকেত হিসেবে দেখা হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারতের অবস্থান এখনও স্পষ্ট; সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হলে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক আলোচনা সম্ভব নয়।

তাই ২০২৭ সালের ইসলামাবাদ এসসিও সম্মেলন এখন থেকেই নজরে। একদিকে পাকিস্তানের আমন্ত্রণ। অন্যদিকে ভারতের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত মোদি ইসলামাবাদে যাবেন কি না, তার উত্তর নির্ভর করবে আগামী এক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে যায় তার উপর।

শেহবাজের আমন্ত্রণ, পাকিস্তানে ফের যাবেন মোদি? - Asia Post