ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন/ইরানের গোয়েন্দা তথ্যে সৌদিতে হামলা হুতির

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা কৌশলগত ও নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়িয়েছে। সৌদি জোটের হামলায় শত শত যোদ্ধা হারালেও গোষ্ঠীটি উন্নত কৌশল ব্যবহার করছে। ইয়েমেনে তাদের সাম্প্রতিক হামলায় গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে মিত্র ইরান।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন এমনটাই দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিবিরোধী জোটের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সহায়তার মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং কৌশলগত নির্দেশনা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত। এসব সহায়তা ইয়েমেনে দ্রুত ভূখণ্ড দখলেও হুতিদের ভূমিকা রেখেছে। গোষ্ঠীটি এখন বাব আল-মান্দেব প্রণালির ইয়েমেন উপকূলের নিজেদের অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকার, জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।
আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা হুতিদের লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির জন্য হুমকি তৈরি করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার মোতায়েনে সহায়তা করেছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে শুরু হওয়া এক অভিযানে হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সহায়তায় বিপুলসংখ্যক যোদ্ধা মোতায়েন করে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে। এ সময় তারা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকা দখল করে নেয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে হুতিবিরোধী বাহিনীর এক ব্যক্তি বলেন, আগের লড়াইগুলোর তুলনায় হুতিরা এবার আরও উন্নত কৌশল দেখিয়েছে। তারা পদাতিক বাহিনীর হামলার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সমন্বয় করছে। এসব ড্রোনের মধ্যে ফাইবার-অপটিক তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ফার্স্ট-পারসন-ভিউ (এফপিভি) ড্রোনও রয়েছে।
হুতিবিরোধী আরেক কর্মকর্তা বলেন, আইআরজিসির কর্মকর্তারা সামনের সারিতে থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনায় সহায়তা করছিলেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, তেহরান ও হুতিদের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার সম্পর্ক ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’। তিনি বলেন, ‘হুতিদের সাফল্যে ইরানের বড় ধরনের স্বার্থ রয়েছে।’ তিনি এই সম্পর্ককে নিছক পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রিত গোষ্ঠীর সম্পর্কের পরিবর্তে কৌশলগত সহযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ইরানের সামরিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এ ধরনের অভিযোগ তেহরানের ভূমিকা অতিরঞ্জিত করে এবং হুতিদের নিজস্ব সক্ষমতা বিকাশের বিষয়টি উপেক্ষা করে।
গত মাসে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইরান ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না।’ তিনি হুতিদের ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন পক্ষ, যারা নিজেদের স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়’ বলে বর্ণনা করেন।
২০২৪ সালে জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল দেখতে পায়, হুতিরা নিজেদের কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য লেবানন ও ইরাকে যৌথ অভিযান পরিচালনার কক্ষ স্থাপন করেছিল।

