সৌদি আরবের হামলায় দুই দিনেই প্রাণ গেল অর্ধ শতাধিক মানুষের

ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলায় দুই দিনে ৫৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। তবে আন্তর্জাতিক সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা এসব প্রাণহানির বেশির ভাগের জন্য হুথিদের দায়ী করছেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে দেশটিতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা বাড়ছে।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি জানান, আনসারুল্লাহ নামে পরিচিত হুথি গোষ্ঠীর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে ৫৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের দাবি, সৌদি আরবের বিমান হামলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, হতাহতের বেশির ভাগের জন্য দায়ী হুথিরা।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই চলছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। এর মধ্যে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী শিবিরগুলোতে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এসব শিবিরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে নতুন করে কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টের শুরু থেকে ইয়েমেনে ৩ লাখ ১৩ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের ৪০ শতাংশের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তাইজ গভর্নরেটের ভেতরেই।
জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল জানিয়েছে, জ্বালানি ও চিকিৎসাকর্মীর সংকটে তাইজ শহরের ৮০ শতাংশের বেশি চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের বানি হাশিশ জেলার আল-শারিয়াহ এলাকায় বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আল-মাসিরা টেলিভিশন চ্যানেলের একজন ক্যামেরাপারসনও রয়েছেন।