জন্মহার বাড়াতে কর্মীদের জন্য ডেটিং অ্যাপ চালু করল আরেক দেশ

রেকর্ড-নিম্ন প্রজনন হারের কারণে জন্মহার দ্রুত কমে যাওয়ায় সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন ডেটিং অ্যাপ চালু করেছে সিঙ্গাপুর। কর্মীদের পরস্পরের সঙ্গে পরিচিতি হওয়া এবং ভবিষ্যতে আরও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এর আগে পূর্ব এশিয়ার আরেক দেশ জাপান একই উদ্যোগ নিয়েছিল। অবশ্য দেশটির এই উদ্যোগ ছিল সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত।
সিঙ্গাপুরে গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে চালু করা হয়েছে ‘ফার্স্টডেট’ নামের এই অ্যাপটি। বর্তমানে এটি শুধু দেশটির সরকারি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত। অ্যাপটির ব্যবহারকারীদের নিজেদের আগ্রহ ও মূল্যবোধ নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে অ্যালগরিদম অবিবাহিত ব্যক্তিদের মধ্যে একবারে একটি করে ডেটের জন্য জুটি তৈরি করে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেটিং অ্যাপটি ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের জন্য। নোবেল পুরস্কারজয়ী অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ‘সোয়াইপ ক্লান্তি’ দূর করা এবং ব্যবহারকারীদের ‘চিন্তাশীল সম্পর্ক’ গড়ে তুলতে সহায়তা করার লক্ষ্য রয়েছে অ্যাপটির। ফার্স্টডেট তাদের ওয়েবসাইটে গেল-শ্যাপলি স্টেবল ম্যারেজ অ্যালগরিদমকে এই কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।
কোনো যুগলকে জুটি হিসেবে নির্ধারণ করা হলে ডেটটি গ্রহণ করার জন্য তাদের তিন দিন সময় দেওয়া হয়। আলাপ শুরু করার জন্য অ্যাপটি কিছু উপায়ও বাতলে দেয়। এগলোকে বলা হয় ‘ডেট কোয়েস্ট’।
সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৯ বছর বয়সি কর্মী এলিজাবেথ বিবিসি-কে বলেন, ‘দিন শেষে আমি মনে করি, বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে কারও সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতায় খুব বেশি পরিবর্তন আসে না। তবে এটা জেনে ভালো লাগছে যে, প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। আমরা সবাই তো সরকারি কর্মচারী এবং একজন সঙ্গী খুঁজছি, তাই না?’
জনগণের জন্য ঘটকের ভূমিকা পালনে সিঙ্গাপুর সরকারের এটিই প্রথম উদ্যোগ নয়। ১৯৯৮৪ সালে সরকার ‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ইউনিট’ নামে একটি ঘটকালি সংস্থা চালু করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জুটি বাঁধতে উৎসাহিত করতে সংস্থাটি অবিবাহিতদের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করত।
ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যার কারণে সিঙ্গাপুর বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে ৩০ হাজারেরও কম শিশু জন্ম নেয়। এটি ছিল গত ৬০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে মোট প্রজনন হার (টিএফআর) কমে নারীপ্রতি ০ দশমিক ৮৭ শিশুতে দাঁড়ায়। স্থিতিশীল জনসংখ্যা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ২ দশমিক ১ শিশুর হারের তুলনায় এটি অনেক কম।
অন্যদিকে, মৃত্যুর সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২৫ সাল নাগাদ দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার ৫০০-তে পৌঁছায়।

