logo

কুর্দিস্তান থেকে সব আকাশ প্রতিরক্ষা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

রুদাউ
রুদাউ
কুর্দিস্তান থেকে সব আকাশ প্রতিরক্ষা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ‘এমআইএম-১০৪ প্যাট্রিয়ট’ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমের উৎক্ষেপক। ছবি: প্রেসটিভি

দীর্ঘ ২৩ বছর পর ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর দেশটির কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকে সব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক সরকারের সঙ্গে সম্পাদিক চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এরবিলে মোতায়েন থাকা অবশিষ্ট প্যাট্রিয়ট ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ সমস্ত আধুনিক প্রতিরক্ষা সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Advertisement

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কুর্দি সংবাদমাধ্যম রুদাউ।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে সৈন্য ও যুদ্ধাস্ত্র পর্যায়ক্রমে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক জোট বাহিনী ইরাক থেকে পুরোপুরি কার্যক্রম গুটাবে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্তাবলি মেনেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম গুটানোর প্রস্তুতি দেখিয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমাটি ইরাকি প্রধানমন্ত্রী জাইদির নির্ধারিত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার সময়সীমার সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়।

নিরাপত্তা উপদেষ্টা আরাজি বলেন, জোট বাহিনী প্রত্যাহারের পর দেশের সব অস্ত্ররাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের অধীনে নিয়ে আসার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি ইতোমধ্যে জর্ডানে স্থানান্তর করেছে এবং ব্রিটিশ বাহিনী সাইপ্রাসে তাদের র‍্যাপিড সেন্ট্রি সিস্টেম হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু করেছে।

তবে মার্কিন সেনা ও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহারের এই প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত চরম রূপ ধারণ করেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান ও তাদের প্রক্সি দলগুলো কুর্দিস্তান অঞ্চলে এক হাজারের বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার ফলে এরবিলসহ কুর্দিস্তান অঞ্চল চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। এদিকে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অংশ কাতাইব হিজবুল্লাহ, সাইয়্যেদ আল-শুহাদা ও হারাকাত আল-নুজাবাসহ পাঁচটি মূল সশস্ত্র গোষ্ঠী এখনও সমরাস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়ে অতিরিক্ত দাবি পেশ করে চলেছে।