পশ্চিমবঙ্গের রেললাইনে বড় ধস, দুদিন ধরে বন্ধ রেল যোগাযোগ

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার কাছে রেললাইনের তলদেশে হঠাৎ বড় ধরনের ধস নেমেছে। এ ঘটনায় প্রায় দুই দিন ধরে ব্যাহত রয়েছে রেল যোগাযোগ। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও (৪ সেপ্টেম্বর) রাজ্যের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
পূর্বাঞ্চলীয় রেল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রেল পরিষেবা আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে। তবে শুক্রবার যেসব ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি, সেগুলোর রেক না থাকায় শনিবারও ১৫টি ট্রেন বাতিল থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিউ ফারাক্কা স্টেশনের কাছে ধসের পরিধি প্রাথমিকভাবে ১০ মিটার মনে করা হয়েছিল। পরে দেখা যায়, প্রায় ৮০ মিটার দীর্ঘ রেললাইনের তলদেশের মাটি প্রায় ১৫ ফুট নিচে দেবে গেছে। ফলে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়।
ধসে যাওয়া অংশ ভরাট করতে পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে বিশেষ মালগাড়িতে করে পাথর আনা হয়েছে। পাশাপাশি শতাধিক শ্রমিক লোহার রড দিয়ে পাইলিংয়ের কাজ করছেন।
রেলের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, টানা ভারী বৃষ্টিপাত, ফারাক্কার রেললাইনের পাশের নয়নজুলিতে পানি জমে মাটি আলগা হয়ে যাওয়া এবং লাইনের নিচে ইঁদুরের বাসার কারণে মাটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এই ধস নেমেছে।
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) গীতিকা পাণ্ডে জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু ট্রেন বাতিল ও কিছু ট্রেনের পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। পুরো পরিস্থিতি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মোকাবিলা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ট্রেন বাতিল ও চলাচলে ব্যাঘাতের কারণে দীর্ঘ ছুটির মধ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরবঙ্গগামী পর্যটক এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে কলকাতায় আসা সাধারণ যাত্রীরা। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার সুযোগে বেসরকারি বাসের টিকিটের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পরিবহন দপ্তর।

