logo

সুপ্রিম কোর্টে রাহুল গান্ধীদের আবেদন শুনানি স্থগিত

হিন্দুস্তান টাইমস
হিন্দুস্তান টাইমস
সুপ্রিম কোর্টে রাহুল গান্ধীদের আবেদন শুনানি স্থগিত
সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করতে ইন্ডিয়া ব্লকের নেতাদের ‘গণতন্ত্রের জন্য পদযাত্রা’ চলাকালীন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ওয়াদরাসহ অন্যরা। ছবি: পিটিআই

ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) কার্যক্রম ও কথিত নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র ১১ নেতার করা আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার হচ্ছে না। আদালতের রেজিস্ট্রি আবেদনে ১৪টি ত্রুটি চিহ্নিত করায় শুনানি পিছিয়ে গেছে।

ত্রুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে আদালত ফি বাবদ ২২০ রুপি ঘাটতি, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের অস্পষ্ট ফটোকপি এবং ১১ আবেদনকারীর মধ্যে নয়জনের ওকালতনামা (আইনজীবী নিয়োগের অনুমতিপত্র) জমা না দেওয়া।

আবেদনকারীদের আইনজীবী দল ত্রুটিগুলো সংশোধনের পর বুধবার মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে।

বিরোধী নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের এককভাবে নেওয়া কথিত সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে স্বাধীন ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলমান বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম (এসআইআর) স্থগিত রাখার আবেদনও করেছেন তারা।

যাদের ওকালতনামা জমা দেওয়া হয়নি, তাদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শরদচন্দ্র পাওয়ার) সংসদ সদস্য সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৌগত রায়।

এ ছাড়া জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনে ‘ব্যক্তিগত পক্ষগুলোকে’ কেন বিবাদী করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালতের রেজিস্ট্রি। আবেদনে নির্বাচন কমিশনকে প্রধান বিবাদী করার পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশিকে বিবাদী করা হয়েছে।

সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হননি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, বিরোধী নেতারা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরতে পারেন। আদালতে আবেদন করা হলে দ্রুত শুনানির আশ্বাসও দেন তিনি।

এরপর সোমবার সন্ধ্যায় রাহুল গান্ধী নিজে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে আবেদনটি জমা দেন। তার সঙ্গে ছিলেন খাড়গে এবং বিরোধী জোটের আরও নয় নেতা। ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম ও নির্বাচন কমিশনের কথিত একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিবাদে বিরোধীদের ঐক্য তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এর আগে বিরোধীরা ‘গণতন্ত্রের জন্য পদযাত্রা’ নামে একটি মিছিল বের করেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে ভগবান দাস রোডে পুলিশের ব্যারিকেডে মিছিলটি আটকে দেওয়া হয়। এসআইআর নিয়ে উত্তেজনা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির মধ্যেই এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আবেদনে কী দাবি করা হয়েছে?

আইনজীবী এস প্রসন্নের মাধ্যমে দায়ের করা আবেদনে জ্ঞানেশ কুমারের এককভাবে নেওয়া কথিত সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে স্বাধীন ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের জুনে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা (এসআইআর) সংশোধন কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্তও রয়েছে।

বিরোধী নেতারা বলেছেন, সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা রক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখার দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই তারা সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

আবেদনকারীরা স্পষ্ট করেছেন, তারা এসআইআরের বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে চাইছেন না। বরং এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সুপ্রিম কোর্ট স্বীকৃত সুরক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং নির্বাচন কমিশন একটি সম্মিলিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়েছে, ১০ মাসে ১৪ বার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সান্ধু ও যোশি।

এ কারণে বিতর্কিত প্রতিটি সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ নথি, আলোচ্যসূচি, বৈঠকের কার্যবিবরণী, নোট এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি-সংক্রান্ত রেকর্ড তলব করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের জুনে এসআইআর শুরুর সিদ্ধান্তও অন্তর্ভুক্ত।

আবেদনে বলা হয়েছে, যদি প্রমাণিত হয় যে নির্বাচন কমিশনের সম্মিলিত ক্ষমতা একজন সদস্য এককভাবে প্রয়োগ করেছেন, তাহলে তা ভারতের সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং ২০২৩ সালের আইনের ১৮ ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলবে। আবেদনকারীদের মতে, বিষয়টি শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নয়; বরং নির্বাচনের অখণ্ডতা রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা আইনসম্মতভাবে প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত।