ফিলিস্তিনি মা-মেয়েকে ঘরে আটকে আগুন দিল ইসরায়েলিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন এলাকায় মা ও মেয়ে ঘরে থাকা অবস্থায় এক ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ভোরে ইয়াত্তা শহরের খিরবেত আল-ফারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
বাড়িটির মালিক আলিয়া আল-নাওয়াজা জানান, মুখোশ পরা পাঁচজন ব্যক্তি ভোরে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তাদের একজন তিনি ও তার মেয়ে যে কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন, সেই কক্ষের জানালা খুলে হুমকি দেন।
এরপর হামলাকারীরা ওই শোবার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আলিয়া দ্রুত তার মেয়েকে ঘুম থেকে তুলে দুজনেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। অল্পের জন্য তারা প্রাণে বেচে যান বলে জানান তিনি।
আলিয়া বলেন, ভোর হওয়ায় আশপাশের বাসিন্দারা তখনও ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সহায়তা না পেয়ে তিনি বাড়িতে না থাকা স্বামীকে ফোন করে বিষয়টি জানান।
এদিকে হেবরনের দক্ষিণ-পশ্চিমে দুরা শহরের পশ্চিমে অবস্থিত মাউন্ট তারুসায় একটি নতুন বসতি ফাঁড়িতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বাড়ি নেওয়া শুরু করেছে বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে ভারী যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ওই এলাকায় নতুন বাড়ি নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব স্থাপনা সেখানে নেওয়া হচ্ছে। এ সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কয়েকটি যানবাহনও ভারী যন্ত্রপাতির সঙ্গে ছিল।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও তাদের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও আহত করা, গ্রেপ্তার, বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে দেওয়া, মসজিদ ও যানবাহনে আগুন দেওয়া, কৃষিজমি ধ্বংস এবং কৃষকদের জমিতে যেতে বাধা দেওয়া। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং তাদের জমিতে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের অভিযোগও রয়েছে।
ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা করছেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পথ তৈরি করা হচ্ছে। এতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হতে পারে বলে তারা সতর্ক করে আসছেন।

