
কৌশলগত তাইজ শহরের পশ্চিমাঞ্চলে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিজয় অর্জন করেছে ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা। টানা নয় দিনের তীব্র লড়াইয়ের পর লোহিত সাগরের উপকূলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর আল-মাখা (মোচা)-সহ বিশাল এলাকার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তারা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিনিধি ইউসেফ মাওরি জানিয়েছেন, তাইজ শহরের পশ্চিমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে টানা দেড় সপ্তাহের লড়াইয়ে অভাবনীয় বিজয় অর্জন করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটি গুরুত্বপূর্ণ শহর আল-মাখা (মোচা) নিজেদের দখলে নিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চল ও আল-মাখা শহরের এই দখল হুতিদের ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ফলে গোষ্ঠীটি কৌশলগতভাবে অতি সংবেদনশীল বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে সরাসরি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে।
ইউসেফ মাওরির মতে, এর চেয়েও বড় বিষয় হলো এই বিজয়ের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থানরত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর প্রধান তিনটি সামরিক সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিতে সক্ষম হয়েছে হুতিরা।
ঘটনাস্থলের তথ্য অনুযায়ী, তাইজের পশ্চিমাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে হুতি বিদ্রোহীদের হাতে চলে গেছে। সরকারি বাহিনী আল-মাখা শহর থেকে তাদের সমস্ত সামরিক ইউনিট পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এখন কেবল হুতিদের পক্ষ থেকে শহরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের দখলে নেওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা।
১৫ শতক থেকে ১৮ শতক পর্যন্ত আল-মাখা ছিল বিশ্বের কফি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চলে উৎপাদিত উচ্চমানের কফি অ্যারাবিকা এই বন্দর দিয়ে সারা বিশ্বে রপ্তানি করা হতো। এই শহরের নাম থেকেই বিশ্ববিখ্যাত ‘মোচা কফি’ নামের উৎপত্তি হয়েছে। তবে ১৯ শতকের পর এডেন ও হোদেইদা বন্দরের উত্থানের ফলে আল-মাখার বাণিজ্যিক গুরুত্ব কিছুটা কমে যায়।
