বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংস্কারে ১০ দফা প্রস্তাব মোদির

বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে ব্রিকসের পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনের আগেই একটি সংস্কার রূপরেখা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ জন্য যৌথভাবে ১০টি প্রস্তাবনা তৈরির কথা বলেছেন তিনি।
শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার প্রস্তাবিত রূপরেখায় প্রতিনিধিত্ব, সংবেদনশীলতা ও নিয়ম-কানুন প্রণয়নকে তিনটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্ব দেন।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আমি প্রস্তাব করছি যে, আমরা যৌথভাবে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে ১০ দফা প্রস্তাবনা তৈরি করি এবং আগামী সম্মেলনের আগেই সেগুলোকে একটি ‘ব্রিকস সংস্কার কর্মপরিকল্পনা’ হিসেবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেই।”
প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা যায় না। পাশাপাশি, খসড়াভিত্তিক আলোচনাকে অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা, স্পষ্ট ও দৃশ্যমান ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
একইভাবে, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে মোদি উল্লেখ করেন যে, ভোটাধিকার, নেতৃত্বের পদ এবং নীতিগত অগ্রাধিকারগুলোকে অবশ্যই বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর কোনো ভূমিকা বা ক্ষমতা নেই।
তিনি বলেন, আজ বৈশ্বিক সংকটের সম্মুখসারিতে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্লোবাল সাউথ রয়েছে একেবারে পেছনের সারিতে। আমাদের এই ‘সুবিধাপ্রাপ্তির পিরামিড’কে ‘অংশীদারিত্বের মঞ্চে’ রূপান্তর করতে হবে, যেখানে প্রতিটি দেশের কণ্ঠস্বর থাকবে, প্রতিটি সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং প্রতিটি প্রচেষ্টার মূলে থাকবে মানবজাতির উন্নয়ন।
ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজক দেশের প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত গ্লোবাল সাউথকে ‘অনুগত’ থেকে ‘নীতি নির্ধারক’-এর ভূমিকায় নিয়ে যাওয়া। ব্রিকসের মাধ্যমে আমরা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর তরুণ কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের দর-কষাকষির দক্ষতা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং আইনি বিষয়ে পারদর্শিতায় সমৃদ্ধ করে তুলতে পারি।”
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর উপস্থিতিতে মোদি এই মন্তব্য করেন।

