logo

পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণ-খুনের মামলার আসামি পুলিশের গুলিতে নিহত

কলকাতা ব্যুরো , পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণ-খুনের মামলার আসামি পুলিশের গুলিতে নিহত
বন্দুক যুদ্ধের আগে পুলিশের সাথে প্রল্লাদ দাস। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের পুলিশি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটল। এবার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ মহকুমার গাইঘাটায় এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোররাতে ঘটা এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্যটিতে নতুন সরকার গঠনের পর গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় পুলিশি এনকাউন্টারের ঘটনা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সকালে গাইঘাটা থানা এলাকার একটি বাড়ির পেছন থেকে ওই নাবালিকার অর্ধনগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার হয়। নিহত ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ ছিল, শনিবার রাতে মেয়েকে নিয়ে তিনি স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে বান্ধবীদের সঙ্গে ঘোরাঘুরির সময় হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায় মেয়েটি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রবিবার সকালে তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়।

পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রল্লাদ দাস নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। পরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রল্লাদ সম্পর্কে নির্যাতিতারই এক আত্মীয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধের কথা স্বীকারও করেছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাতে অভিযুক্ত প্রল্লাদকে অপরাধস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে আচমকাই এক পুলিশ আধিকারিকের সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। এমনকি পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলিও চালায়। এই আকস্মিক হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন এবং রাস্তার পাশের জলাশয়ে লাফিয়ে পড়ে তিনি প্রাণরক্ষা করেন। এরপর আত্মরক্ষার্থে অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পাল্টা চার রাউন্ড গুলি চালালে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রল্লাদ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই এনকাউন্টারের ঘটনায় পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এদিকে নিহত কিশোরীর পরিবারও পুলিশের এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ঘটনার জেরে বৈদ্যবাড়ির ওই নির্দিষ্ট রাস্তাটি ব্যারিকেড করে ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

এর আগে গত জুলাই মাসেও ঠিক একইভাবে বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টার সময় বারুইপুরে এক ধর্ষণকাণ্ডের অভিযুক্তের এনকাউন্টার হয়েছিল। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে একই কায়দায় গাইঘাটায় এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।

বারুইপুরের ওই ঘটনার সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলবে। পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়ে তিনি সেসময় বলেছিলেন, ধর্ষকদের সকালে জমা করব ও বিকেলে খরচ করব। উত্তরপ্রদেশ, অসম, মহারাষ্ট্র ও ওড়িশা পারলে আমরাও পারব।