logo
নেপাল-চীনে বন্যা

নিহত বেড়ে ৯৫৫, টানেলে আটকা ৯ শতাধিক শ্রমিক

সিএনএন
সিএনএন
নিহত বেড়ে ৯৫৫, টানেলে আটকা ৯ শতাধিক শ্রমিক
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ছবি: সিএনএন

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৪৭২ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন টানেলে এখনো ৯ শতাধিক শ্রমিক আটকা বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দলগুলো।

Advertisement

ভয়াবহ এই বন্যা ও ভূমিধসের প্রায় এক সপ্তাহ পরও দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে অস্থায়ী সেতু নির্মাণ এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দুর্গত অঞ্চলজুড়ে ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে এখনও প্রায় ৬০০ মানুষ আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধার অভিযানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র।

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান বালেন্দ্র শাহ ।

নুওয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সেখানে সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, ফলে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণ সহজ হয়েছে। জেলার বেত্রাবতী গ্রামে একটি বাড়ি থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তা বিপিন রেগমি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উদ্ধারকারী দল নতুন নতুন এলাকায় পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করছে।

দুর্যোগের পর নেপালে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন শাহ। তিনি আশা করছেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা আরও বাড়বে।

নেপালের দুই প্রতিবেশী ভারত ও চীনও উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে তারা অস্থায়ী ‘বেইলি ব্রিজ’ নির্মাণেও সহযোগিতা করছে।

বন্যায় নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি—এমন শত শত মরদেহ গণকবরে দাফন করছে কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজ স্বজনদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে পরিচয় শনাক্তের কঠিন দায়িত্ব পালন করছেন উদ্ধারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নেপালে ঘন কাদায় জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলগুলো ঢেকে যাওয়ার পর সেখানে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে জোর অভিযান চলছে। প্রায় ৯০০ শ্রমিক এখনও নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ ও কাদা সরিয়ে টানেলের ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা থেকেই গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়েছে। হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত নেপালের চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে।

নিহত বেড়ে ৯৫৫, টানেলে আটকা ৯ শতাধিক শ্রমিক