জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন/ইসরায়েলে ভয়াবহ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

দখলদার ইসরায়েলে সমন্বিত হামলা প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। বহুমুখী (মাল্টি-ফ্রন্ট) এই সামরিক হামলার যুক্ত করা হবে লেবাননে সশস্ত্র বাহিনী হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের গাজার স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস, ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাকের ইরানপন্থি মিলিশিয়া বাহিনী
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশতি এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে হিব্রু সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তেহরানের এই নতুন কৌশলগত পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দিক থেকে একযোগে সমন্বিত হামলা চালানো, যাতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস অভিযানের সময়কার সমন্বয়হীনতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
গাজা সংঘাতের শুরুতে জব্দ করা হামাসের অভ্যন্তরীণ নথি থেকে জানা যায়, তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার লেবানন, সিরিয়া ও সিনাইসহ অন্যান্য ফ্রন্ট যুক্ত করতে চেয়েছিলেন।
তবে পরবর্তী মার্কিন ও ইসরায়েলি মূল্যায়নে স্পষ্ট হয় যে, তৎকালীন হামলার সঠিক সময় ও বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্পর্কে ইরান ও হিজবুল্লাহ পুরোপুরি অবগত ছিল না। ফলে প্রথম দিকে অন্যান্য অক্ষগুলো পূর্ণ শক্তিতে ময়দানে নামতে ব্যর্থ হয়।
তেহরান এখন সেই কৌশলগত ব্যবধান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুতি ও ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডারদের সঙ্গে সরাসরি কনফারেন্স কল এবং মাঠপর্যায়ে সামরিক উপদেষ্টাদের মাধ্যমে যুদ্ধের সমন্বয় বজায় রাখছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাশাপাশি হামাসের বর্তমান সামগ্রিক নেতা খলিল আল-হায়া ইরানের সঙ্গে চরম কৌশলগত সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন, যা এই সম্মিলিত অক্ষকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই সমন্বিত সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি করছে এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত আদান-প্রদান আরও নিবিড় করছে।

