logo

হারেৎজের প্রতিবেদন/গাজায় নিরাপরাধ মানুষ হত্যার বর্ণনা দিলেন ইসরায়েলি সেনা

হারেৎজ
হারেৎজ
গাজায় নিরাপরাধ মানুষ হত্যার বর্ণনা দিলেন ইসরায়েলি সেনা
ইসরায়েলি সেনা নির (ছদ্মনাম) ও গাজার রাফাহতে নিহত আটজন স্বাস্থ্যকর্মীর মরদেহ। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অংশ নেওয়া এক ড্রোন অপারেটর দাবি করেছেন, যুদ্ধের সময় বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনা, সহকর্মীদের আচরণ এবং নির্বিচার হামলার অভিজ্ঞতা তাকে গভীর মানসিক সংকটে ফেলেছে। একপর্যায়ে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি), আতঙ্কজনিত সমস্যা ও মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগতে শুরু করেন তিনি। পরে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘নির’ ছদ্মনামের ওই রিজার্ভ মেজর জানিয়েছেন, গাজা সীমান্তের একটি সেনাঘাঁটির নিয়ন্ত্রণকক্ষে বসে দীর্ঘদিন তিনি ড্রোনের ক্যামেরায় উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেখানে শিশু, নারী, পরিবার ও সাহায্যের জন্য ছুটে চলা মানুষদের দেখেছেন। অনেক ক্ষেত্রে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে তাকে।

নিরের ভাষ্য, যুদ্ধ যত গড়িয়েছে, ততই সেনাদের মধ্যে মৃত্যুর প্রতি উদাসীনতা তৈরি হয়েছে। নিয়ন্ত্রণকক্ষে অনেক সময় ফুটবল স্টেডিয়ামের গ্যালারির মতো চিৎকার করে হামলা চালানোর জন্য উৎসাহ দেওয়া হতো।

অ্যাম্বুলেন্সে গুলি, পরে বুলডোজারে চাপা

২০২৫ সালের ২৩ মার্চ ভোরে গাজার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাফাহর তাল আল-সুলতান এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা বিশেষভাবে মনে গেঁথে আছে বলে জানান নির।

তিনি বলেন, ড্রোনের ক্যামেরায় তিনি স্পষ্ট চিহ্নিত কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সকে রাস্তায় চলতে দেখেন। এগুলো যে জরুরি চিকিৎসাসেবার গাড়ি, তা দূর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। এরপর গোলানি ব্রিগেডের স্থলসেনারা অ্যাম্বুলেন্সগুলোর দিকে গুলি চালাতে শুরু করেন। প্রথম গাড়িতে গুলি চালানোর পর চিকিৎসাকর্মীরা গাড়ি থেকে নেমে পেছনে আশ্রয় নেন এবং হাত তুলে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেনারা তাদের ওপরও গুলি চালায়।

পরে ক্যাটারপিলার ডি৯ সাঁজোয়া বুলডোজার এনে অ্যাম্বুলেন্সগুলো পিষে ফেলা হয়। নিহতদের মরদেহও মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। ঘটনার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রথমে এটিকে পরিচয় শনাক্ত করার ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিল। পরে সামরিক অপরাধ তদন্ত বিভাগের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর নিরের মনে প্রশ্ন জাগে—কেউ কি গাজায় যাকে খুশি হত্যা করতে পারে এবং এর জন্য কোনো জবাবদিহি করতে হয় না?

নিয়ন্ত্রণরেখা সরিয়ে ‘ফায়ারিং জোন’

যুদ্ধ চলাকালে গাজায় সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নীতিতে বড় ধরনের অবনতি ঘটেছিল বলেও অভিযোগ করেন নির।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা শীর্ষ সামরিক পর্যায়ের অনুমতি ছাড়াই এক ডিভিশন কমান্ডার ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘হলুদ রেখা’ গাজার ভেতরে কয়েক শ মিটার পর্যন্ত সরিয়ে দেন।

ফলে ওই এলাকার ফিলিস্তিনি কৃষকেরা জানতেন না, তাদের নিজেদের জমি কখন ইসরায়েলি বাহিনীর নির্ধারিত ‘ফায়ারিং জোন’ হয়ে গেছে। সেখানে কোনো নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তি ঢুকলে তার বিরুদ্ধে পরে নানা ধরনের অভিযোগ দাঁড় করিয়ে হত্যার যৌক্তিকতা তৈরি করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।

কেউ অস্ত্র নিতে এসেছে, কেউ বিস্ফোরক পুঁততে পারে—এ ধরনের ব্যাখ্যা পরে হাজির করা হতো বলে জানান নির। তার অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে এসব দাবির পেছনে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্য বা প্রমাণ থাকত না।

পর্দায় শিশু এলে কী করব?

২০১৯ সালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের সংঘর্ষের সময় ড্রোনের ক্যামেরায় কোনো শিশু দেখা গেলে কী করতে হবে—এ প্রশ্ন তিনি এক কমান্ডারকে করেছিলেন।

তখন তাকে বলা হয়েছিল, বিষয়টি ‘ধূসর এলাকা’। অর্থাৎ এ বিষয়ে ওপর থেকে কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা নেই। তার কাছে এর অর্থ দাঁড়িয়েছিল, শিশুটিকে হত্যা করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তাকেই নিতে হবে।

তবে সে সময়ের নির্দেশনায় নারী ও শিশুদের ক্ষতি না করার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল বলেও জানান তিনি। পরে তিনি বুঝতে পারেন, বাস্তবে সব পরিস্থিতিতে এই নীতি একইভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।

কয়েক মাস পর কমান্ডারদের কাছে তিনি জানান, আর হামলায় অংশ নিতে চান না। এরপর তাকে মূলত ড্রোনের উড্ডয়ন ও অবতরণসংক্রান্ত কাজে রাখা হয়।

অন্তত ৫৪ জন হত্যার পেছনে ছিলেন

২০০৮ সালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন নির। ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশ নিয়ে অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যুর পেছনে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন বলে জানান তিনি।

তার মতে, প্রযুক্তি একজন যোদ্ধাকে শারীরিক বিপদ থেকে দূরে রাখার জন্য তৈরি। কিন্তু কোনো মানুষকে হত্যা করার ঘটনার মানসিক প্রভাব থেকে তাকে দূরে রাখতে পারে না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।

বছরের পর বছর এসব অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে। একপর্যায়ে তিনি পিটিএসডি, আতঙ্কজনিত সমস্যা ও মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। ঘুমের মধ্যেও তার আচরণে সঙ্গীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

মানসিক চাপ সামলাতে তিনি ও তার কয়েকজন সহকর্মী গাঁজা, এমডিএমএ ও কেটামিনের মতো মাদক গ্রহণ করতেন বলেও জানান।

নিজের মানসিক অবস্থার কথা জানিয়ে হামলায় অংশ না নেওয়ার অনুরোধ করলে তাকে কঠোরভাবে অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করা হয়, যাতে এই মানবিক অনুভূতি অন্যদের মধ্যে ‘সংক্রমিত’ বা ‘বিষ ছড়াতে’ না পারে।

নিজ দেশের বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে একপর্যায়ে নিজেকেই ‘বিশ্বাসঘাতক’ মনে হতে থাকে তার। পরে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন এবং সাবেক সহকর্মী ও বন্ধুদের কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

২০ লাখ লক্ষ্যবস্তু

২০২৬ সালের পুরিম উৎসবের সময় জেরুজালেমের ডেভিড দুর্গে একটি অনুষ্ঠানে গুরুতর মানসিক সংকটে পড়েছিলেন বলে জানান নির। তিনি বন্ধুদের নাম মনে করতে পারছিলেন না। এমনকি দুর্গটিকেও তার কাছে গাজার একটি ভাঙা মসজিদের মতো মনে হচ্ছিল।

এরপর মাদক ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সঙ্গীকে সঙ্গে করে জর্জিয়ায় কয়েক দিনের জন্য যান তিনি। কিন্তু ইসরায়েলে ফেরার পরদিনই তাকে আবার গাজায় দায়িত্ব পালনের জন্য ডাকা হয়।

নাহাল ওজ ঘাঁটিতে পৌঁছে তিনি দায়িত্ব শুরুর আগেই সেনাদের মধ্যে হত্যার আলোচনা শুনতে পান বলে জানান। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের জন্য গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাকে বলা হয়, গাজায় ২০ লাখ লক্ষ্যবস্তু রয়েছে।

নিরের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকেই সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বোঝানো হয়েছিল।

আরও প্রায় দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর সেনাবাহিনী ছাড়েন তিনি। এ সময় সহকর্মীদের সঙ্গে তার বারবার তর্ক হয়েছে এবং আবারও মাদক গ্রহণ শুরু করেছিলেন বলে জানান।

চাকরি ছাড়ার পর মাদক থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন তিনি। কয়েক মাস ধরে সব ধরনের মাদক থেকে দূরে আছেন বলেও দাবি করেন।

পুরোনো হামলার ভিডিও দেখে চমকে ওঠেন

বছরের পর বছর নিজের অভিজ্ঞতা চেপে রাখলেও ধীরে ধীরে উদ্বেগ, অপরাধবোধ ও নিজের প্রতি ঘৃণা বাড়তে থাকে নিরের মধ্যে। ২০২২ সালের শেষ দিকে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর আর্কাইভে গিয়ে নিজের অংশ নেওয়া পুরোনো হামলার ভিডিও দেখতে চান তিনি। ভিডিও দেখে নিজেই চমকে যান।

নির বলেন, হামলার সময় নিজের কণ্ঠ শুনে তার মনে হয়েছিল, তিনি যেন মানুষ শিকার করতে বের হওয়া একজন শিকারি। তাদের ইউনিটে ‘শিকারের অভিযান’ শব্দটিও ব্যবহার করা হতো বলে জানান তিনি।

একটি ভিডিওতে তিনজন ব্যক্তিকে দেখেন, যাদের তিনি এত বছর ধরে সশস্ত্র একটি দলের সদস্য মনে করে এসেছিলেন। কিন্তু ভিডিওটি নতুন করে দেখার পর তার মনে হয়, তারা সশস্ত্র ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ সেখানে ছিল না।

তার ধারণা, নিজের কাজকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি হয়তো বহু বছর ধরে নিজের মধ্যেই একটি গল্প তৈরি করেছিলেন।

২০১৪ সালের আরেকটি ঘটনাও পরে তার মনে ফিরে আসে। সে সময় তথ্য নথিভুক্ত করার ভুলের কারণে গাজায় নিজের বাগানে কাজ করা এক কৃষক নিহত হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

একপর্যায়ে মানসিক আঘাত ও মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য চার মাস একটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে চিকিৎসা নেন নির। তার অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল। এরপর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে নতুন যুদ্ধ শুরু হয়।

৭ অক্টোবর সবকিছু বদলে যায়

৭ অক্টোবর গাজা সীমান্ত থেকে হামলার খবর পাওয়ার পর নিজের মানসিক সমস্যাগুলো সাময়িকভাবে ভুলে গিয়েছিলেন বলে জানান নির। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেল আবিবে বিমানবাহিনীর সদর দপ্তরে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন।

শুরুতে ইসরায়েলি সেনাদের সুরক্ষা, সহায়ক গোলাবর্ষণ, সীমান্তবর্তী এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং যত বেশি সম্ভব বেসামরিক মানুষকে রক্ষা করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।

পরে হামলাকারী দলের কমান্ডার হিসেবে গাজার ভেতরে স্থলবাহিনীর সঙ্গে কাজ করেন তিনি। সেখানে সেনাদের মধ্যে ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ ও শৃঙ্খলার অভাব দেখতে পান বলে দাবি করেন। এর ফলে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনারাও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিলেন বলে জানান তিনি।

একাধিক ভুলবশত হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন নির। একটি ঘটনায় দুই প্যারাট্রুপার নিহত হন। আরেক ঘটনায় সমন্বয়ের অভাবে আট ইসরায়েলি সেনাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে প্রায় গুলি করা হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে ওই হামলা ঠেকানো হয়।

নিরের ভাষায়, শত্রু শুধু হামাস ছিল না; কখনো কখনো চরম মানসিক ক্লান্তিও শত্রু হয়ে উঠেছিল। আর ইসরায়েলি সেনা ভুল করে নিহত হলে সেটিকে দ্রুত ভুল বা ত্রুটি হিসেবে স্বীকার করা হতো। কিন্তু ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনার প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ছিল।

শত্রুর প্রতি সহানুভূতি কি বিশ্বাসঘাতকতা?

নিরের নৈতিক সংকট শুধু নিজের অংশ নেওয়া হামলা নিয়ে অপরাধবোধ থেকে তৈরি হয়নি। তার মনে হয়েছে, সেনাবাহিনীর ওপর অর্পিত দায়িত্বের প্রতিও তিনি হয়তো বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার দায়িত্ব ছিল ইসরায়েলি সেনাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো। কিন্তু গাজার ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর প্রতি তার সহানুভূতি তৈরি হয়।

বিশেষ করে ৭ অক্টোবরের পর একজন ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে এই অনুভূতিকে তিনি নিজের ভেতরের গভীর দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখেন।

নির বলেন, অপরাধবোধ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তিনি নিজেকে ঘৃণা করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে আশঙ্কা করতেন, অন্যরাও তাকে ঘৃণা করবে।

ইউরোপ সফরের সময় অপরিচিত মানুষদের কাছেও নিজেকে হত্যাকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। আইনগত অর্থে নিজেকে হত্যাকারী বলা ঠিক নয় জানলেও, নিজের অনুভূতি তখন এমনই ছিল বলে জানান তিনি।

কয়েক মাস আগে মানসিক আঘাতের স্বীকৃতি চেয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন নির। কিন্তু তখন আরও একা হয়ে পড়েন তিনি। তার স্কোয়াডের সদস্যরা ধীরে ধীরে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুও ফোন ও বার্তার জবাব দেওয়া বন্ধ করে দেন।

তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাই তাকে নিজেদের জীবন থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু পুরোনো স্মৃতি ও অপরাধবোধ তাকে ছাড়েনি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বক্তব্য

হারেৎজের প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, সেনাসদস্যদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সেনাবাহিনীর দায়িত্ব। এটি তাদের যুদ্ধপ্রস্তুতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো সেনাসদস্য মানসিক কষ্টের কথা জানালে কমান্ডার, ইউনিটের চিকিৎসক, মানসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন মুখপাত্র।

সব স্কোয়াড্রনে নিয়মিত আলোচনা ও সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলেও জানান তিনি। ড্রোন অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন।

নিরের পরিচয় গোপন থাকায় প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তার বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়। পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও উল্লেখ করে সেনাবাহিনী।

মানসিক সংকটে থাকা সব সেনাসদস্যকে কমান্ডারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

বিমানবাহিনী ও স্থলবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের অভিযোগের বিষয়ে সেনাবাহিনী বলেছে, গাজায় যুদ্ধের পুরো সময় স্থলবাহিনীর সঙ্গে বিমানবাহিনী পূর্ণ সমন্বয় করেই কাজ করেছে।