logo

বিরোধিতার মধ্যেই ইংরেজিকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দিল নিউজিল্যান্ড

বিরোধিতার মধ্যেই ইংরেজিকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দিল নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

ওশেনিয়া অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ডের দৈনন্দিন জীবনের সব ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত ভাষা হলেও এতদিন আইনিভিত্তিতে ‘সরকারি ভাষা’র মর্যাদা ছিল না ইংরেজির। অবশেষে বহুল বিতর্কিত একটি বিল পাসের মাধ্যমে সেই মর্যাদা পেল ইংরেজি।

তবে গত ৩০ জুলাই নেওয়া এই পদক্ষেপটি দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

দেশটির পার্লামেন্টে পাস হওয়া ‘ইংরেজি ভাষা বিল’-এ স্পষ্ট করা হয়েছে, আদিবাসী মাওরি ও নিউজিল্যান্ড সাংকেতিক ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিকে সরকারি ভাষা হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হলো। তবে এ কারণে প্রশাসনিক সংস্থা বা আদালতের বিদ্যমান ভাষা-ব্যবহারসংক্রান্ত আইন, নীতি কিংবা কার্যপ্রক্রিয়ায় কোনো নতুন বাধ্যবাধকতা বা অতিরিক্ত আইনি দায়িত্ব সৃষ্টি হবে না।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ (প্রায় ৪৮ লাখ) দৈনন্দিন জীবনের প্রধান ভাষা হিসেবে ইংরেজি ব্যবহার করেন। সেখানে মাত্র ৪.৩ শতাংশ মানুষ আদিবাসী মাওরি ভাষায় এবং ০.৫ শতাংশ মানুষ সাংকেতিক ভাষায় কথা বলেন।

আইনটি নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরোধী দলগুলো ও মানবাধিকারকর্মীরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সরকারের অংশীদার ও চরম ডানপন্থি ‘নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি’র উদ্যোগে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্তভাবে পাস হয়।

তীব্র সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও বিরোধী লেবার পার্টি বিলটিতে শেষ পর্যন্ত ভোট দিয়ে পাস হতে দিয়েছে। তবে বিতর্ক চলাকালে লেবার পার্টির এমপি ক্যামিলা বেলিচ ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘এই সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, সামনে হয়তো তারা স্বাভাবিক ঋতু পরিবর্তনের জন্যও সংসদে নতুন আইন প্রণয়ন করতে চাইবে!’

সংসদে বিলটির তীব্র বিরোধিতা করে বামপন্থি গ্রিন পার্টির আইনপ্রণেতা তামাথা পল একে ‘সম্পূর্ণ বোকামি ও সময়ের অপচয়’ বলে অভিহিত করেন।

পলের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আদিবাসী মাওরি ভাষার গুরুত্ব ও উত্থান দেখে এই রক্ষণশীল সরকার ভয়ে কাঁপছে। এমনকি যে ইংল্যান্ড থেকে এই ভাষার উৎপত্তি, সেখানেও আইন করে ইংরেজিকে সরকারি ভাষা বানানোর প্রয়োজন পড়েনি। কারণ তারা জানে এটা একটা চরম বোকামি।’

এদিকে গত জুনে সংসদীয় বিচার কমিটি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, নতুন এই বিলটির পক্ষে-বিপক্ষে ১ হাজার ৬০১টি মতামত জমা পড়েছিল। এর দুই-তৃতীয়াংশই বিলটি বাতিলের দাবি জানায়। বিরোধীদের মূল বক্তব্য ছিল, নিউজিল্যান্ডের প্রায় সব মানুষ যেখানে এমনিতেই ইংরেজিতে কথা বলেন, সেখানে আইনিভাবে পুনর্নিধারণ করা ‘অর্থ ও ক্ষমতার অপচয়’।

১৮৪০ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ হওয়ার আগে পুরো নিউজিল্যান্ডজুড়ে প্রধান ভাষা ছিল আদিবাসী মাওরিদের ‘তে রেও মাওরি’। পরবর্তীকালে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে শিক্ষাব্যবস্থায় মাওরি ভাষা নিষিদ্ধ করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশকের আন্দোলনের পর ১৯৮০-এর দশকে তে রেও মাওরি ভাষাকে নিউজিল্যান্ডের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়।

তবে সব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ সদস্য কেসি কস্টেলো এই বিল সমর্থন করে বলেন, ‘বিলটির উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট; নিউজিল্যান্ডের মানুষ যা দীর্ঘদিন ধরে চর্চা করে আসছে, কেবল তাকেই প্রাতিষ্ঠানিক আইনি রূপ দেওয়া। এটি কোনো রাজনৈতিক মনোযোগ সরানোর বিষয় নয়, বরং বাস্তবতারই এক আনুষ্ঠানিক প্রতিফলন।’