ভারতের মণিপুরে থামছে না সহিংসতা, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে মরদেহ রেখে বিক্ষোভ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে চলা জাতিগত সংঘাতের অবসানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত এক মাসে রাজ্যটিতে সহিংসতায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ সোমবার ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র হামলায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা নিহতদের মরদেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন।
গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান সংঘাতে মণিপুরে প্রায় ২৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যকার সংঘাতসহ বিভিন্ন সহিংসতায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গত এক মাসেই প্রাণহানির সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইউ খেমচাঁদ সিং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এরপরও বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
গত ৯ ও ১০ তারিখে কামজং, কাংপোকপি ও উরখুল জেলায় সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হন। এরপর গত শনিবার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কামজং জেলার চাসাদ এলাকায় গুলিতে কুকি সম্প্রদায়ের একজন নিহত এবং চারজন আহত হন। এ ঘটনার পর জেলার বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ২৮টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
রোববার রাতে থৌবাল জেলার খাঙ্গাবক গ্রামে একটি কনসার্ট চলাকালে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের গুলিতে লাইশরাম রাকেশ নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন। সংঘর্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহনেও আগুন দেওয়া হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় থৌবাল জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি কারফিউ জারি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার সকালে ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী নংশুম ও খোংবাল থাংখুল জঙ্গলে কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে সশস্ত্র হামলার শিকার হন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। এ ঘটনায় দুজন নিহত এবং তিনজন আহত হন।
হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা সহিংসতা বন্ধ এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের জাতিগত বিরোধ, ধারাবাহিক প্রাণহানি ও নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষের কারণে মণিপুরের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হলেও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাজ্যটির সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
