যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা, চীনের আকাশে উড়বে ইরানি বিমান

বরাবরের মতো এবারও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের নীতি প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে চীন। দেশটি আধিপত্যবাদী মানসিকতা থেকে সম্প্রতি ইরানের ২৭টি বেসামরিক বিমান সংস্থার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে সরাসরি উপেক্ষা করেছে। নিজেদের আকাশে ইরানি বিমানের অবাধ চলাচলের স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায্য, একতরফা এবং আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত বলেও আখ্যা দিয়েছে বেইজিং।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেইজিংয়ের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। ওই পোস্টে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুনের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের একটি ভিডিও সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে গুও জিয়াকুন জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া চাপিয়ে দেওয়া যে কোনো অবৈধ, একতরফা নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিক বিরোধিতা করে আসছে চীন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, চীনের আকাশসীমায় ইরানি এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী ও বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলোর স্বাভাবিক এবং অবাধ চলাচল যথারীতি অব্যাহত থাকবে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কৌশলগত এই শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগমুহূর্তে ইরান ইস্যুতে নিজেদের এই অনমনীয় অবস্থানের কথা পরিষ্কার করল বেইজিং। তেহরানের প্রধান কূটনৈতিক মিত্র ও বৃহত্তম অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে ওয়াশিংটনের একতরফা চাপের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, বিমান পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ওপর ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরানের সব আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাই অচল হয়ে পড়বে। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ কার্যকরে চীনা কর্মকর্তারাও খুব সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন।
চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট আরও বলেন, ইরানি বিমান সংস্থাগুলো বিশ্বের কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাদের কোনো প্রকার জ্বালানি সরবরাহ, অবতরণ পরিষেবা প্রদান কিংবা টিকিট বিক্রি করা যাবে না; আর এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে বৈশ্বিক ডলার লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন বা বাদ দেওয়া হবে। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই হুমকিকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে নিজেদের নীতিতেই অটল রইল চীন।
China has declared that Iranian airline flights to China will keep operating, while expressing its opposition to the unfair US sanctions imposed on Iran. pic.twitter.com/DxasTwq5BE
— IRNA News Agency ☫ (@IrnaEnglish) September 23, 2026
