logo

নামের বানান ভুল, আদভানি ও জয়শংকরকে নির্বাচন কমিশনের চিঠি

নামের বানান ভুল, আদভানি ও জয়শংকরকে নির্বাচন কমিশনের চিঠি
ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

ভারতজুড়ে চলছে দেশটির নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া। নামের বানানসহ ভোটার তালিকায় নানা ধরণের সংশোধনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবার নোটিস পেয়েছেন বিজেপির নেতা ও প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর।

সূত্রের খবর, এসআইআর সংক্রান্ত নোটিসপ্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধু, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি।

নির্বাচনী নথিতে নামের বানানে গরমিল, পূর্ববর্তী এসআইআর-এর নথির সঙ্গে বর্তমান তথ্যের ‘ম্যাপিং’ না থাকা কিংবা নথিতে কোনও ধরনের ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ ধরা পড়লেই সংশ্লিষ্ট ভোটারকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ, এই নোটিসের মূল উদ্দেশ্য তথ্যের অসঙ্গতি যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা বা নথি সংগ্রহ করা।

নথিতে নামের বানান সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণেই এস এস সান্ধুকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী এসআইআর-এর তথ্যের সঙ্গে বর্তমান তথ্যের সামঞ্জস্য না থাকায়ও নোটিস জারি করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের পুরনো নির্বাচনী তথ্যের সঙ্গে বর্তমান তথ্যের ‘ম্যাপিং’ না থাকার কারণেও নোটিস যাচ্ছে বিভিন্ন জনের কাছে।

পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের নাম-প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

এসআইআর ঘিরে এর আগে দিল্লির একাধিক হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বের কাছেও একই ধরনের নোটিস পৌঁছেছিল। তালিকায় ছিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় ও তাঁর স্ত্রী এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মদন লোকুর।

বিশেষ করে রেখা গুপ্তাকে নোটিস পাঠানোর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। পরিস্থিতি স্পষ্ট করে নির্বাচন কমিশন জানায়, তথ্যের গরমিলের কারণেই তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে; তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। পরে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও তাঁর বাড়িতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করেন।

অন্যদিকে, কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, পূর্ববর্তী এসআইআর-এর সঙ্গে পরিবারের কোনও সদস্যের নাম ‘ম্যাপ’ না থাকার কারণেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ক্ষেত্রে তথ্যের অসঙ্গতি তৈরি হয়েছিল এবং সেই সূত্রেই তাঁর নাম নিয়ে আপত্তি ওঠে।

এ বার আদভানি ও জয়শংকর-সহ আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছে নোটিস পৌঁছনোর ফলে এসআইআর-এর তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে কমিশনের নোটিস পাওয়া মানেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে যাওয়া নয়, তথ্যের অসঙ্গতি যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।