ভারতীয় বিমানের ওপর আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল পাকিস্তান

ভারতীয় উড়োজাহাজের পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে পাকিস্তান। শনিবার পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জারি করা নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটাম)-এ এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পিএএ-এর এক মুখপাত্র জানান, নতুন নোটাম অনুযায়ী, আগামী ২৪ নভেম্বর ভোর ৫টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল প্রথমবারের মতো ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান। সর্বশেষ এই মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা আকাশপথের বিধিনিষেধ বহাল থাকছে।
কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করলে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছিল ভারত। তবে ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানায়। হামলার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনাও বাড়তে থাকে।
পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পাকিস্তানি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় ভারত।
এরপর ৬ ও ৭ মে পাকিস্তানের কয়েকটি শহরে হামলা চালায় ভারত। জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ পরিচালনা করে ভারতের একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানায়।
ওই সংঘাতের সময় পাকিস্তানের দাবি, তারা ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমান ছিল। এ ছাড়া কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করে দেশটি। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা ধরে চলা সংঘাতের পর ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের বিমান পরিবহন খাত বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের বিমান পরিবহন খাতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় উড়োজাহাজের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করেছিল পাকিস্তান। ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ওই সময়গুলোতেও পাকিস্তানের তুলনায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো বেশি পরিচালনাগত সমস্যার মুখে পড়ে।
