logo

বিশ্বকে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো নিয়ে সতর্ক করল জাতিসংঘ

বিবিসি
বিশ্বকে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো নিয়ে সতর্ক করল জাতিসংঘ
এল নিনোর কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা এল সালভাদরের মেতাপানে খরায় গুইজা হ্রদের পানির শুকিয়ে গেছে। ছবি: ব্লুমবার্গ

প্রশান্ত মহাসাগরে স্মরণকালের অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিচ্ছে ‘এল নিনো’। বিগত ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও শক্তিশালী ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউিএমও)।

Advertisement

এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সমগ্র বিশ্বকে ‘চরম আবহাওয়ার আশঙ্কাজনক অঞ্চলে’ প্রবেশের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

ডব্লিউএমও-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব অন্তত ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সংস্থাটির মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো সতর্ক করে জানিয়েছে, এই বৈশ্বিক সংকট আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জনজীবনে ব ড় ধরনের আঘাত হানবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘চোখের সামনে এল নিনো অস্বাভাবিক রূপ নিচ্ছে। বিজ্ঞান এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ রাখছে না যে, পৃথিবী এক অভূতপূর্ব জলবায়ু সংকটে প্রবেশ করেছে।’

সাধারণত ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে বায়ুপ্রবাহের ধরন বদলে গিয়ে এল নিনোর সৃষ্টি হয়।

পরিমাপক অনুযায়ী, সম্প্রতি সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামীতে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এমনটা ঘটলে তা ১৯৫০ সালের পর বা গত ৭০ বছরে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে রেকর্ড গড়ে তুলবে।

এর প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য আমেরিকা ও উত্তর দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র খরা ও দাবানল দেখা দিতে পারে। এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি বনাঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের (ক্লাউড সিডিং) সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জুলাই ও আগস্টে একাধিক শক্তিশালী টাইফুনের মুখোমুখি হওয়া চীনে এ বছর নতুন করে মোট সাতটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার শঙ্কা রয়েছে।

এর বাইরে দক্ষিণ আমেরিকার পেরু, ইকুয়েডর ও ব্রাজিলে অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে লাখ লাখ মানুষ রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশেষ চিকিৎসা জাহাজ ‘ইউএসএনএস কমফোর্ট’ পেরু উপকূলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্বকে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো নিয়ে সতর্ক করল জাতিসংঘ - Asia Post