ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লিতে নতুন সংকট, হোটেল ভাড়া লাখ রুপি ছাড়াল

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে কক্ষের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। সম্মেলনের সময় বেশ কয়েকটি নামী হোটেলে কোনো কক্ষ খালি নেই। যেসব হোটেলে কক্ষ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর ভাড়াও বেড়ে এক লাখ রুপি ছাড়িয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের জন্য বিভিন্ন হোটেল বুকিং প্ল্যাটফর্ম যাচাই করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
নয়াদিল্লির তাজমহল ও তাজ প্যালেস হোটেলে ওই সময়ের জন্য কোনো কক্ষ পাওয়া যাচ্ছে না। দ্য ওবেরয়, নয়াদিল্লিও সম্মেলনকালীন কিছু দিনের জন্য পুরোপুরি বুকড। অন্যদিকে দ্য লীলা প্যালেস নয়াদিল্লি ওই নির্দিষ্ট তারিখগুলোতে কোনো বুকিং নিচ্ছে না।
তবে আইটিসি মৌর্য ও শাংরি-লা ইরোস নয়াদিল্লির মতো কয়েকটি হোটেলে কক্ষ পাওয়া গেলেও সেগুলোর ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেশি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাতপ্রতি ভাড়া এক লাখ রুপিরও বেশি।
দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই রাজধানীতে মানুষের আনাগোনা বাড়বে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা আগেভাগে দিল্লিতে পৌঁছানো এবং সম্মেলন শেষে অবস্থান বাড়ানোর কারণে হোটেলগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
এর ফলে আগে থেকে দিল্লি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটক, ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলোকে বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হতে পারে। তাদের হয় বেশি ভাড়া দিয়ে নামী হোটেলে থাকতে হবে, নয়তো কেন্দ্রীয় দিল্লির বাইরে অপেক্ষাকৃত দূরের হোটেল বেছে নিতে হবে। অনেকে ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন কিংবা কম খরচের আবাসনও বেছে নিতে পারেন।
হোটেল খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, সেপ্টেম্বর মাসে তাদের হোটেলগুলোতে কক্ষের গড় ভাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি বাড়ার পথে রয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে চাহিদা আরও বেড়েছে।
র্যাডিসন হোটেল গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা নিখিল শর্মা পিটিআইকে বলেন, সম্মেলনের আশপাশের দিনগুলোতে চাহিদা বিশেষভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে শেষ মুহূর্তে বুকিং দেওয়ার প্রবণতাও হোটেল ভাড়া বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
তার ধারণা, সম্মেলন যত এগিয়ে আসবে, ততই শেষ মুহূর্তের বুকিং বাড়তে পারে। ফলে কক্ষের চাহিদা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বড় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠান সাধারণত বিলাসবহুল হোটেল এবং সম্মেলন, সভা ও প্রদর্শনীভিত্তিক পর্যটন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব অনুষ্ঠানে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক অতিথির আগমন ঘটে, ফলে রুম, সভাকক্ষ ও অন্যান্য আতিথেয়তা সেবার চাহিদা একসঙ্গে বেড়ে যায়।
দিল্লির ক্ষেত্রে ব্রিকস সম্মেলনও হোটেল ব্যবসায় বড় ধরনের চাহিদা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে সীমিত সংখ্যক বিলাসবহুল হোটেল থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
তবে বর্তমানে দেখা ভাড়াকে সম্মেলনকালীন নির্দিষ্ট বা স্থায়ী বাজারদর হিসেবে বিবেচনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বুকিং, বাতিল এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের নতুন কক্ষ ছাড়ার ওপর ভিত্তি করে ভাড়া ও কক্ষের প্রাপ্যতা দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হোটেলগুলোর কাছে কক্ষের ভাড়া ও প্রাপ্যতা নিয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

