logo

ইরানের কয়েকটি এলাকায় দফায় দফায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ

ইরানের কয়েকটি এলাকায় দফায় দফায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ
বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের কাছে ধোয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। ছবি: আনাদোলু

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের পূর্বাঞ্চলে দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

Advertisement

হরমুজ প্রণালি ও গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের আশপাশের একাধিক এলাকায় এসব ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, কেশম দ্বীপের মাসান গ্রামের কাছে অন্তত পাঁচটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির দিক থেকেও কেশম দ্বীপ অভিমুখে আরও অন্তত চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্দর আব্বাস যে অঞ্চলে অবস্থিত, সেই হরমোজগান প্রদেশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা বা প্রাণহানির তথ্য মেলেনি।

বিস্ফোরণের মূল কারণ অনুসন্ধানে তৎপর রয়েছে স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সামরিক দিক থেকে সংবেদনশীল এই উপকূলীয় অঞ্চলে ঠিক কী কারণে এসব বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে বিস্তৃত তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বালুচেস্তান প্রদেশের কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন দুই এলাকা চাবাহার ও কোনারাকে আঘাত হেনেছে অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র। এই হামলায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা আইআরএনএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিস্তান ও বালুচেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী বিষয়ক উপ-গভর্নর জেনারেল আলী খলিলআবাদী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেনারেল খলিলআবাদী জানান, কোনারাক ও বন্দরনগরী চাবাহার কাউন্টিতে সর্বমোট চারটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হেনেছে। উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের দিক থেকে অতি সংবেদনশীল এই দুই এলাকায় মার্কিন অভিযানের অংশ হিসেবেই এই হামলা পরিচালিত হয়।

হামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিশদ বিবরণ, ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য পরিমাণ এবং আনুষঙ্গিক তথ্যাদি উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে বিস্তৃত অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তদন্ত শেষে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের কয়েকটি এলাকায় দফায় দফায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ