বদলে যাচ্ছে পৃথিবীর মানচিত্র, জাতিসংঘের অনুমোদন

প্রায় ৫০০ বছর ধরে ব্যবহৃত পুরোনো ‘মারকেটর’ প্রজেকশনের বিশ্ব মানচিত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। মূলত নির্ভুল ভৌগোলিক অবস্থান ও দেশগুলোর প্রকৃত আয়তন তুলে ধরতে বাদ দেওয়া হচ্ছে ষোড়শ শতকের এই বিশ্ব মানচিত্র।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এক ঐতিহাসিক ভোটাভুটি হয়। বিপুল ভোটের ব্যবধানে পাস হয় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। তবে একমাত্র দেশ হিসেবে ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) পক্ষে টোগো এই কূটনৈতিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দেয়। আফ্রিকাকে মানচিত্রে ছোট ও প্রান্তিক হিসেবে উপস্থাপনের উপনিবেশিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ‘করেক্টিং দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়।
এতে বলা হয়, ১৫৬৯ সালে প্রবর্তিত ‘মারকেটর’ প্রজেকশন বিশ্ব মানচিত্রে মেরু অঞ্চলের নিকটবর্তী ভূখণ্ডগুলোকে কৃত্রিমভাবে বড় দেখিয়ে বৈষম্য তৈরি করা হতো। এতে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার সমান আকারের দেখানো হয়। অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।
জাতিসংঘের নতুন প্রস্তাবে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহারের আহ্বান জানায় এইউর প্রতিনিধিত্ব করা টোগো। টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসি ভোটের আগে বলেন, ‘ন্যায্য ও সমতার বিশ্বের সূচনা হওয়া উচিত একটি ন্যায্য মানচিত্র দিয়ে।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি ১৬৪-১ ভোটের বিপুল ব্যবধানে পাস হয়। তবে মাত্র ছয়টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। প্রস্তাবটির বিপক্ষে একমাত্র দেশ হিসেবে ভোট দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটনের মতে, এই পদক্ষেপ একটি ‘মতাদর্শগত এজেন্ডা’ এবং এটি আন্তর্জাতিক শান্তি বা সমৃদ্ধির প্রকৃত সংকট থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে।
তবে টোগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, নতুন সিদ্ধান্তটি আইনত বাধ্যতামূলক নয় এবং নৌ বা আকাশপথের সুরক্ষাজনিত যোগাযোগের ক্ষেত্রে মারকেটর মানচিত্র ব্যবহারে এটি কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।
প্রস্তাব পাসের পর টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ নিজেদের দেশের সমস্ত বিদ্যালয়ের ভূগোল পাঠ্যপুস্তকের মানচিত্র বদলে ফেলবে তারা। অন্যান্য দেশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে (জিপিএস ও ডিজিটাল ম্যাপিং) এই নতুন মানচিত্র গ্রহণের আহ্বান জানাবে এইউ।

