logo

মক্কা জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আহ্বান পাকিস্তান জামায়াত আমিরের

এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
মক্কা জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আহ্বান পাকিস্তান জামায়াত আমিরের
জামায়াত-ই-ইসলামী পাকিস্তানের আমির হাফিজ নাঈম গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখছেন। ছবি: আজ ইংলিশ

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ, ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈম। একই সঙ্গে জোটটির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন হাফিজ নাঈম। সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সমাবেশে হাফিজ নাঈম বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরান, বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশকে যুক্ত করা উচিত। তাঁর মতে, জোটটির লক্ষ্য যদি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, তাহলে ফিলিস্তিনকে এর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত ফিলিস্তিনিদের, বিশেষ করে গাজার মানুষের ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা।

গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তিটি ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ নামেও পরিচিত। হাফিজ নাঈম এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এতে আরও মুসলিম দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের আহ্বান

হাফিজ নাঈমের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির শর্তগুলোও ইসরায়েল পুরোপুরি মানেনি। তাঁর অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও রয়েছে।

ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সমর্থন জানাতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রদায়িক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিভেদ দূর করে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থে শিয়া-সুন্নি বিভাজনও পাশে রাখার কথা বলেন পাকিস্তান জামায়াতের এই নেতা।

তিনি জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ গাজা ও ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের সপ্তাহ হিসেবে পালন করবে জামায়াতে ইসলামী।

ইসরায়েলি হামলা নিয়ে অভিযোগ

হাফিজ নাঈম বলেন, গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়েছে। পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের, এমনকি শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দেশটির নীতির বিভিন্ন দিক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হামাসের কর্মকাণ্ডকে ‘বৈধ প্রতিরোধ’ হিসেবে উল্লেখ করে নাঈম বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনাতেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে আল-আকসা মসজিদের স্বাধীনতার জন্য আরও জোরালো প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য, ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ দেখিয়েছে যে দৃঢ় সংকল্প ও সাহস থাকলে প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী বাহিনীকেও চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব। গাজায় আরও প্রাণহানি ঠেকাতে মুসলিম সরকার ও সেনাবাহিনীগুলোর দায়িত্ব রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ফিলিস্তিনিদের জন্য ১ হাজার কোটি রুপি সহায়তার দাবি

হাফিজ নাঈম বলেন, গাজার পরিস্থিতি ইসলামী আন্দোলনগুলোর মধ্যে আরও ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চললেও ফিলিস্তিনিরা হামাসের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের সহায়তায় পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দাতব্য সংস্থা আলখিদমত ফিলিস্তিনিদের জন্য ১ হাজার কোটি পাকিস্তানি রুপির ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে।

এ ছাড়া পেট্রোলিয়াম লেভি, কর ও মূল্যস্ফীতিবিরোধী চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৭ অক্টোবরের পর দলের পরবর্তী কর্মসূচি ও কৌশল ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।