ইরানে ‘কঠোর’ হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রায় এক মাসের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর সোমবার এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টকে ট্রাম্প বলেন, জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলার জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব।
এর আগে রোববার হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে দুটি ইরানি রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক মাসের বিরতির পর আবারও সামরিক অভিযান শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যদের রকেট ও সমুদ্র-মাইন নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল।
এর আগে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক নৌপথ থেকে সমুদ্র-মাইন অপসারণের কাজ শেষ করেছিল মার্কিন বাহিনী। হকিন্স বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তা সুরক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।
মার্কিন হামলার পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, লারাক দ্বীপে হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং হামলাকারীদের শাস্তি দেওয়া হবে।
সোমবার ভোরে আইআরজিসি আরও জানায়, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে— প্রতিটি হামলার জবাব আরও ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হবে।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার ভোরে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে।
তবে আইআরজিসির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে সেন্টকম। এক বিবৃতিতে তারা রোববারের হামলাকে হরমুজ প্রণালির জন্য আসন্ন হুমকি তৈরি করা আইআরজিসির মাইন স্থাপনকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সীমিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে।

