logo

বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাতিলের মেয়াদ বাড়াল কাতার

দোহা নিউজ
দোহা নিউজ
ইউরো নিউজ
ইউরো নিউজ
তুর্কি টুডে
বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাতিলের মেয়াদ বাড়াল কাতার
২০২৪ সালের ২৮ মে নেদারল্যান্ডসের রটারডাম বন্দরে একটি এলএনজি ট্যাংকার ও কাতারএনার্জির লোগো। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিবার্য পরিস্থিতির (ফোর্স মেজার) মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে কাতারএনার্জি। প্রতিষ্ঠানটি এশীয় ও ইউরোপীয় ক্রেতাদের জানিয়ে দিয়েছে যে, এলএনজি সরবরাহ আগামী অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল হতে পারে। এলএনজি সরবরাহ বাতিলের এই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।

Advertisement

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা ব্লুমবার্গ-কে জানিয়েছেন যে, কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিটি এই সপ্তাহে পাকিস্তানি ক্রেতাদের জানিয়েছে যে, অক্টোবর মাসজুড়ে এলএনজি সরবরাহ স্থগিত থাকবে। এছাড়া বাংলাদেশে সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ বাতিল রাখার মেয়াদও সেপ্টেম্বরের শেষ সময়সীমা ছাড়িয়ে বাড়ানো হয়েছে।

কাতারএনার্জির গ্রাহকদের অন্যতম ইতালীয় জ্বালানি কোম্পানি ‘এডিসন’ জানিয়েছে, কাতারএনার্জি আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুর মধ্যে নির্ধারিত আরও পাঁচটি এলএনজি কার্গো পাঠাতে পারবে না বলে নোটিশ দিয়েছে। ফলে গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত এডিসনের মোট ২৯টি নির্ধারিত কার্গো বাতিল হলো। এসব জাহাজে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ঘনমিটার এলএনজি পরিবহন করা সম্ভব।

পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে যে, ইউরোপের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একই নোটিশ পেতে শুরু করেছে। একইভাবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে; সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরের বেশ কিছু নির্ধারিত শিপমেন্ট স্থগিত থাকবে বলে ঢাকা ও ইসলামাবাদকে অবহিত করা হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মতে, কাতার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি সরবরাহকারী দেশ। ২০২৫ সাল নাগাদ ১১২ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি রপ্তানি করে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছিল। কাতারের এলএনজি রপ্তানির প্রায় ৯৩ শতাংশ হরমুজ প্রণালি পরিবাহিত হয়। দেশটির বিদ্যমান তরলীকরণ কেন্দ্রগুলো থেকে বৈশ্বিক বাজারে পণ্য সরবরাহের জন্য কোনো বিকল্প সামুদ্রিক পথ নেই।

রয়টার্সের তথ্য অনুসারে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো পাঠাতে পেরেছে। অথচ এক বছর আগে একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি। ফলে কাতারের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

দেশটির জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার পর কাতারএনার্জি গত ২ মার্চ সর্বপ্রথম এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। পরে ৪ মার্চ উৎপাদন বন্ধের কারণ দেখিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি ক্রেতাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটি।

কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও সিইও সাদ আল-কাআবি সেসময় জানান, তাদের রাস লাফান উৎপাদন কেন্দ্রে ইরানের অব্যাহত হামলার কারণে বছরে ১ কোটি ২৮ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, যা কাতারের এলএনজি রপ্তানির প্রায় ১৭ শতাংশ। ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলো মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে । ফলে বার্ষিক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হবে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যান-সোফি কোরবো জানান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাতারএনার্জি প্রতি মাসে বাধ্য হয়ে এই ‘ফোর্স মেজারের’ মেয়াদ বাড়িয়ে চলেছে।

তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অচলাবস্থার পর ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতারা বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়া অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ করে এই ঘাটতি আংশিক পূরণের চেষ্টা করলেও তা বিশ্ববাজারের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো নমনীয় অর্থনীতির দেশগুলো এই ঘাটতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে, কারণ স্পট মার্কেটে চড়া দামে নতুন কার্গো কেনা তাদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ হলে রাস লাফানে অক্ষত থাকা ১২টি উৎপাদন ইউনিট থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনরায় গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে। তবে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্য দুটি ইউনিট সচল করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার যেখানে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ স্থিতিশীল হওয়ার আশা করা হচ্ছিল, তা এখন ২০২৮ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাতিলের মেয়াদ বাড়াল কাতার