আলজাজিরার এক্সপ্লেইনার/লেবানন, হরমুজ ও ইউরেনিয়াম নিয়ে ট্রাম্প-ইরান চুক্তিতে আসলে কী আছে?

সারা শামীম
লেবানন, হরমুজ ও ইউরেনিয়াম নিয়ে ট্রাম্প-ইরান চুক্তিতে আসলে কী আছে?
যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে সই করা সমঝোতা স্মারক দেখাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে গত বুধবার হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কোনো পক্ষই এখনো চুক্তির কোনো অনুলিপি প্রকাশ করেনি। তবে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ফোনালাপে মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা চুক্তির বিষয়বস্তু পড়ে শুনিয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই ভাষ্য নিশ্চিত করেননি।

Advertisement

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে চুক্তিটি নিয়ে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট তথ্য। শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বুধবার ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে এতে সই করেন ট্রাম্প। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার প্রধান বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে এই ১৪ দফার চুক্তিতে কী বলা হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো।

সমঝোতা স্মারকে লেবানন সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

সমঝোতা স্মারকের প্রথম দফায় বলা হয়েছে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ‘অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে’ একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাশাপাশি লেবাননের ‘আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে চুক্তিতে ইসরায়েলের কোনো উল্লেখ নেই। বর্তমানে দেশটির এক-পঞ্চমাংশ এলাকা ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। গত মার্চের শুরু থেকে লেবাননে প্রায় প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এসব হামলায় অন্তত ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

এই চুক্তিটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়ায় ইসরায়েল কিংবা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এতে সই করেনি। তাই লেবাননে যুদ্ধবিরতি কীভাবে কার্যকর হবে তা স্পষ্ট নয়। হিজবুল্লাহকে ইরানের অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে কি না, সে বিষয়েও কিছু বলা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রক্সি গ্রুপগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থনের বিষয়টি চুক্তিতে সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

ইসরায়েল এ সপ্তাহে বেশ কয়েকবার জানিয়েছে যে, তারা লেবানন থেকে সরে আসবে না। গত সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও আমি একটি পরিষ্কার নীতি অনুসরণ করছি। এর আওতায় আমাদের সামরিক বাহিনী লেবানন, সিরিয়া এবং গাজার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে। মূলত সীমান্ত রক্ষা এবং সেখান থেকে ইসরায়েলি জনপদগুলোকে জিহাদি উপাদানগুলোর হাত থেকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আলোচনার ক্ষেত্রে লেবানন ইস্যুটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ হওয়া যেকোনো বৃহত্তর শান্তি চুক্তির অন্যতম পূর্বশর্ত।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম গত এপ্রিলে পাকিস্তানে সরাসরি আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেই আলোচনার আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তেহরানের জন্য লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি এবং বিদেশে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। ইরান তাদের এই অবস্থান থেকে এখনো এক চুলও নড়েনি।

গত ১৬ এপ্রিল ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে একটি স্থায়ী নিরাপত্তা ও শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে ইসরায়েল এবং লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ছয় সপ্তাহের লড়াইয়ের পর এই ঘোষণা এসেছিল। তবে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও এ সপ্তাহেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত ছিল। এমনকি ওয়াশিংটন ও তেহরান চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর ইঙ্গিত দেওয়ার পরও হামলা থামেনি।

ইরানে সরকার পরিবর্তন নিয়ে চুক্তিতে কী আছে?

সমঝোতা স্মারকের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করবে এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে’।

এটি দেখে মনে হচ্ছে যে ট্রাস্প প্রশাসন ইরানে জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তনের (রেজিম চেঞ্জ) আশা ত্যাগ করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প এই লক্ষ্য থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। অনেকে একে তার মান বাঁচানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

ফ্রান্সে এ সপ্তাহের জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘সরকার পরিবর্তন নিয়ে কোনোকালেই মাথা ঘামাননি’। তবে তিনি আবারও দাবি করেন যে ইরানের ওপর হামলার ফলে সেখানে সরকার পরিবর্তন হয়ে গেছে।

যদিও দেশটির ধর্মীয় সরকার এখনো ক্ষমতায় আসীন। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা সরকার পরিবর্তনের কথা বলছেন। আমি কখনোই এটা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম না। এটি কখনোই কোনো পরিকল্পনার অংশ ছিল না।’

তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানে প্রথম হামলা শুরু করে, তখন ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এর অন্যতম লক্ষ্য হলো সরকার পরিবর্তন করা। তখন ইরানি জনগণের উদ্দেশে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনাদের মুক্তির সময় ঘনিয়ে এসেছে।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ হলে আপনারা সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিন। এটি আপনাদেরই হবে। আগামী কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সম্ভবত এটাই আপনাদের একমাত্র সুযোগ।’

সাবেক এক মার্কিন কূটনীতিকের মতে, ট্রাম্প ইরানে সরকার পরিবর্তনের দাবি করলেও দেশটির আদর্শিক কোনো পরিবর্তন হয়নি।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কী হবে?

সমঝোতা চুক্তির চতুর্থ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘নৌ-অবরোধ অপসারণ শুরু করবে’ এবং ‘৩০ দিনের মধ্যে এই অবরোধ পুরোপুরি শেষ করবে’। এতে আরও বলা হয়েছে, ‘চূড়ান্ত চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে’।

চুক্তির পঞ্চম দফায় বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং ওমান সাগর থেকে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর বিনামূল্যে নিরাপদ চলাচলের জন্য ইরান ‘তার সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করবে। এই সুবিধাটি শুধুমাত্র ৬০ দিনের জন্য থাকবে। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যত ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক সেবার বিষয়ে ইরান ওমান সালতানাতের সঙ্গে আলোচনা করবে।

এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান একে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার মনে করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পরপরই ইরান এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল।

এর প্রতিক্রিয়ায় গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ শুরু করে। এতে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। যুদ্ধের এই সময়ে ইরান নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল। তবে এসব শিপিং কোম্পানিকে চলাচলের বিষয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে আলোচনা করতে হতো।

জানা গেছে, কিছু জাহাজকে চলাচলের অনুমতি পেতে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল দিতে হয়েছে। এদিকে এই পথে জাহাজের বীমা প্রিমিয়াম অনেক বেড়ে গেছে অথবা বীমা সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক শিপিং কোম্পানি মাইন অপসারণের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই পথে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।

যুদ্ধ বন্ধের আগের প্রস্তাবগুলোতে ইরান জাহাজ চলাচলের জন্য নিয়মিত টোল আদায়ের কথা বলেছিল। ওয়াশিংটন ও অন্যান্য দেশ বারবার সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, হরমুজের মতো প্রাকৃতিক প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো টোল আদায় করা যায় না। তবে বীমা বা ডকিংয়ের মতো সেবার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশগুলো নির্দিষ্ট ফি নিতে পারে।

১৪ দফার এই সমঝোতায় বিষয়টি নিয়ে খুব একটা বিস্তারিত বলা হয়নি। তবে বুধবার ইরানের প্রধান আলোচক গালিবাফ বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না’ এবং ইরান জাহাজগুলোকে ‘সেবা দেওয়ার বিনিময়ে ফি গ্রহণ করবে’।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের কী হবে?

সমঝোতা চুক্তির অষ্টম দফায় ইরান ‘পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি করবে না’। এতে আরও বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘একটি যৌথ ব্যবস্থার মাধ্যমে মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিষ্পত্তির বিষয়ে একমত হয়েছে... যার ন্যূনতম পদ্ধতি হবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট স্থানেই এর ঘনত্ব কমিয়ে ফেলা (ডাউন-ব্লেন্ডিং)’।

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিও দুই দেশের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ। যদিও ইরান অতীতে বারবার বলেছে যে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো ইচ্ছা নেই, তবে তারা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকারে অনড় ছিল। বর্তমানে ইরানের কাছে আনুমানিক ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ।

এটি অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের চেয়ে কম হলেও, ৬০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছানো অনেক দ্রুত সম্ভব। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সাধারণত মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র এই ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে আসলেও ইরান তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে কখনও কখনও তারা তৃতীয় কোনো দেশে এটি পাঠানোর বিষয়ে নমনীয়তা দেখিয়েছিল।

গত সপ্তাহে খবর পাওয়া গেছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি একটি নির্দেশনা জারি করেছেন যাতে বলা হয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই বিদেশে পাঠানো যাবে না। চুক্তির এই ধারাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের পরিবর্তে এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিষয়ে একমত হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

ডাউন-ব্লেন্ডিং পদ্ধতিটি সাধারণত আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। এটি একটি অপরিবর্তনীয় প্রক্রিয়া। ইরানের ওপর যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সময় তেহরান তাদের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমিয়ে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছিল।

চুক্তিতে কি ইরানের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছে?

চুক্তিতে ‘ক্ষতিপূরণ’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি। তবে সমঝোতার ষষ্ঠ দফায় বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ইরান পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা তৈরি করবে যার মূল্য হবে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার... সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের লাইসেন্স, ছাড় এবং অনুমতি যুক্তরাষ্ট্র প্রদান করবে’।

এই অর্থ কারা দেবে বা এটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ থাকবে কি না সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। যুদ্ধের সময় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি এর জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে অবদান চাইবেন এবং দাবি করেছিলেন যে মার্কিন করদাতাদের টাকা এখানে খরচ করা হবে না। চুক্তিতে ‘আঞ্চলিক অংশীদার’ হিসেবে বিবেচিত উপসাগরীয় দেশগুলো এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কী বলা হয়েছে?

সপ্তম দফায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ‘একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা অবসানে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র’। তবে এটি কেবল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নাকি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি।

দশকের পর দশক ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোর একটি। ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে পরমাণু চুক্তির আওতায় কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালে সেগুলো পুনরায় বহাল করা হয়।

ফলে এখনো শত শত কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ বিদেশের ব্যাংকে জব্দ হয়ে আছে। ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে যে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য তাদের এই অর্থের প্রয়োজন।


লেখক পরিচিতি

সারা শামীম একজন সাংবাদিক। তিনি মূলত রাজনীতি, নির্বাচন, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং লিঙ্গ সমতাসহ নানা বিষয়ের ব্যাখ্যাধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর উন্নয়ন নিয়ে তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতায় তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।