logo

মর্যাদাপূর্ণ অভিষেকের মতো মর্যাদাপূর্ণ বিদায়ের কথাও ভাবুন

মর্যাদাপূর্ণ অভিষেকের মতো মর্যাদাপূর্ণ বিদায়ের কথাও ভাবুন

আজ যারা মন্ত্রী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করছেন—তাদের প্রতি জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। একই সঙ্গে রাখতে চাই একটি বিনীত অনুরোধ।

আজকের এই মর্যাদাপূর্ণ অভিষেক যেন পাঁচ বছর পর সমান মর্যাদার বিদায়ে পরিণত হয় - সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই আপনাদের যাত্রা শুরু হোক। অতীতের সরকারগুলোর ভুল ও সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনা করুন এমনভাবে, যাতে বিদায়ের মুহূর্তে কোনো অমর্যাদা আপনাদের স্পর্শ না করে। মনে রাখবেন, ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে সুবিধাভোগীদের অধিকাংশই আর পাশে থাকে না।

দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনি অনেকের কাছে এক ধরনের ‘সম্পদে’ পরিণত হন। পরিবার, নিকট আত্মীয়, দলীয় নেতাকর্মী—অনেকে আপনাকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চাইবে। কেউ কেউ আপনাকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টাও করবে। কিন্তু আপনি নিজেকে কতটা সুরক্ষিত রাখবেন, কতটা নীতিতে অটল থাকবেন—তা নির্ভর করবে আপনার প্রজ্ঞা, সততা ও নৈতিক দৃঢ়তার ওপর। বিচক্ষণতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারলে তবেই আপনি প্রকৃত অর্থে জননেতা হয়ে উঠবেন।

আরেকটি কথা স্পষ্টভাবে স্মরণ রাখা প্রয়োজন, হিসাব একদিন আপনাকেই দিতে হবে। ব্যক্তিগত লোভে, নির্বাচনি ব্যয় উসুলের প্রয়াসে কিংবা চাটুকারদের প্ররোচনায় যদি রাষ্ট্রের একটি টাকাও অপচয় বা অপব্যবহার হয়, তার জবাবদিহি অনিবার্য। দুনিয়াতে হোক বা শেষ  বিচারের দিনে—দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। ১৮ কোটি মানুষের কাছে জীবদ্দশায় ক্ষমা পাওয়া সহজ নয়।

এই বার্তা আপনাদের কাছে পৌঁছাক বা না পৌঁছাক—আমি আমার নাগরিক দায়িত্ব পালন করলাম। বাকিটা নির্ভর করবে জনগণের ওপর—তারা যেন এই আহ্বান আপনাদের কানে পৌঁছে দেয়।

লেখক : অধ্যাপক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আহবায়ক, ওয়েল-বিয়িং-ফাস্ট ইনিশিয়েটিভ (ওয়েফি), বাংলাদেশ