জাসদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন মুক্তিযুদ্ধের পথেই

৩১ অক্টোবর ১৯৭২। স্বাধীনতার মাত্র ১০ মাসের মাথায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। ২০২৬ সালে দলটি তার ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। জাসদের জন্ম কেবল একটি নতুন রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক আত্মপ্রকাশ ছিল না; এর সঙ্গে যুক্ত ছিল মুক্তিযুদ্ধফেরত ছাত্র-যুবসমাজের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, স্বাধীনতাপরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে গভীর হতাশা, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা এবং শোষণ-বৈষম্যহীন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন।
জাসদের রাজনৈতিক পরিচয় বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে স্বাধীনতাপূর্ব ছাত্রলীগের রাজনৈতিক বিকাশ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক ইতিহাসে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির জাতীয়তাবাদী মুক্তিসংগ্রাম, ছয় দফা, ছাত্রসমাজের ১১ দফা, স্বাধীনতার ইশতেহার প্রণয়ন ও পাঠ, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের বিস্তার এবং স্বাধীন-সার্বভৌম, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা—এসব রাজনৈতিক ধারার বিকাশে তৎকালীন ছাত্রলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সিরাজুল আলম খান, আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজসহ এই ধারার বহু নেতা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই পরবর্তী সময়ে জাসদ প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা রাখেন।
সুতরাং জাসদের জন্মকে ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী উদ্যোগ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ইতিহাসের একটি চরম সরলীকরণ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার বা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক নীতির বিরোধিতা করা আর বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কিংবা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। জাসদের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃত্বের মুক্তিযুদ্ধকালীন গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা তাদের পরবর্তী সময়ের কোনো রাজনৈতিক ভুল বা অবস্থানের কারণে মুছে যেতে পারে না।
১৯৭২ সালের জুলাইয়ে ছাত্রলীগের বিভক্তি জাসদ গঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করে। ৩১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেজর এম এ জলিল ও আ স ম আবদুর রবকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে জাসদের যাত্রা শুরু হয়। ২৩ ডিসেম্বর প্রথম জাতীয় সম্মেলনে এম এ জলিল সভাপতি এবং আ স ম আবদুর রব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জাসদ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা উচ্চারিত হয়েছিল—কেবল ভৌগোলিক স্বাধীনতা অর্জনই শেষ কথা নয়; স্বাধীনতার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন, সামাজিক সাম্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করাই ছিল দলটির মূল অঙ্গীকার।
তবে জাসদের ইতিহাস আত্মসমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ও জাসদের সংঘাত ক্রমশ তীব্র রূপ নেয়। গণবাহিনীর সশস্ত্র কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের অত্যন্ত জটিল ও বিতর্কিত অধ্যায়। রাজনৈতিক লক্ষ্য যত মহৎই হোক না কেন, সহিংসতা, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড কিংবা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন কোনো আদর্শের নামেই বৈধতা পেতে পারে না। বস্তুত, এসব ঘটনার নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠ ঐতিহাসিক মূল্যায়ন আজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
একইভাবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় নানা দুর্বলতা, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, বিরোধী মতের প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত জাতীয় রাজনীতিতে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। পরবর্তী সময়েও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি, দলীয়করণ, নির্বাচনব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থার সংকট এবং ভিন্নমত দমনের নানা অভিযোগ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়ার ঐতিহাসিক স্বীকৃতি কোনো দলকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখে না। বঙ্গবন্ধুর অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকার করেই আওয়ামী লীগের ভুল, ব্যর্থতা ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করা যায়—বরং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত গণতান্ত্রিক চেতনার স্বার্থেই তা জরুরি।
আওয়ামী লীগ ও জাসদের এই ঐতিহাসিক সংঘাত যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে সামগ্রিকভাবে দুর্বল করেছে—এ বাস্তবতা অস্বীকার করা যায় না। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, স্বাধীনতাবিরোধী ও সুযোগসন্ধানী কিছু চক্র তৎকালীন আওয়ামী লীগবিরোধী ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে জাসদের কর্মসূচিতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। এ ধরনের অভিযোগের ঐতিহাসিক অনুসন্ধান দরকার। তবে প্রধান শিক্ষা হলো—রাজনৈতিক বিরোধকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না, যার সুবাদে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বা অসংবিধানিক শক্তি সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পায়।
জাসদের ত্যাগের ইতিহাসও এ দেশের রাজনীতিতে অনন্য গুরুত্ব বহন করে। দলটির হাজার হাজার নেতা-কর্মী কারাবরণ, নির্যাতন, আত্মগোপন ও আত্মত্যাগের শিকার হয়েছেন। তবে এই ত্যাগের স্বীকৃতির পাশাপাশি রাজনৈতিক ভুল, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, কৌশলগত সীমাবদ্ধতা ও বারবার সাংগঠনিক ভাঙনের দায়ও সততার সঙ্গে স্বীকার করতে হবে। ১৯৮০ সালের প্রথম বিভক্তি থেকে পরবর্তী সময়গুলোর বিভাজন জাসদের মূল সম্ভাবনাকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বস্তুনিষ্ঠ আত্মসমালোচনা ছাড়া নতুন রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়।
জাসদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট আত্মজিজ্ঞাসা প্রয়োজন। দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনুর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটে অংশগ্রহণ, সরকারে দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন কৌশলগত সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক সমালোচনা হতেই পারে। জনগণ ও ইতিহাস এসব সিদ্ধান্তের বিচার করবে। কিন্তু ইনুর জোটগত অবস্থান দিয়ে জাসদের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃত্বের মুক্তিযুদ্ধকালীন মূল অবদানকে বাতিল করা যায় না। ইতিহাসের বিচার হবে ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে, আর রাজনৈতিক জবাবদিহি হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে।
হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ২০২৬ সালের ৩০ জুন আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে দণ্ড দিয়ে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেন। ইনু খালাস চেয়ে এবং প্রসেকিউশন সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে। বিচারপ্রক্রিয়ার পরবর্তী পর্যায়ে ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি, নিরপেক্ষতা, তথ্যের যথাযথ মূল্যায়ন ও আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যেকোনো অপরাধের বিচার যেমন অপরিহার্য, তেমনি বিচারপ্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ হওয়াও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায়বিচারের নিয়ম সবার জন্যই সমান হতে হবে।
বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামনে নতুন ও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও জনবিচ্ছিন্নতার সুযোগে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও অসাম্প্রদায়িকতাবিরোধী শক্তি যদি পুনরুত্থানের সুযোগ পায়, তবে তা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে। আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করার অর্থ এই নয় যে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার অর্জন কিংবা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রচিন্তা থেকে সরে আসতে হবে। আবার একইভাবে, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ’ পরিচয় ব্যবহার করে কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বেচ্ছাচার, দুর্নীতি কিংবা গণতন্ত্রবিরোধী আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়াও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জাসদকে এই দুই চরমপন্থা ও বিপরীতমুখী প্রবণতার বিরুদ্ধে নীতিনিষ্ঠ অবস্থান নিতে হবে—একদিকে কর্তৃত্ববাদ ও দলীয় স্বেচ্ছাচার, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির পুনরুত্থান।
জাসদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন ঘটাতে হলে আবার ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় ফিরতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব, স্বাধীনতার সংগ্রাম, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত ও ‘জয় বাংলা’ বাঙালির জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারকে জাসদের বর্তমান রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনতে হবে। জাসদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত নিজস্ব আদর্শ, সাংগঠনিক স্বাধীনতা ও জনগণের প্রতি জবাবদিহির ভিত্তিতে—কোনো দলের অন্ধ সমর্থন কিংবা অন্ধ বিরোধিতার ভিত্তিতে নয়।
নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রে থাকতে হবে অর্থনৈতিক সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য, তরুণদের কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা, সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা, সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা। বাঙালি জাতীয়তাবাদকে হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অসাম্প্রদায়িকতাকে হতে হবে রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম নীতি এবং গণতন্ত্রকে হতে হবে নাগরিকের কার্যকর অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির নিশ্চয়তা।
যারা একসময় জাসদ, বাসদ কিংবা তৎসংলগ্ন ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং নানা বিভক্তি ও হতাশায় দূরে সরে গেছেন, তাদের প্রতি সময়ের আহ্বান—অতীতের ভুলগুলো চিহ্নিত করে, ব্যক্তিগত বিরোধ ও গোষ্ঠীগত আধিপত্যের ঊর্ধ্বে উঠে পুনরায় সংলাপে বসুন। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও উদীয়মান তরুণদের স্বপ্নের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী, নতুন যুগের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলুন। দলীয় নেতৃত্ব নির্ধারিত হোক পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়; আর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় থাকুক শতভাগ স্বচ্ছতা।
জাসদের ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অঙ্গীকার হোক—মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অবিচল অবস্থান, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি, আওয়ামী লীগের ভুল ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে নির্ভীক সমালোচনা, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান রোধ, সততার সঙ্গে আত্মসমালোচনা এবং অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার অবিরাম সংগ্রাম। জাসদকে ফিরতেই হবে তার জন্মের প্রাথমিক রাজনৈতিক অঙ্গীকারে—কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন পূরণে।
জাসদের আদর্শের ভিত্তি ১৯৭১, রাজনৈতিক দর্শন অর্থনৈতিক সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্র, আর চূড়ান্ত লক্ষ্য শোষণমুক্ত বাংলাদেশ।
লেখক: সাবেক সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।