logo

ক্লাসঘণ্টা কমানো নয়, বিকল্প পথে শিক্ষা চালু রাখাই সমাধান

ক্লাসঘণ্টা কমানো নয়, বিকল্প পথে শিক্ষা চালু রাখাই সমাধান

বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক জায়গায় স্কুলের সময় কমানোর আলোচনা চলছে। বিষয়টি বাস্তব, কিন্তু এর প্রভাব নিয়ে ভাবা দরকার। আমরা আগে থেকেই অনেক ক্লাসঘণ্টা হারিয়েছি। এখন আবার সময় কমালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে শিশুদেরই।

শিক্ষা থামিয়ে রাখা যায় না। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য নিয়মিত ক্লাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি বারবার পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তাহলে শেখার ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়। অনেকেই ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, কেউ কেউ স্কুল ছেড়েও দেয়।

স্কুল শুধু পড়ার জায়গা না। এখানে শিশুরা খেলতে পারে, বন্ধুদের সাথে কথা বলে, একে অন্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখে। অনেক শিশুর জন্য স্কুলই এমন একটি জায়গা, যেখানে তারা নিরাপদ বোধ করে এবং নিজের মতো থাকতে পারে। ঘরের বাইরে এই জায়গাটা তাদের জন্য খুব দরকার। তাই স্কুল বন্ধ থাকা বা সময় কমে যাওয়া মানে শুধু পড়া কমে যাওয়া না, তাদের স্বাভাবিক বড় হওয়াটাও বাধাগ্রস্ত হওয়া। তাই সমাধান শুধু ক্লাসঘণ্টা কমানো না। আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে, যা বাস্তবসম্মত এবং শিশুদের জন্য কার্যকর।

প্রথমত, স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করা যেতে পারে। খুব গরমের সময় এড়িয়ে সকালবেলা বা বিকেলে ক্লাস নেওয়া সম্ভব। এতে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে, আবার শিশুরাও স্বস্তিতে পড়তে পারবে।

দ্বিতীয়ত, দিনের আলো বেশি ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেক স্কুলেই প্রাকৃতিক আলো ভালো থাকে। জানালা খুলে, আলো-বাতাস ঢুকিয়ে ক্লাস চালানো যায়। এতে বিদ্যুতের প্রয়োজন কমে।

তৃতীয়ত, সীমিতভাবে ফ্যান ব্যবহার করে ক্লাস চালানো যেতে পারে। সবসময় সব ফ্যান চালানোর দরকার নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করলে কিছুটা হলেও জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব।

ডিজিটাল শিক্ষার কথাও আসে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—সব শিশুর কাছে ইন্টারনেট বা ডিভাইস নেই। তাই এটাকে প্রধান সমাধান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং যেখানে সম্ভব, সেখানে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এ সংকট আমাদের জন্য একটি সুযোগও হতে পারে—শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবভিত্তিক করার। একদিকে জ্বালানি সাশ্রয়, অন্যদিকে শিক্ষা চালু রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে নিতে হবে। 

শেষ কথা হলো, ক্লাসঘণ্টা কমানো সহজ সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বড়। তার চেয়ে ভালো হলো—বিকল্প উপায়ে ক্লাস চালিয়ে যাওয়া। কারণ প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্লাস একটি শিশুর ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


লেখক: ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ