logo

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কী?

মো. খায়রুল হাসান
মো. খায়রুল হাসান
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কী?
মো. খায়রুল হাসান। ছবি: লেখকের ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া

বাংলায় একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ ‘উঠন্তি মুলা পত্তনেই চেনা যায়’। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত সম্ভাবনা অনেকটা বোঝা যায় তার শুরুর আচরণ, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড দেখে। দুর্বল পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ক্ষেত্রেও এই প্রবাদটি প্রাসঙ্গিক।

কারণ নতুন ব্যাংকটির যাত্রা শুরু হয়েছে একদিকে বিপুল আর্থিক ক্ষতি, খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট ও দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতার বোঝা; অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানা, নতুন ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠনের সুযোগ নিয়ে। এখন প্রশ্ন হলো, এই ব্যাংক কি অতীতের বোঝা কাটিয়ে একটি সুস্থ, টেকসই ও আস্থাশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারবে?

প্রথম পরীক্ষাটি ছিল আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য এ ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক। এই ব্যাংক থেকে ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৭ জন আমানতকারী ৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করলেও বাস্তবে ৩৫ হাজার ৯০৭ জন গ্রাহক ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। অর্থাৎ আবেদন করা অর্থের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই উত্তোলন করা হয়নি। একই সময়ে ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর মাত্র চার দিনে ব্যাংকে নতুন করে ৮৯৪ কোটি টাকা নতুন আমানত এসেছে।

এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক সংকেত। কারণ টাকা তোলার পূর্ণ সুযোগ থাকার পরও বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অর্থ ব্যাংকে রেখে দিয়েছেন ব্যাংকটিতে। কেউ কেউ নতুন করে আমানতও করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারই ছিল নতুন ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রত্যাশার তুলনায় উত্তোলনের চাপ কম থাকায় তারল্য ব্যবস্থাপনাতেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে।

এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। আমানত ফেরতের সুযোগকে একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ায় আনা, আমানতের ওপর ‘হেয়ারকাট’ বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালু রাখা গ্রাহকদের উদ্বেগ কমিয়েছে। এছাড়া আরটিজিএস, বিএফটিএন ও ক্লিয়ারিং কার্যক্রমসহ ব্যাংকের অন্যান্য সেবাসমূহ চালু থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানেই সতর্ক থাকতে হবে। উত্তোলনের চাপ কম থাকা মানেই ব্যাংক ঘুরে দাঁড়িয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া যাবে না। আস্থা একটি চলমান বিষয়; আর ব্যাংকের প্রকৃত স্বাস্থ্য নির্ভর করে সম্পদের মান, মূলধন, তারল্য, আয়, সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর।

এই ব্যাংকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ খেলাপি ঋণ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ২০২৬ সালের জুনের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণ প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৬০ হাজার ৬৪৫ কোটি, এক্সিম ব্যাংকের ৩৮ হাজার ৫২ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ২৯ হাজার ৭৯৯ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংকের ২৭ হাজার ১৩৪ কোটি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৪ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। একই সময়ে পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।

অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (একিউআর) ভিত্তিক তথ্য সমস্যাটির গভীরতা আরও স্পষ্ট করে। একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণ ও বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণ ও বিনিয়োগের প্রায় ৭৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। মোট আমানত ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ সমস্যাটি শুধু তারল্যের নয়; এর মূলেও রয়েছে দুর্বল সম্পদমান ও দীর্ঘদিনের সুশাসন ঘাটতি।

তাই ব্যাংকটির ঘুরে দাঁড়ানোর কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে রিকভারি। শুধু মামলা করলেই রিকভারি হবে না। কত টাকা নগদে আদায় হলো, কত সম্পদ উদ্ধার হলো, কত ঋণ বাস্তবসম্মতভাবে পুনর্গঠন করা গেল এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঋণঝুঁকি কীভাবে বন্ধ করা গেল—সাফল্য মাপতে হবে এসব দিয়ে।

এ ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট ২০২৬ গঠিত ‘কালেকশন অ্যান্ড রিকভারি ওয়ার-রুম’ গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বড় ঋণগ্রহীতাদের ফলো-আপ, আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি এক্সিট পলিসি ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সমঝোতাভিত্তিক সমাধানের পথও বিবেচনায় রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মামলা ইতোমধ্যে করা হয়েছে। তবে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম ঋণগ্রহীতাকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ও সম্পদ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ফরেনসিক অডিটও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, তা শনাক্ত করা প্রয়োজন। এটি শুধু অতীতের দায় নির্ধারণের বিষয় নয়; ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী পরিপালন ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার সুযোগও।

এই প্রেক্ষাপটে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারা বাতিলের বিষয়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। এই ধারায় নির্দিষ্ট শর্তে সাবেক শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় গ্রহণের সুযোগ ছিল। সরকারি বা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগে জমা দিয়ে অবশিষ্ট ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ দুই বছরে ১০ শতাংশ সরল সুদে পরিশোধের সুযোগ থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকের সাবেক মালিকানা আবারও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে।

১৮(ক) বাতিল তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বার্তা দিয়েছে—রেজল্যুশনের মূল উদ্দেশ্য আমানতকারী ও আর্থিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেওয়া, ব্যর্থ মালিকানাকে পুনর্বাসন করা নয়। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করার লক্ষ্যই ছিল পুরোনো দুর্বল মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো থেকে বেরিয়ে নতুন সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

তবে মালিকানা কাঠামোর স্থিতিশীলতার পরের পরীক্ষা সুশাসন। রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিজে কোনো ব্যাংকের সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। প্রয়োজন দক্ষ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা, কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, শরিয়াহ গভর্নেন্স, পরিপালন ও জবাবদিহি। অতীতে বড় ঋণগ্রহীতার পরিচয় যদি ঋণের মানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে, সেই সংস্কৃতি পুরোপুরি বদলাতে হবে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাফল্য শুধু একটি ব্যাংকের সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রতি জনআস্থার সঙ্গেও যুক্ত। তাই প্রমাণ করতে হবে, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং শুধু নাম বা চুক্তির কাঠামো নয়; এর ভিত্তি হলো ন্যায়সংগত লেনদেন, স্বচ্ছতা, আমানতকারীর অধিকার, বিনিয়োগের গুণগত মান, ঝুঁকি ভাগাভাগি ও নৈতিক ব্যাংকিং।

আরেকটি বড় পরীক্ষা হলো পাঁচটি ব্যাংককে বাস্তবে একটি ব্যাংকে পরিণত করা। প্রায় ১৬ হাজার কর্মী, ৭৫৯টি শাখা ও প্রায় ৭০০টি উপশাখার সমন্বয় নিছক প্রশাসনিক কাজ নয়। শাখা পুনর্বিন্যাস, জনবল ব্যবস্থাপনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অভিন্ন করপোরেট সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে পাঁচটি আলাদা কোর ব্যাংকিং সিস্টেমকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনা, গ্রাহক তথ্য ও লেনদেনের ইতিহাস স্থানান্তর, নতুন সুইফট কোড এবং ডিজিটাল চ্যানেল সমন্বয়ও অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ। সামান্য ভুলও গ্রাহকের আস্থায় বড় আঘাত করতে পারে।

অন্যদিকে নতুন ব্যাংককে শুধু পুরোনো সমস্যা সামলালেই চলবে না; ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক ভিত্তিও তৈরি করতে হবে। নতুন আমানত সংগ্রহ, রিটেইল ব্যাংকিং, এসএমই অর্থায়ন, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলতে হবে। নতুন আমানতকে শুধু তারল্যের উৎস নয়, দীর্ঘমেয়াদি গ্রাহকসম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে দেখতে হবে।

সবশেষে, গ্রাহকসেবাকেই রাখতে হবে ব্যাংকের কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রয়োজনের সময় টাকা পাওয়া, স্বাভাবিক লেনদেন, মুনাফা সম্পর্কে স্বচ্ছতা, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং দায়িত্বশীল আচরণ—এসবই আস্থা স্থায়ী করে। প্রচার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, কিন্তু বিশ্বাস তৈরি করে সেবার অভিজ্ঞতা। তাই ‘প্রোমিজ লেস, ডেলিভার মোর’ নীতি কার্যকর হতে পারে। বড় দাবি নয়, বরং কত টাকা আদায় হলো, কত সম্পদ উদ্ধার হলো, কত শাখায় সেবা উন্নত হলো এবং কত দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি হলো—বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান করতে হবে।

গ্রাহকের আস্থা ভঙ্গুর। একটি বড় অনিয়ম, অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত, প্রযুক্তিগত বিপর্যয় বা গ্রাহকের অর্থ ফেরতে অযৌক্তিক বিলম্ব নতুন করে সংকট তৈরি করতে পারে। তাই সুনাম ব্যবস্থাপনাকে ব্যাংকের মূল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সামনে তাই চারটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ—রিস্টোর, রিকভার, রিফর্ম ও রিবিল্ড। প্রথমে স্বাভাবিক সেবা ও আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে হবে। এরপর খেলাপি ঋণ ও দুর্বল সম্পদ থেকে বাস্তব রিকভারি করতে হবে। সুশাসন, জবাবদিহি, পরিপালন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনতে হবে। সবশেষে মানুষ, প্রযুক্তি, শাখা, পণ্য, সেবা ও ব্যবসায়িক কৌশল নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে পুনর্গঠন করতে হবে। এ জন্য একটি সুস্পষ্ট তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ট্রান্সফরমেশন রোডম্যাপ প্রয়োজন।

তাহলে কি গ্রাহকআস্থা ফিরিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? উত্তর হলো সম্ভাবনা যথেষ্ট আছে, কিন্তু সাফল্য এখনো অর্জিত হয়নি। কম উত্তোলনের চাপ ও নতুন আমানত প্রবাহ আশাব্যঞ্জক। রাষ্ট্রীয় মালিকানা, নতুন ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা, রিকভারি উদ্যোগ, ফরেনসিক অডিট এবং ১৮(ক) ধারা বাতিল—সব মিলিয়ে একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

কিন্তু প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন এই প্রাথমিক আস্থা টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক আস্থায় পরিণত হবে; যখন বিপুল খেলাপি ঋণ বাস্তব রিকভারির মাধ্যমে কমবে; অতীতের অনিয়মের জবাবদিহি নিশ্চিত হবে; কর্মীরা একটি অভিন্ন সংস্কৃতিতে কাজ করবে; প্রযুক্তি একীভূতকরণ নির্বিঘ্ন হবে এবং ব্যাংকটি সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠান থেকে নিজস্ব আয়, দক্ষতা ও সুশাসনের ওপর দাঁড়ানো একটি টেকসই শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে রূপ নেবে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু মূলধন, শাখা বা গ্রাহকসংখ্যা নয়—ফিরে আসতে শুরু করা গ্রাহকআস্থা। এই আস্থাকে সুশাসন, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও বাস্তব রিকভারি দিয়ে সুরক্ষিত করতে পারলে আজকের সংকটই আগামী দিনের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি হতে পারে।

সুতরাং এখন স্লোগান নয়, কাজই হবে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড। প্রতিটি টাকা আদায়, প্রতিটি আমানত সুরক্ষা, প্রতিটি সঠিক সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি সন্তুষ্ট গ্রাহক হবে নতুন ব্যাংকের পুনর্জন্মের প্রমাণ। আস্থা ফিরেছে—এখন সেটিকে প্রতিষ্ঠানের সফলতায় রূপ দেওয়ার পালা।


লেখক পরিচিতি

মো. খায়রুল হাসান, ইসলামিক ব্যাংকার ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষক।

[প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার ও প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণের প্রতিফলন। এগুলো এশিয়া পোস্টের সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সঙ্গে সর্বদা মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখায় উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের যথার্থতা ও মতামতের দায়িত্ব লেখকের নিজস্ব; এ বিষয়ে এশিয়া পোস্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ।]