সাক্ষাৎকারে মাওলানা মামুনুল হক/‘এনসিপিকে বেশি ছাড় দিয়েছে জামায়াত, আমাদের দেয়নি’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। রাজনীতির পাশাপাশি তিন দশকের বেশি সময় ধরে বুখারি শরিফ পড়াচ্ছেন তিনি। নিজের রাজনৈতিক জীবন, বিগত নির্বাচন, ১১ দলীয় জোট গঠন, ইসলামি দলগুলোর রাজনীতি ও তাদের চিন্তা-চেতনা, জামায়াতের আকিদা, স্থানীয় নির্বাচন, ভাস্কর্যসহ সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এশিয়া পোস্টের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রায়হান রাশেদ।
এশিয়া পোস্ট: ১৯৯৬ সাল থেকে আপনি বুখারি শরিফ পড়াচ্ছেন। আলেম-ওলামা এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে আপনার বড় রকমের একটা অবস্থান আছে। রাজনীতিতে আসার কারণ কী?
মামুনুল হক: ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের বাবরি মসজিদ শহীদ হলে এর প্রতিবাদ এবং পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে অযোধ্যা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। সে লংমার্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন-সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ি। এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম এবং দায়িত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। পরে জাতীয় সংগঠনে কাজ করেছি। কোরআন-হাদিস অনুযায়ী আমার শিক্ষা এবং বিশ্বাসকে বাস্তবে পরিণত করতে চাইলে ইসলামি রাজনীতির সঙ্গে থাকতে হবে। এটা আমার জন্য সহায়ক। মূলত ইসলামকে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এবং দায়িত্ববোধ থেকে রাজনীতি করি।
এশিয়া পোস্ট: চব্বিশের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আরও অনেক আলেমসহ আপনাকে বৈঠক করতে দেখা গেছে। ওই বৈঠক নিয়ে অনেক মানুষের মনে প্রশ্ন থেকে গেছে। ওই সময়ে তাদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসতে হলো কেন?
মামুনুল হক: চব্বিশের ৩ মে দীর্ঘ কারাভোগ শেষে আমি মুক্ত হই। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় আমার কারামুক্তির দুই মাসও পূর্ণ হয়নি। আমার কাঁধে তখনও ৪৭টি মামলা। মামলাগুলোর জন্য নিয়মিত কোর্টে হাজিরা দিতে হয়। আমাকে ফ্যাসিবাদী সরকার বাহ্যিকভাবে মুক্তি দিয়েছে, কিন্তু আমার ওপর পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল। এক দিন কোর্টে হাজিরা না দিলেই জামিন বাতিল হয়ে যেত। আমার বেশ কিছু মামলা একবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে উপনীত রেখেছিল—যেন যে কোনো সময় আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। ওই ভয়াবহ পরিস্থিতে আমি অন্য দশজনের মতো ছিলাম না। সে সময় আমার ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রের ভয়াবহ নিয়ন্ত্রণ এবং আগ্রাসন অব্যাহত ছিল। ওই পরিস্থিতিতে চব্বিশের আন্দোলন শুরু হয়।
আমাদের অবস্থান গণভবনের কাছে হওয়ায় তারা বারবার আমাকে শাসাতে থাকে। সরকারের ধারণা, আমার নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর থেকে গণভবন দখলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের বিষয় সামনে রেখে তারা আবারও আমার ওপর খড়্গ চালানোর পাঁয়তারা করছিল। সেই পরিস্থিতিতে আমাদের মুরুব্বিদের মাধ্যমে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আমার সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। কথা বলার বার্তা দিয়ে পুলিশ পাঠিয়ে জোর করে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। ভেবেছি, আমার বিষয়ে কথা বলতে তার বাসায় ডেকেছেন। গিয়ে দেখি বৈঠকের আয়োজন। আমাকে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানায়নি। বৈঠকের কথা বললে ভিন্ন চিন্তা করতাম। যতটুকু সম্ভব বৈঠক এড়ানোর চেষ্টা করলাম। তারা আমাকে মন্ত্রীর কাছাকাছি বসানোর জন্য চাপাচাপি করছিল। না করে দিই। দূরে বসেছি। বৈঠকে আন্দোলনের বিপক্ষে বা সরকারের পক্ষে মন্তব্য করিনি। মিটিং শেষে দ্রুতই বের হয়ে আসি। বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যতটা উপেক্ষা করা যায়, এর সর্বোচ্চটা করেছি।
ওই সময় হঠকারিতামূলক পদক্ষেপ নিলে আমাকে কেন্দ্র করে আমাদের মহলের ওপর দমন-পীড়ন নেমে আসত। তখন তারাই আমার সমালোচনা করত। সমালোচনাকারীরা সবসময় সমালোচনা করে। আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাবস্থায় আমার যে অবস্থান, যারা এর গভীরতা উপলব্ধি করতে পারে, তারা এ ধরনের অযাচিত প্রশ্ন উত্থাপন করে না। ওই সময় ছাত্রনেতাদেরও পুলিশ নিয়ে গেছে। তাদেরও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা সরকারের যতটা টার্গেটে ছিল, আমি কোনোভাবেই কম টার্গেটে ছিলাম না। আমার প্রতি শেখ হাসিনার যে আক্রোশ, তার যে ক্ষোভ, আমার প্রতি সে যেভাবে খড়্গহস্ত ছিল, আমি মনে করি, শেখ হাসিনা নিজেই হাতেগোনা কয়েকজনের ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে এতটা খড়্গহস্ত ছিল। আমি যেভাবে বছরের পর বছর শেখ হাসিনার সঙ্গে লড়াই করে টিকে ছিলাম, আমাকে নিয়ে এ ধরনের কথা বলা অবান্তর।
এশিয়া পোস্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। জয়ী হয়েছে মাত্র দুটি আসনে। ২৩ আসনে পরাজিত হওয়ার জন্য কোন বিষয়টিকে দায়ী করছেন?
মামুনুল হক: জোটগতভাবে আমাদের ২৪টি আসন ছিল। আরেকটি আসন ছিল ওপেন। দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছি। ২৩টি আসনের মধ্যে ২২টি আসনেই আমাদের অবস্থান দ্বিতীয়। অনেক আসনে খুব অল্প ব্যবধানে আমাদের দলীয় প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছে। সেই হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তির যে পরিসংখ্যান, সেটা খুব খারাপ নয়।
জোটগত সমঝোতা করতে গিয়ে তুলনামূলক অনেক ভালো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। এমনও আসনে নির্বাচন করতে হয়েছে, যেখানে জোটের শরিকদেরও ভালো অবস্থান ছিল না। প্রত্যেকটা দল নিজেদের সম্ভাব্য সম্ভাবনায় আসনেই নির্বাচন করেছে। তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জোটের বড় শরিক জামায়াতে ইসলামী তাদের সম্ভাবনাময় আসনে আমাদেরকে খুব একটা ছাড় দেয়নি। হয়তো দু-তিনটা আসনে আমাদেরকে ছাড় দিয়েছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এনসিপিকে তুলনামূলক অনেক বেশি সম্ভাবনাময় আসনে ছাড় দিয়েছে। সেই তুলনায় এনসিপি যেমন ছয়টি আসনে নির্বাচিত হয়েছে, আমাদের সম্ভাবনায় আসন অনুপাতে দুটি আসনে জয়ী হওয়া খুব খারাপ ফলাফল নয়। জামায়াতও ২৫০ এর কাছাকাছি আসনে নির্বাচন করে ৬৪ আসনে বিজয়ী হয়েছে। তারা কিন্তু বেশিরভাগ তাদের সম্ভাবনাময় আসনে নির্বাচন করেছে। কিন্তু সমঝোতার কারণে আমরা পারেনি। আমি এটা কোনো অভিযোগের আকারে বলছি না। আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সব দলই ছাড় দিয়েছে। যৌক্তিক কারণেই আমরা চাইনি যে, আমাদের জোটের সম্ভাব্য কোনো প্রার্থী পরাজিত হোক।
মোটকথা আসন সমঝোতার কারণে আমাদের সম্ভাবনাময় বেশ কিছু আসনে নির্বাচন করতে পারিনি। বিপরীতে অনেক এমন আসনে নির্বাচন করতে হয়েছে, যেগুলো খুব একটা সম্ভাবনাময় ছিল না। এই কারণে ফলাফলটা এ রকম হয়েছে।
এশিয়া পোস্ট: শোনা যায়, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের বিজয় নিশ্চিত করতে বিএনপিকে আপনার আসন দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনিও বলেছেন, আপনাকে হারানো হয়েছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
মামুনুল হক: এখানে কয়েকটা বিষয়। একটা হলো, আমার আসনকে কেন্দ্র করে কারচুপি হয়েছে, এটা স্পষ্ট প্রমাণিত। আমাদের কাছে অনেক প্রমাণ আছে। জাতীয়-আন্তর্জাতিক কারণও ছিল। এসব কারণেই আমার নিশ্চিত বিজয়কে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। জামায়াত আমিরের আসন নিয়ে যে কথাটা বললেন, সেটা আমরা বলি না। এটা বলার যৌক্তিকতাও দেখি না। আমিরে জামায়াতও অনেক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
প্রায় ৮-৯টা পর্যন্ত যে ফলাফল আসছিল, তার গতি একরকম ছিল। এরপর প্রায় ঘণ্টাদুয়েক ফলাফল প্রচার একরকম বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এরপর থেকেই ফলাফলের গতিটা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। আমাদের ধারণা, ওই সময়টায় এই ধরনের কিছু একটা মেকানিজম হয়েছে। আমাদের জোটের স্বল্প ব্যবধানে ভোটে এগিয়ে থাকা অনেক প্রার্থীকে পরাজিত দেখানো হয়েছে।
এশিয়া পোস্ট: শোনা যায়, ইসলামপন্থি দলগুলোর জনসম্পৃক্ততা কম। মাদ্রাসার বাইরে তৃণমূলে তাদের কর্মী বা সংগঠনের কাজ নেই। এ বিষয়ে আপনাদের পদক্ষেপ আছে?
মামুনুল হক: আমরা ব্যাপকভাবে চেষ্টা করছি। ইসলামপন্থি রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ধারাবাহিক রাজনীতিতে অভ্যস্ত নয়। আমরা ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি বেশি করি। এই কারণে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতির দীর্ঘ যাত্রায় আমরা পিছিয়ে পড়ি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ এবং উদ্যোগ নিচ্ছি। আশা করি, আগামী দিনে এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দলগুলো কেন এখনও একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যে পৌঁছাতে পারছে না?
মামুনুল হক: আমি মনে করি, আমাদের যে রাজনৈতিক চিন্তাটা—আমরা নিরেট রাজনৈতিকভাবে কীভাবে ইসলামপন্থাকে শক্তিশালী করতে পারব সেই জায়গাটায় আমাদের চিন্তার ফারাক রয়েছে। রাজনৈতিক চিন্তা থেকে অন্যান্য আনুষঙ্গিক চিন্তাকে অনেক প্রাধান্য দিই। ইস্যুভিত্তিক চিন্তাকে প্রাধান্য দিই। আমরা যদি রাজনীতিটাকে আরও গভীরভাবে করি এবং রাজনীতির নীতি ও ব্যাকরণ মেনে রাজনীতি করতে অভ্যস্ত হই, আমার বিশ্বাস, আগামীর দিনে আমাদের এই মতানৈক্যের যে সমস্যা, সেটা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পারব ইনশাআল্লাহ।
এশিয়া পোস্ট: বর্তমানে ইসলামপন্থি রাজনীতিবিদরা পরস্পরের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কটু কথা বলছেন। কটাক্ষ করছেন। এমনটি হচ্ছে কেন?
মামুনুল হক: খুবই দুঃখজনক বিষয়। ইসলামপন্থি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরনের অসহিষ্ণুতার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী হিসেবে এটা অবশ্যই কাম্য নয়। এটার বড় একটা কারণ এও হতে পারে যে, জাতীয় রাজনীতিতে আমাদের ভূমিকা রাখার গুরুত্বটাকে আমরা গৌণ করে দেখি। এর তুলনায় আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক প্রতিযোগিতাকে অনেক বড় করে দেখি। নিজস্ব পারস্পরিক প্রতিযোগিতার বিষয়টাকে বড় করে দেখার কারণেই জাতীয় স্বার্থের বিষয়টা আমাদের কাছে গৌণ হয়ে যায়। আশা করব, আমার দলের নেতাকর্মীরা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর প্রতি পূর্ণ সম্মান ও সদাচরণ করবে। এতে আমরাই উপকৃত হব। সেই সঙ্গে অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতিও আমার আহ্বান থাকবে, পারস্পরিক প্রতিযোগিতার চেয়েও জাতীয় স্বার্থকে আমরা আরও বড় করে দেখার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
এশিয়া পোস্ট: বিগত নির্বাচনের আগে ইসলামপন্থি দলগুলো নিয়ে একজোট করে কাজ করছিলেন। পরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আদর্শের দ্বন্দ্বের কথা বলে ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনের আগে সরে দাঁড়ায়। জমিয়তও তাদের আকিদা নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীও জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম বলে মন্তব্য করেছেন। তবুও আপনারা রয়ে গেলেন?
মামুনুল হক: আমরা বিগত নির্বাচনে দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছি। এক. জুলাই অভ্যুত্থানের ফসল ঘরে তোলা। মনে করি, দেশের ইসলামপন্থি ও ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা বিষয় ছিল, আমরা কী করে জুলাই বিপ্লবটাকে পূর্ণাঙ্গতা দিতে পারি। মূলত নির্বাচন এবং নির্বাচনপরবর্তী সরকার গঠন এবং সরকারের কার্যক্রম ও সরকারি প্রক্রিয়া—এই সবগুলোর মধ্যেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে বাস্তবায়ন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে বিষয়গুলো খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আমাদের মেরুকরণের রাজনীতিতে খুব প্রাধান্য দিয়ে এটাকে বিবেচনায় রেখেছি।
দ্বিতীয় বিষয় হলো, দলীয় বা জোটগত নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের দলের অবস্থান কী হবে? দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি দলের স্বার্থ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। রাজনীতিতে স্থায়ীভাবে কাউকে শত্রু-মিত্র বানিয়ে ফেলা জোটগত রাজনীতির স্বভাবজাত ধর্মের সঙ্গে যায় না। এ জনই আমরা রাজনীতিতে বিদ্যমান কোনো পক্ষকে স্থায়ীভাবে শত্রু-মিত্র হিসেবে চিন্তা করতে চাই না। কারও সঙ্গে জোট করতেই হবে, এ রকম সীমাবদ্ধতায় নিজেদের আবদ্ধ করতে চাইনি।
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমাদের যে চিন্তা, সেই চিন্তার সঙ্গে বিএনপির চিন্তার যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। মৌলিক জায়গাগুলোতেই ফারাক রয়েছে এবং বিএনপি সেই জায়গাগুলোতে আমাদের মতের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করে। তাই বিএনপির সঙ্গে আমাকে অ্যালায়েন্স করতে হলে আমার দলের জুলাই বিপ্লবকেন্দ্রিক মৌলিক প্রায় প্রতিটি চিন্তা থেকেই আমাকে সরে আসতে হয়। আদর্শিক জায়গা থেকে সেটাকে সঠিক মনে করিনি। আর দ্বিতীয়ত দলীয় ও নির্বাচনী স্বার্থে মনে হয়েছে, বিএনপির বাইরে ১১ দলীয় অ্যালায়েন্সে থাকাই আমাদের জন্য বেশি সুবিধাজনক। যদিও বিএনপির সঙ্গে অ্যালায়েন্স করার মধ্যে আমার ব্যক্তিগত স্বার্থটা বেশি ছিল। কিন্তু ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দেশ, ইসলাম এবং দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া সঠিক মনে করেছি।
এশিয়া পোস্ট: এই জোট ছাড়ার কারণে ইসলামী আন্দোলনের ক্ষতি হয়েছে নাকি ১১ দলের? নাকি সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতির ক্ষতি হয়েছে?
মামুনুল হক: ইসলামী আন্দোলন বের হওয়াই স্বাভাবিকভাবেই ইসলামপন্থা হোঁচট খেয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ মনোভাব জেগেছে। আমি মনে করি, শেষ সময়ে জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন আলাদা হয়ে যাওয়ায় ভোটের হিসাবে ইসলামী আন্দোলনের ক্ষতিটা বড় হয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার তারা ভোট কম পেয়েছে। এটা তাদের দলের জন্য বড় ধরনের আঘাত ছিল। জোট ছেড়ে যাওয়াটা ছিল তাদের বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত।
চরমোনাই বা ইসলামী আন্দোলন ১১ দল ছাড়ার আগেই সাধারণ ভোটারদের একটা মাইন্ডসেট হয়ে গিয়েছিল, ভোট দুই ভাগ হবে। আমরাও অনুমান করতে পেরেছিলাম, ভোটটা দুই ভাগ হবে। একটা বিএনপি, আরেকটা বিকল্প অংশ। ভোটটা যেহেতু দুই ভাগ হবে কাজেই আমাকে ভোটের রাজনীতিতে দুই ভাগের যে কোনো এক ভাগে থাকতে হবে। তাহলে আমার ভোটারদের যেই আকাঙ্ক্ষা সেটা আমি ধরে রাখতে পারব।
এশিয়া পোস্ট: বিপজ্জনক সিদ্ধান্তটাকে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ছিল?
মামুনুল হক: অবশ্যই।
এশিয়া পোস্ট: ভোটের হিসেবে?
মামুনুল হক: হ্যাঁ।
এশিয়া পোস্ট: সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর যে আকিদা-বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে কওমি আলেমদের জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব রয়েছে। তাদের আকিদা নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মামুনুল হক: মাওলানা মওদুদীর যেসব বক্তব্য বা যেসব চিন্তা-বিশ্বাস আমাদের পূর্বসূরিদের দৃষ্টিতে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সমালোচনার যোগ্য এবং যেটা পরিহারযোগ্য, সেটা কখনও সমর্থন করি না। সেটা সমর্থন করা সঠিকও মনে করি না।
এশিয়া পোস্ট: আপনি এক সমাবেশে বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ১১ দল বা জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়বেন না। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তাদের বিতর্কিত ভূমিকা এবং ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আকিদাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
মামুনুল হক: জুলাই সনদের বাস্তবায়ন বিশেষ করে গণভোটের রায় কার্যকর করার যে দাবি, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান খুব শক্তিশালী। আমাদের কোনো অবস্থানে এই দাবি দুর্বল হয়ে যাক, সেই দায় নেব না। গণভোটের রায় কার্যকরের দাবির প্রতি সর্বোচ্চ আন্তরিক আমরা। এমন কোনো পদক্ষেপ নেব না, যার দ্বারা গণভটের রায় কার্যকরের দাবির চলমান আন্দোলন দুর্বল হতে পারে, সেটাই আমার বক্তব্য ছিল।
মাওলানা মওদুদী সাহেবের আকিদা অথবা জামায়াতে ইসলামীর ৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে নতুন কোনো বক্তব্য আমাদের নেই। আমাদের পূর্বসূরিদের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য আছে, সে বক্তব্যের ওপরেই আছি।
এশিয়া পোস্ট: হেফাজত আমির কওমি ঘরানার সাত দলকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। দলগুলো তার কথায় প্রস্তাবনাও জমা দিয়েছে। আপনারা ১১ দলে থেকেই সেখানে জোটবদ্ধ হতে চান। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বলছে, তারা এমন কারও সঙ্গে জোট করবে না, যারা অন্য জোটে আছে। আপনি কি জোট হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন?
মামুনুল হক: সাতটি দলের একসঙ্গে পথচলার যে উদ্যোগ হেফাজতের আমির নিয়েছেন, এটাকে কোনো শর্তের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। বরং আমাদের মধ্যকার পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি করা দরকার। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে এখনও এক মঞ্চে যাই, একসঙ্গে কথা বলি, একসঙ্গে কাজ করি। যার যার দলীয় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা কর্মতৎপরতা পরিচালনার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যকার একটা দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় গড়ে তুলতে হেফাজতের আমিরের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে নিতে পারি। এ থেকে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা গড়ে তুলতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে ঐক্যবদ্ধ কোনো পথ চলার দিকে যেতে পারব ইনশআল্লাহ।
এশিয়া পোস্ট: জামায়াত জোট ছেড়ে কি কওমি ধারার দলগুলোর সঙ্গে জোট করবেন?
মামুনুল হক: দেশ ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াত জোট ছেড়ে কওমি ধারার দলগুলোর সঙ্গে জোট করব। আমরা কারও কাছে স্থায়ীভাবে দায়বদ্ধ নয়। আমাদের রাজনীতিতে স্থায়ী কোনো শত্রু-মিত্র নেই। বৃহত্তর প্রয়োজনে যে কারও সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।
এশিয়া পোস্ট: ১১ দলের কেউ বা জামায়াত যদি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চায়, তাহলে আপনার অবস্থান কী থাকবে?
মামুনুল হক: ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার কোনো ধরনের পদক্ষেপকেই সমর্থন দিতে পারি না। এটাকে প্রশ্রয় দিতে পারি না।
এশিয়া পোস্ট: শোনা যায়, আপনি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ায় কওমি শিক্ষার্থীরা তাদের আকিদা নিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছে। অনেকে জামায়াতে যোগ দিচ্ছে। এতে কোনো শঙ্কা দেখছেন?
মামুনুল হক: এই পরিসংখ্যানটা খুবই ক্ষুদ্র। সাংগঠনিকভাবে জামায়াতে যোগদানের এ রকম বিচ্ছিন্ন ঘটনা অতীতেও ছিল। এটা এই জোটের কারণে বা জোটের পর থেকে নয়। জামায়াতের সঙ্গে কওমি ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর জোট করে রাজনীতির ইতিহাস এই প্রথম নয়। অতীতেও জোট হয়েছে। ২০০১ থেকে ২৪ পর্যন্তই আমাদের অনেকই জামায়াতের সঙ্গে ছিল। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামও ছিল একসময়। আমি মনে করি, এটার সঙ্গে ওইটার সম্পর্ক নেই। কেউ তার আদর্শ পরিবর্তন করে বা তার চিন্তার জায়গা থেকে ভিন্ন চিন্তা ধারণ করলে এটা সম্পূর্ণ তার রেসপনসিবল।
এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। এটাকে আপনি কোন ভিত্তির ওপর দেখতে চান?
মামুনুল হক: আমরা চাই প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করবে। কিন্তু অনেক সময় ভারতের আচরণটা প্রভুত্বসুলভ হয়ে যায়। বিগত সময়ে ভারত বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণের চেয়ে একটি দল এবং তার নেত্রীকে প্রাধান্য দিয়েছে। আমরা বারবার ভারতকে বলেছি, শেখ হাসিনা নয়, আপনারা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখুন। এখনো আমাদের সে একই আহ্বান। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি ভারতকে পরিপূর্ণ সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ভারতের প্রতি যেই প্রতিবেশী সুলভ আচরণ সেটাও তারা প্রত্যাশা করতে পারে না। এখন পর্যন্ত সীমান্তের হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে তারা পুশইন করছে। এগুলো কাম্য নয়।
এশিয়া পোস্ট: আপনারা তো খেলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে কি ইসলামি হুকুমত বা খেলাফত প্রতিষ্ঠা সম্ভব?
মামুনুল হক: গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলতে জনগণের মতামত বা ভোটের মাধ্যমে। এটাকে আমি অসম্ভব বলব না। দেশের অধিকাংশ নাগরিক ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করলেই ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তবে বর্তমান পৃথিবীতে কোথাও এ রকম নজির নেই। কারণ দুর্বল দেশগুলোতে যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা—সেটাকে কোনোভাবেই আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্রমুক্ত মনে করতে পারি না। এখানে ভেতর-বাইরে এমন অনেক কর্মকাণ্ড থেকে যায়, যা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করে। আমরা মনে করি, যে কোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের জনগণের সমর্থন নিয়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
এশিয়া পোস্ট: আগামী স্থানীয় নির্বাচনে ১১ দলে থেকে নির্বাচন করবেন নাকি স্বতন্ত্রভাবে করবেন?
মামুনুল হক: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় বা জোটগতভাবে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। আমরা জোটগতভাবেই নির্বাচনটা করব, যেন নির্বাচনে ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারি। সময়ই সবকিছু বলে দেবে। জোটগতভাবে হওয়া না হওয়ার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য দেশব্যাপী দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিচ্ছি। চূড়ান্ত করছি। এরপর উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকে কারও সঙ্গে জোটবদ্ধতার প্রসঙ্গ আসলে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেব।
এশিয়া পোস্ট: স্থানীয় নির্বাচনে আপনার নির্বাচন করার পরিকল্পনা আছে?
মামুনুল হক: না। নির্বাচন করার মতো সিদ্ধান্ত নিইনি।
এশিয়া পোস্ট: ২০২০ সালে ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন আপনি। এর বিরুদ্ধে সবসময় সরব ছিলেন। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে শাপলা চত্বরের শহীদসহ অনেকের ভাস্কর্য আছে। সেগুলোর মুখাবয়ব মুছে দিতে বলেছেন। ভাস্কর্য অপসারণে আন্দোলনের পরিকল্পনা আছে?
মামুনুল হক: কিছু বিষয় আন্দোলনের মাধ্যমে এবং কিছু বিষয় দাওয়াতের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করি। ইসলামবিরোধী যে কোনো কার্যকলাপকেই সবসময় আন্দোলনের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিই না। আন্দোলনের মাধ্যমে ইসলামবিরোধী ওই সব তৎপরতাকেই মোকাবিলা করি, যা বৃহৎ আকারে জাতীয় পর্যায়ে সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। অতীতে যেসব ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, সেগুলো জাতীয় পর্যায়ের ছিল। সেগুলো ছিল ইসলামি কালচারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, কালাচারাল আগ্রাসন। সেই আগ্রাসনের মোকাবিলায় সেটাকে একটা বড় রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপান্তরিত করেছি। কিন্তু এই ধরনের ক্ষুদ্র পরিসরের ভাস্কর্য, দেশে এর আগে থেকে অনেক ঐতিহাসিক স্পটে আছে, সেগুলো প্রতিহত করি দাওয়াতের মাধ্যমে। সবকিছুকে আন্দোলন বা রাজনৈতিক কর্ম তৎপরতার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে চাই না। তাহলে সাধারণ মানুষ আমাদেরকে অনেক বেশি মারমুখী মনে করবে। সাধারণ মানুষ ভুল মেসেজ পাবে।
জুলাই জাদুঘরের বিষয়টি আমাদের অনুরোধের জায়গা। দাওয়াতি জায়গা। শাপলার চেতনার সঙ্গে যারা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, এই চেতনার যারা ধারক, তাদের আন্দোলনকে যখন সেখানে প্রদর্শন করা হবে, তাদের চিন্তা, আদর্শ, বিশ্বাস ও বোধকে সম্মান জানানোটা জরুরি মনে করি। সেই জায়গা থেকে আমাদের দাওয়াত এবং পরামর্শ হলো, যেন প্রাণীর মুখাবয়ব যেন মুছে ফেলা হয়। তবে এটা নিয়ে আন্দোলন করব না।
এশিয়া পোস্ট: বর্তমান সরকারের প্রতি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অবস্থান কী—সহযোগিতা, সমালোচনা নাকি ইস্যুভিত্তিক সমর্থন?
মামুনুল হক: সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপকে ভিন্ন ভিন্নভাবে বিবেচনা করব। সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে সরকারের যে ভূমিকা, এটাকে অকুণ্ঠভাবে সমর্থন জানাচ্ছি। কিন্তু গণভোটের রায় কার্যকর নিয়ে সরকারের ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ করছি। সরকারের যে ভূমিকাটা দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণকর মনে করব, সেটাকে সমর্থন দেব, সহযোগিতা করব। দেশ, ইসলাম ও জাতির জন্য যেটা ক্ষতিকর মনে করব, সেটার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধাচরণ করব।
এশিয়া পোস্ট: কওমিয়ানদের স্বার্থরক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?
মামুনুল হক: আমি কওমির সন্তান। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে দেশের সব শ্রেণিপেশা, ধর্ম-বর্ণ সবার জন্যই কাজ করব। আমি বিশেষ ঘরানার প্রতিনিধিত্ব করতে চাই না। তবে আমি কওমির সন্তান হওয়াই আমি তাদের দ্বারা প্রভাবিত হব, তারা আমার দ্বারা অনুপ্রাণিত হবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমাদের কওমি থেকে প্রতিনিধিত্বকারী যেসব নেতারা আছেন, তাদের আরও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দরকার। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা জাতীয় নেতৃত্বকে ঠিক সেভাবে প্রভাবিত করতে পারব না। আমার প্রধান লক্ষ্য, আমরা আমাদেরকে জাতীয় নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করব। রাজনৈতিকভাবে আমাদের নেতৃত্বকে সুসংহত করব।
এশিয়া পোস্ট: ১০ বছর পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে আপনি কোথায় দেখতে চান?
মামুনুল হক: বাংলাদেশের রাজনীতির একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে দেখতে চাই। অর্থাৎ একেবারে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল জায়গায় দেখতে চাই। অন্তত এমন একটা জায়গা যে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কেউ রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবে না।
এশিয়া পোস্ট: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মামুনুল হক: আপনাকেও ধন্যবাদ।



