‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ নীতির সঙ্গে কেন ট্রাম্পের বিশ্বাসঘাতকতা

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চললেও নিজ শিবিরের দীর্ঘদিনের মিত্রদের তোপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক ও প্রখ্যাত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসন সরাসরি অভিযোগ করেছেন, এই যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে ট্রাম্প তার নিজের ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলমান ইরান যুদ্ধের স্পষ্ট কোনো বার্তা ব্যাখ্যা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশেষে গত বুধবার যুদ্ধের সপক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন তিনি। তবে সে ভাষণেও তার বার্তা ছিল অস্পষ্ট। সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনার কথা জানাননি। বরং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরোধে থাকার দায় চাপিয়েছেন মিত্র দেশগুলোর ওপর। একই সঙ্গে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যও অস্বীকার করেছেন।
ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে যারা স্পষ্টভাবে সোচ্চার তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং ফক্স নিউজের সাবেক সঞ্চালক টাকার কার্লসন। বর্তমানে কার্লসন জনপ্রিয় ‘দ্য টাকার কার্লসন শো’ পডকাস্টটি পরিচালনা করেন।
‘টুডে, এক্সপ্লেইনড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্লসন সংবাদমাধ্যম ভক্স-এর সাংবাদিক নোয়েল কিংকে বলেন, এই যুদ্ধ কোনোভাবেই আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করে না। যদি এই যুদ্ধ কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করেও থাকে, তবে আমি তা জানতে পারলে খুশি হতাম।
কার্লসন জানান, তিনি সরাসরি ট্রাম্পের কাছে তার যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। তিনি বলেন, আমি গত এক মাসে ব্যক্তিগতভাবে তিনবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেছি এবং আমার যুক্তি তুলে ধরেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কোনো প্রভাব পড়েনি। আমি চেষ্টা করেছি। এরপর থেকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
সাক্ষাৎকারে কার্লসন কেবল যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেননি, বরং বর্তমান রক্ষণশীল আন্দোলনের ভেতর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ‘নাৎসি সমস্যা’ নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেছেন। এই উগ্রবাদী আদর্শের প্রসারে তার নিজের কোনো ভূমিকা আছে কি না, সে প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন তিনি। এছাড়া ট্রাম্পের কট্টর ‘মাগা’ সমর্থকরা কেন হঠাৎ যুদ্ধ সমর্থন করছেন এবং কার্লসন নিজে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন কি না—এমন সব চাঞ্চল্যকর বিষয় উঠে এসেছে এই আলোচনায়।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউসের চরম অনীহা
চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অনাগ্রহের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেছেন টাকার কার্লসন। তার মতে, খোদ ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই এই সংঘাতের সপক্ষে কোনো জোরালো অবস্থান ছিল না। তার দাবি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণভাবে ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, আমি কারও কাছ থেকেই এ ব্যাপারে কোনো সুসংগত যুক্তি শুনিনি। আমি খুব কাছ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং আমার জোরালো ধারণা হলো, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর থেকে এই যুদ্ধের জন্য খুব একটা স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ছিল না। প্রেসিডেন্ট নিজেই এটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারাও তাকে যুদ্ধে নামার জন্য কোনো চাপ দেননি, বরং তারা এই সংঘাত এড়ানোর পক্ষেই ছিলেন।
তাহলে কেন এই যুদ্ধে জড়াল যুক্তরাষ্ট্র?
হোয়াইট হাউসের অনীহা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কেন ইরানের বিরুদ্ধে এই ব্যয়বহুল ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হলো—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। টাকার কার্লসনের সরাসরি মত হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন মূলত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রবল চাপে।
কার্লসন বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং হাউসের স্পিকার মাইক জনসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল সরকার ওয়াশিংটনকে এই যুদ্ধের পথে ঠেলে দিয়েছে।
কার্লসন প্রশ্ন তোলেন, মাত্র ৯০ লাখ মানুষের একটি ক্ষুদ্র দেশের প্রধানমন্ত্রী কীভাবে ৩৫০ কোটি মানুষের পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিজের ইচ্ছামতো পরিচালিত করতে পারেন? যদিও ট্রাম্প নিজেই এই যুদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এই সিদ্ধান্ত ছিল ট্রাম্পের ‘ভয়াবহ ভুল’, তবে এর নেপথ্যে মূল চাবিকাঠি ছিল নেতানিয়াহুর হাতে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে কার্লসন জানান, ইসরায়েলি প্রতিনিধিরা হোয়াইট হাউসে গিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকুক বা না থাকুক, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সামনে দুটি মাত্র পথ খোলা ছিল—হয় ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়া, নয়তো তাদের কঠোরভাবে থামানো।
তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কেন ইসরায়েলকে থামাতে পারল না—তার ব্যাখ্যায় মার্কো রুবিওর একটি বক্তব্য তুলে ধরেন কার্লসন। রুবিও জানিয়েছিলেন, যদি ইসরায়েলকে একাকী ইরানের বিরুদ্ধে লড়তে দেওয়া হতো, তবে ইরান পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে পারস্য উপসাগরে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সাধারণ মার্কিন নাগরিক এবং বাণিজ্যিক স্বার্থগুলোকে গুঁড়িয়ে দিত। অর্থাৎ, নিজের নাগরিকদের জীবন ও স্বার্থ রক্ষার দোহাই দিয়ে শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর যুদ্ধ পরিকল্পনায় সায় দিতে বাধ্য হয় ট্রাম্প প্রশাসন।
ট্রাম্পের ‘অদূরদর্শী’ সিদ্ধান্ত
কার্লসন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধের ফলে ইরান দুর্বল হওয়ার বদলে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তার দাবি, যুদ্ধের সময় এবং কৌশল নির্ধারণে নেতানিয়াহুর ভূমিকা ছিল মুখ্য। ট্রাম্প যদিও কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে চূড়ান্ত আদেশ দিয়েছেন, কিন্তু ইসরায়েলি চাপই তাকে এই ‘ভুল সিদ্ধান্তে’ বাধ্য করেছে।
কার্লসন বলেন, আমি শুধু এটাই বলতে চাই, এই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। অধিকাংশ আমেরিকানও এটিকে ভুল মনে করেন বলে মত দিয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ইরান নিয়ে কথা বলছেন। সম্প্রতি ১৯৮৮ সালের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার পুনরায় সামনে এসেছে। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘আপনি যদি রাজনীতিবিদ হতেন, তবে আপনার মূল লক্ষ্য কী হতো?’ তিনি জবাবে বলেছিলেন, ‘আমি ইরানের প্রতি কঠোর হতাম। তারা মানসিকভাবে আমাদের পরাজিত করে আসছে এবং আমাদের একদল বোকা হিসেবে তুলে ধরছে। আমাদের কোনো সৈন্য বা জাহাজে যদি একটি গুলিও ছোড়া হয়, তবে আমি খারগ দ্বীপে আক্রমণ চালাব।’
তবে দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাম্প ইরানে ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের’ ঘোর বিরোধী ছিলেন। কার্লসন প্রশ্ন তুলেছেন, হঠাৎ করে এমন কী ঘটল যে ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে এলেন?
সাক্ষাৎকারে কার্লসন অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউসে বর্তমানে ‘সিরিয়াস’ বা দূরদর্শী কোনো মানুষের অভাব রয়েছে। তিনি মনে করেন, ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে আটকের সহজ সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত করেছে। ভেনেজুয়েলা থেকে পেন্টাগন মনে করেছিল কোনো বড় খরচ বা ক্ষতি ছাড়াই ক্ষমতা পরিবর্তন সম্ভব। কিন্তু ১০ কোটি মানুষের দেশ ইরানের ক্ষেত্রে যে সেই সমীকরণ খাটবে না, তা যুদ্ধের পাঁচ সপ্তাহেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।
কার্লসন পুরো যুদ্ধ নিয়ে তিনটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ কি অর্জনযোগ্য ছিল? যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো কোনো ধারণা ছিল? বিশ্বের জন্য ভালো কিছু ছিল?
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যুদ্ধের সিদ্ধান্ত পুরোটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত। এমন নয় যে, তিনি (ট্রাম্প) একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ইরানের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে গেলেন। প্রশ্ন হলো—এখন আপনি কী করবেন?
সাক্ষাৎকারে কার্লসনকে প্রশ্ন করা হয়, এই যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য নেই, ইরান থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই—এসব বিবেচনা করে আপনার কি মনে হয় যে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জ্ঞানী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?
কার্লসন জবাবে বলেন, অবশ্যই কোনো জ্ঞানী সিদ্ধান্ত নিতে দেখছি না। আমি মনে করি, ভেনেজুয়েলা এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ—সবই একটার পর একটা ঘটছে। তবে ভেনেজুয়েলা অভিযানই আমাদের ইরানের এই পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
কার্লসন অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানান, গত এক মাস ধরে কোনো সচেতন আমেরিকান শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না। যুদ্ধের ফলে ইরানের বিমান ও নৌবাহিনী ধ্বংস হলেও দেশটির আসল শক্তি এখন জ্বালানি। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে।
কার্লসন বলেন, ইরানকে সামরিকভাবে পঙ্গু করলেও তারা এখন জ্বালানি যুদ্ধের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারির তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা বেরিয়ে আসার পথ নেই বলে দাবি করেন কার্লসন। ইরানের ধর্মীয় নেতাকে হত্যার পর একে ‘বিজয়’ বলে ঘোষণা দিয়ে পালানোর কোনো সুযোগ দেখছেন না তিনি। তার মতে, এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র যত দ্রুত সম্ভব কম ক্ষতি নিয়ে বের হতে চায়, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে—ইরানকে আগের চেয়ে আরও বেশি প্রভাবশালী ও শক্তিশালী করে রেখেই হয়তো এই যুদ্ধের অবসান ঘটবে, যা আমেরিকার জন্য একটি কৌশলগত পরাজয় হতে পারে।
ইরাক যুদ্ধের ভুল আবারও করছেন ট্রাম্প
২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র যে কৌশলগত ভুল করেছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে ঠিক সেই একই পথে হাঁটছেন বলে মনে করেন কার্লসন। সাক্ষাৎকারে কার্লসনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল হোয়াইট হাউসে ‘বিচক্ষণ’ মানুষের অভাব নিয়ে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নীতি ও হোয়াইট হাউসের পরিস্থিতি নিয়ে চরম হতাশা ও বিস্ময় প্রকাশ করে কার্লসন বলেন, যুদ্ধের মতো সংকটকালীন মুহূর্তে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা অপ্রিয় সত্য মেনে নিয়ে সাহসের সাথে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রশাসনে তেমন মানুষের দেখা মিলছে না বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কার্লসন জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক এক মাস আগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তিনবার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প তার কোনো যুক্তিতেই কান দেননি। কার্লসনের ভাষায়, আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, কিন্তু তার কোনো প্রভাব পড়েনি। এরপর থেকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার আর কোনো যোগাযোগ নেই।
কার্লসনের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১৬ সাল থেকে প্রতিটি নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করে এসেছেন এবং একে একটি ‘বোকামি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। এমনকি রিপাবলিকান দল থেকে তার মনোনয়নের পেছনেও ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতার বড় ভূমিকা ছিল।
কার্লসন বলেন, যে প্রেসিডেন্ট বারবার বলেছেন যে, ইরাক যুদ্ধ ভুল ছিল, তিনিই কীভাবে আবারও একই ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন, তা আমার বোধগম্য নয়।
হোয়াইট হাউসে কর্মরত কর্মকর্তাদের ওপর কার্লসন পুরোপুরি আস্থা হারাতে চান না। তিনি মনে করেন, সেখানে এখনও এমন কিছু মানুষ আছেন যারা দেশের ভালো চান, অন্তত ‘পাগল’ নন। তবে মূল সমস্যাটি এখন আর যুদ্ধ নিয়ে নয়, বরং ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা প্রস্থান নিয়ে।
কার্লসনের প্রশ্ন, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এখন এই গোলকধাঁধা থেকে আমরা বের হব কীভাবে? এটি মোটেও সহজ কাজ নয়।
২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটন ও বাগদাদের পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে দেখা এই বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরান যুদ্ধের পরিণামও সেই একই রকম ভয়াবহ হতে পারে।