প্রধানমন্ত্রীর ১৫০ টাকার লাঞ্চ বনাম জিয়াউর রহমানের শাক-ডাল

সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ১৫০ টাকার লাঞ্চ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি জনমনে নিঃসন্দেহে পজিটিভ প্রভাব ফেলেছে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এই একই সংবাদ অনেক বেশি শক্তিশালী হিসেবে প্রভাবিত করার সুযোগ ছিল।
এ বিষয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। দুপুরের খাবার দেখেই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভক্ত হয়ে উঠেছিলেন একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। ওই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নিজেই আমাকে সেই ঘটনাটি শেয়ার করেন। তার নিজের লেখায় ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছে। ওই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও জাতীয় অধ্যাপক ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান।
ঘটনাটি ছিল এ রকম
নর্থ আমেরিকায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি করা ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম আলোচিত শিক্ষক ছিলেন। তরুণ এই শিক্ষক নর্থ আমেরিকা থেকে ফিরেছেন এবং গবেষণার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। তার সম্পর্কে অবহিত হন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। নিজের সরকারের গঠন প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পরামর্শ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় জিয়াউর রহমান তাকে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
ড. তালুকদার মনিরুজ্জামানের ভাষায়, ‘সামরিক সরকারের ওপর আমি ক্ষুব্ধ ছিলাম। একজন সেনা শাসকের সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ প্রথমেই ফিরিয়ে দেই। দ্বিতীয় আমন্ত্রণও গ্রহণ না করায় প্রেসিডেন্ট রেজিমেন্টের ফোর্স এসে আমাকে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে নিয়ে যান। বঙ্গভবনে পৌঁছালে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর জিয়াউর রহমান প্রথমেই আমাকে দুপুরের খাবারের জন্য আহ্বান জানান। বাসা থেকে তার খাবার এসেছে। ভাতের সঙ্গে শাক ও ডাল। খাবারের তালিকা দেখে আমার মন কিছুটা নরম হলো। আমি ভাবতে থাকলাম- একজন সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানের দুপুরের খাবারের তালিকা যদি এমন সাধারণ হয়, তাহলে লোকটার মন ভালো হতে পারে। ধীরে ধীরে তার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিলাম। জিয়াউর রহমান খুব সাধারণভাবে আমাকে বললেন, আমি একজন চাকরিজীবী। রাষ্ট্র ও রাজনীতি নিয়ে আমার জ্ঞান খুব সীমিত। আমার প্রতি মানুষের খুব আগ্রহ। আপনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। আমাকে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করুন। কীভাবে মানুষের জন্য ভালো কিছু করা যায়।’
ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান প্রথম দিকে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি জিয়াউর রহমানের কথাবার্তায় বিমোহিত হন। এরপর তার রাজনৈতিক দর্শনের তাত্ত্বিক জ্ঞান দিয়ে জিয়াউর রহমানের সরকারকে তিনি পরামর্শ দেন। এমনকি জিয়াউর রহমান গভীর রাতে ড. তালুকদার মনিরুজ্জামানের বাসায়ও চলে যেতেন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে। তাকে একাধিকবার সরকারের অংশ হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেই তিনি আনঅফিসিয়ালি জিয়াউর রহমানের সরকারকে পরামর্শ দিয়ে গেছেন।
এই ঘটনাটি কিন্তু জিয়াউর রহমান কিংবা তার কোনো কর্মকর্তা কোথাও প্রকাশ করেননি। এই কথাটি প্রফেসর ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান নিজে পত্রিকায় লিখেছেন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- একজন প্রেসিডেন্টের দুপুরের খাবারের ম্যানু দেখে একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ভক্ত হয়ে যেতে পারেন। আবার, এই বিষয়টিই অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে আদর্শ প্রচারে কাজে লাগতে পারে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই জিয়াউর রহমানের সন্তান। তিনি বাবার মতো করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং চলনে-বলনে-পোশাকে-আহারে সাধারণের প্রমাণ রাখছেন। কিন্তু এই কাজগুলোই অনেক ক্ষেত্রে মিডিয়া সেল কিংবা প্রধানমন্ত্রীর নিজের লোকদের মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। আবার, কোনো কোনো ক্ষেত্রে খুবই হালকাভাবে প্রকাশ পাওয়ায় তা উল্টো নেগেটিভভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত হচ্ছে।
আশা করবে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার এমন অনেক গুণের সমন্বয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ বয়ে আনতে সচেষ্ট থাকবেন এবং প্রকৃতভাবেই বাংলাদেশের মানুষ যেন তা অনুধাবন করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করতে আমরা সক্ষম হব। নতুন বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের প্লান বাস্তবায়ন ও নিত্যদিনের অবিরাম ছুটে চলায় দেশবাসীর অংশগ্রহণ আরো কার্যকর হোক, এই প্রত্যাশা করি।
লেখক: ব্রিটেনের সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও সাংবাদিক।
[প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার ও প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণের প্রতিফলন। এগুলো এশিয়া পোস্টের সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সঙ্গে সর্বদা মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখায় উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের যথার্থতা ও মতামতের দায়িত্ব লেখকের নিজস্ব; এ বিষয়ে এশিয়া পোস্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ।]