logo

নতুন সরকারের এক মাস: উদ্যোগের চমক নাকি বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ?

নতুন সরকারের এক মাস: উদ্যোগের চমক নাকি বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ?

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের এক মাস পার হয়েছে। বিগত এক মাসে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নানা গতিশীল উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রশাসন থেকে অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা থেকে জনসেবার নানা খাতে একধরনের সক্রিয় উপস্থিতির বার্তা দিচ্ছে শুরু থেকেই। স্বল্প সময়ের মধ্যে এমন বহুমাত্রিক কর্মতৎপরতা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে একদিকে যেমন আশার সঞ্চার করেছে, অন্যদিকে সরকারের ওপর তৈরি করেছে প্রত্যাশার চাপ।

কথায় আছে ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ অর্থাৎ দিনটি কেমন যাবে তা সকালেই বোঝা যায়। সে রকমভাবে একটি সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম কয়েক সপ্তাহই বলে দেয়, তাদের সামনের দিনগুলো কেমন হতে যাচ্ছে। একটি সরকার কেবল প্রতিশ্রুতির ভাষায় কথা বলবে, নাকি কাজের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করবে, সেটাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে মোটামুটি প্রথম দিকেই। এ কারণে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের প্রথম ২৮ দিন তাই স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই সময়টুকুতে সরকার যে কর্মতৎপরতা দেখিয়েছে, তা একদিকে যেমন আশাবাদ তৈরি করেছে, অন্যদিকে বাস্তবতা ও সক্ষমতা নিয়েও উত্থাপন করেছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রশ্নের সরকারের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। 

প্রথম ২৮ দিনের পদক্ষেপগুলোতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে়ছে যে, সরকার দ্রুত একটি দৃশ্যমান প্রভাব তৈরি করতে চায়। এই লক্ষ্যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করে হাজার হাজার পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সেবকদের জন্য সম্মানি প্রদান এবং ঈদকেন্দ্রিক সহায়তা কর্মসূচি সরকারের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়। একইসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থার উদ্যোগ সামাজিক কল্যাণ কাঠামোকে আরও সংগঠিত করার আনুষ্ঠানিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে কৃষিঋণ মওকুফ, কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্যোগ এবং দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস, এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল এবং অফিস শৃঙ্খলায় কড়াকড়ি আরোপের মতো পদক্ষেপ সরকারের একটি সংযমী ও দায়বদ্ধ চেহারা তুলে ধরতে চেয়েছে।

অর্থনীতিতে বাজার মনিটরিং, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ শিল্প খাতে আস্থা ফেরানোর আন্তরিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। পাশাপাশি বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুজ্জীবন এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন উদ্যোগ তৈরির পরিকল্পনা কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ভর্তি ফি বাতিল, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা, শিক্ষক নিয়োগ এবং ক্রীড়া-সংস্কৃতিভিত্তিক কর্মসূচি তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল ভাবনার প্রতিফলন। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে ই-হেলথ কার্ড ও বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত অভিযানসহ নানা উদ্যোগ জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা জাগায়।

আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি দমন, নারীর নিরাপত্তা জোরদার এবং পিংক বাস চালুর উদ্যোগ নগরজীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংযম, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং বিমানবন্দর ও পরিবহন খাতে সেবা উন্নয়নের মতো পদক্ষেপ রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি শৃঙ্খলাবোধ প্রতিষ্ঠার বার্তা দেয়।

তবে এই বিস্তৃত কর্মতালিকার মাঝে প্রশ্ন ওঠে এই গতি আসলে কতটা টেকসই? সবচেয়ে বড় সমালোচনা সামনে আসে অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে। এতগুলো বড় প্রকল্প একসঙ্গে চালু করতে যে বিপুল অর্থ প্রয়োজন, তার উৎস ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনও পরিষ্কার নয়। অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে প্রাথমিক সাফল্যই পরে সমস্যার কারণ হতে পারে। আপাতত দৃষ্টিতে সরকারের সব উদ্যোগ সাধুবাদ পেলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি উদ্যোগের সামনেই রয়েছে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ। 

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বা ভর্তুকি সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানো, দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জনের মতো বিষয়গুলোর প্রশ্নে অতীত অভিজ্ঞতা খুব আশাব্যঞ্জক নয় আমাদের। ফলে ঘোষণা এবং সূচনার চেয়ে বাস্তব ফলাফলই এখানে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

অর্থনৈতিক খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও বিনিয়োগকারীরা কেবল নীতিগত ঘোষণা দেখে সিদ্ধান্ত নেয় না। বিনিয়োগকারীরা দেখে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন এবং নীতির ধারাবাহিকতা। এই জায়গাগুলোতে দৃশ্যমান উন্নতি না হলে প্রত্যাশা অনুযায়ী বিনিয়োগ নাও আসতে পারে।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উদ্যোগগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। সব খাতে একসঙ্গে গতি আনতে গেলে অনেক উদ্যোগই মাঝপথে থেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের মতো কাঠামোগত সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার কথা বলা যত সহজ, কাজ তত সহজ নয়। এরজন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ।

গত ২৮ দিনে গৃহীত নানা পদক্ষেপে এটা স্পষ্ট যে, এই সরকার দ্রুত কাজ করতে চায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফলতা নির্ভর করবে এই উদ্যোগগুলো কতটা গভীরভাবে বাস্তবায়িত হয়, কতটা টেকসই হয় এবং সবচেয়ে বড় কথা এই গতি সময়ের সঙ্গে ধরে রাখা যায় কি না, তার ওপর।

আরেকটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে গেলে আবেগের বাইরে এসে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন তুলতেই হয়।

প্রথমত, ২৮ দিনে ২৮টি বড় উদ্যোগ—এটি রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় হলেও প্রশাসনিক বাস্তবতায় এ উদ্যোগ কতটা টেকসই? যেমন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এসব প্রকল্পের প্রতিটিই বিশাল আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দাবি করে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই উদ্যোগগুলোর জন্য অর্থের উৎস কী? বাজেট পুনর্বিন্যাস, বৈদেশিক সহায়তা, নাকি ঋণনির্ভরতা? যদি অর্থায়নের কাঠামো পরিষ্কার না হয়, তাহলে প্রাথমিক উদ্যম পরে অর্থনৈতিক চাপে ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

দ্বিতীয়ত, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো নিঃসন্দেহে জনবান্ধব, কিন্তু এগুলোর টার্গেটিং ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে অতীতে বহু ভর্তুকি ও সহায়তা কর্মসূচি রাজনৈতিক প্রভাব, মধ্যস্বত্বভোগী এবং তালিকা প্রণয়নের দুর্বলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। সেক্ষেত্রে ডিজিটাল ডাটাবেজ, স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহিতা এবং স্বাধীন মনিটরিং ব্যবস্থা ছাড়া এই উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তৃতীয়ত, প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ভিভিআইপি প্রটোকল কমানো, এমপিদের সুবিধা বাতিলের মতো পদক্ষেপ প্রতীকীভাবে বেশ শক্তিশালী। এগুলো জনমনে ইতিবাচক বার্তা দেয়। কিন্তু শুধু প্রতীকী পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। প্রকৃত সুশাসন নির্ভর করে প্রকৃতার্থেই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর। যেমন, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা, পুলিশ ও প্রশাসনের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা। এই জায়গাগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ জীবনযাপন কেবল জনপ্রিয়তা অর্জনের হাতিয়ার হয়ে থাকতে পারে।

চতুর্থত, অর্থনৈতিক খাতে নেওয়া নানা পদক্ষেপ, বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ, রপ্তানিমুখী শিল্পে সহায়তা, বন্ধ শিল্প পুনরুজ্জীবন এসব সবই ইতিবাচক পরিবর্তন নির্দেশ করে। তবে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা শুধু নীতিগত সুবিধা নয়, বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা খোঁজে। দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলেও বিদেশি বিনিয়োগ আসতে সময় লাগে, কারণ বিনিয়োগকে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার হয়ে তবেই দেশে আসতে হয়। এখানে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি করলে অচিরেই তা হতাশায় রূপ নিতে পারে।

পঞ্চমত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ঘোষিত উদ্যোগগুলো সংখ্যায় বড় হলেও এগুলো বাস্তবায়ন যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ। ৯ হাজার শিক্ষক বা ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, এগুলো শুধু নিয়োগের ঘোষণা নয়। এর সঙ্গে  জড়িয়ে আছে নানাকিছু। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো, বেতন কাঠামো, তদারকি এগুলো সবই শুধু কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে করতে হয়। তাই এই উদ্যোগগুলোকে শুধু শুরু হিসেবে দেখাই যুক্তিযুক্ত। 

ষষ্ঠত, আইনশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজি দমনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতির গভীর একটি সমস্যা। কেবল নির্দেশনা বা অভিযানে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলেও দলীয় প্রভাবমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ধারাবাহিকতা ছাড়া এটি টেকসইভাবে বন্ধ করা কঠিন।

সকল প্রশ্ন ছাপিয়ে সরকারের গত ২৮ দিনের কর্মতালিকা ভালোভাবে খেয়াল করলে যে সারমর্ম দাঁড়ায়, তা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত চমকপ্রদ এটা বলা যায়। জনগণ পরিবর্তন দেখতে চায় এবং সরকার যেন যে কোনোভাবে সেই পরিবর্তন দেখাতে উন্মুখ। এগুলো হলো জনতুষ্টিমূলক পদক্ষেপ। 

রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এ পদ্ধতি কার্যকর হলেও জুলাইয়ের পরে যে আকাঙ্খা মানুষের মনে তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে এ অবস্থা যথেষ্ট সাংঘর্ষিক। কারণ, রাষ্ট্র সংস্কার এবং বিচারের প্রশ্নে সরকারকে দৃশ্যত কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি এখনও। উল্টো ফ্যাসিবাদের বিভিন্ন চিহ্নিত দোসরদের জামিন দিচ্ছে আদালত। বিভিন্ন জায়গায় সরকারি দলের ছত্রছায়ায় খুলছে তাদের অফিস। যা নিয়ে জনমনে তৈরি হচ্ছে নানা প্রশ্ন।

বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও গণভোটের রায় মেনে জনরায় অনুসারে রাষ্ট্র সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। উল্টো গণভোট প্রশ্নে সরকারের অবস্থান নির্বাচনের আগে এবং পরে ব্যাপকভাবে দ্বিমুখী বলেই মনে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এসব ভালোভাবে নিচ্ছে না। গণভোট এবং জুলাইয়ের জনআকাঙ্ক্ষা হিসেবে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রশ্নে দ্রুত নিজের অবস্থান স্পষ্ট না করলে সরকারের সকল উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

সুতরাং, সরকারের উচিত অন্যান্য উদ্যোগের পাশাপাশি দ্রুত জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্ম পরিকল্পনা সাজানো। পরিবর্তনের যে আশা নিয়ে সরকারের ওপর আস্থা রেখেছে মানুষ, মানুষের সেই আশা এবং প্রত্যাশাকে সম্মান দিতে হবে। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে পাশ কাটিয়ে সামনে যাওয়া কঠিন হবে সরকারের জন্য। কারণ, ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সচেতন। জুলাই মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে। মানুষ প্রশ্ন করা শিখে গেছে। মানুষের এসব প্রশ্নকে উপেক্ষা করে আগের মতোই গতানুগতিক ধারায় দেশ পরিচালনা করতে চাইলে হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা আছে অচিরেই।  

লেখক: কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক অর্থনীতি বিভাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ