logo
Advertisement

মিডল ইস্ট আইয়ের কলাম/মক্কা চুক্তি: মুসলিম ন্যাটো নাকি আরও একটি বাগদাদ চুক্তি?

জোসেফ মাসাদ
মক্কা চুক্তি: মুসলিম ন্যাটো নাকি আরও একটি বাগদাদ চুক্তি?
মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান (বাম থেকে), সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো এক স্বপ্নকে আবার জাগিয়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চলের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় মধ্যপ্রাচ্য, আরব বা কোনো মুসলিম জোটকে নিজেদের অধীনে কাজে লাগানোর এই খায়েশ বহু পুরোনো।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলপন্থি বেশ কিছু বিশ্লেষক এই চুক্তিটিকে ইসরায়েলবিরোধী জোট হিসেবে ভুলভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। অন্য অনেকে আবার ভাবছেন, সৌদি আরব ও তার আরব প্রতিবেশীদের নিরাপত্তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আর তাই হয়তো রিয়াদ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নতুন অংশীদার খুঁজছে।

তবে সত্যটা হলো, মক্কা চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সেই পুরোনো স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার নীতিরই এক নতুন রূপ। যেখানে তাদের মূল লক্ষ্য পশ্চিমা-বান্ধব সরকারগুলোকে টিকিয়ে রাখা, মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করা এবং তাদের অলিখিত মিত্র ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই, এই চুক্তির মূল নিশানা হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শত্রুরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনটি দেশ ‘অবশেষে সম্প্রতি এটি স্বাক্ষর করায়’ তিনি ‘খুবই খুশি’ বলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

চুক্তি-পাগলামি বা ‘প্যাক্টোম্যানিয়া’

নতুন এই মক্কা চুক্তিটি ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত সেন্ট্রাল ট্রিটি অরগানাইজেশন (সেন্টো) বা ভুলবশত ‘বাগদাদ চুক্তি’ নামে পরিচিত জোটের আদলে তৈরি।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট আইজেনহাওয়ারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন ফস্টার ডালস তার বিশ্বব্যাপী ‘চুক্তি করার বাতিক’ বা ‘প্যাক্টোম্যানিয়া’র জন্য বেশ পরিচিত ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলা করতে তিনি এই বাগদাদ চুক্তি গড়ে তুলেছিলেন। সেই জোটের সদস্যরা ছিল ব্রিটেন, তুরস্ক, ইরানের শাহের শাসন আমল, পাকিস্তান এবং ইরাকের হাশেমীয় রাজতন্ত্র।

আমেরিকানরা জর্ডানকেও এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু জর্ডানের তৎকালীন রাজা হুসাইনের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দেশের জাতীয়তাবাদী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জনগণের তীব্র প্রতিবাদের কারণে তা ব্যর্থ হয়। জামাল আবদেল নাসেরের মিশরও এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি তখনকার হাশেমী রাজবংশবিরোধী সৌদি আরবও এতে যোগ দেয়নি।

পরবর্তী সময়ে ১৯৫৭ সালের জানুয়ারি মাসে আইজেনহাওয়ারের নীতি বা ডকট্রিন ঘোষণা করা হয়। এই ডকট্রিনের আড়ালে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের পথ সহজ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট আইজেনহাওয়ার সে সময় দাবি করেছিলেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন বা কমিউনিস্টদের হাত থেকে ‘মুক্ত’ দেশগুলোকে রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

আইজেনহাওয়ার তখন জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য হলো তিনটি মহান ধর্ম—ইসলাম, খ্রিষ্ট ও ইহুদি ধর্মের জন্মস্থান। মক্কা ও জেরুজালেম কেবল মানচিত্রের কোনো সাধারণ স্থান নয়। এগুলো এমন সব ধর্মের প্রতীক, যা শেখায় যে জড়বস্তুর ওপর আত্মার আধিপত্য রয়েছে। মানুষের নিজস্ব মর্যাদা ও অধিকার রয়েছে, যা কোনো স্বৈরাচারী সরকার কেড়ে নিতে পারে না। তাই মধ্যপ্রাচ্যের পবিত্র স্থানগুলো যদি নাস্তিক্যবাদী বস্তুবাদী শাসনের অধীনে চলে যায়, তবে তা মেনে নেওয়া যায় না।’

তখন পূর্ব জেরুজালেম জর্ডানের অংশ ছিল। ১৯৫০ সালে জর্ডান এটিকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে নেয়।

এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আইজেনহাওয়ার নীতির সহায়তায় মক্কা ও ইসরায়েলের দখলে থাকা জেরুজালেম এখন ‘নাস্তিক্যবাদী’ নয়, বরং এক ধরনের ‘আস্তিক্যবাদী পুঁজিবাদী বস্তুবাদী’ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

১৯৫৮ সালে ইরাকে বিপ্লবের পর দেশটি এই চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। তা সত্ত্বেও আরও দুই দশক বাগদাদ চুক্তি টিকে ছিল। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান এই জোট থেকে বেরিয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই আঞ্চলিক সামরিক জোটের প্রধান সংযোগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং জোটের বিলুপ্তি ঘটে।

তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘ন্যাটো’ স্টাইলের জোট গড়ার স্বপ্ন কখনো ত্যাগ করেনি। ২০০৬-০৭ সালের দিকে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনডোলিৎসা রাইস মধ্যপ্রাচ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সামরিক জোট গড়তে চেয়েছিলেন। সে সময় তিনি সৌদি আরব, মিশর ও জর্ডানকে এক জোটে আনতে পারলেও প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করার সময় তখনো পরিপক্ব ছিল না।

ন্যাটোর পুনর্জন্ম

ইসরায়েলকে এই সামরিক জোটে যুক্ত করার উদ্যোগটি সফল হয় ২০২২ সালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরানের বিরুদ্ধে একটি আরব-ইসরায়েল সামরিক জোট গঠিত হয়। ইসরায়েলের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্তজ একে ‘মিডল ইস্ট এয়ার ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ (মেড) হিসেবে ঘোষণা করেন। অনেকে একে ‘মধ্যপ্রাচ্যের ন্যাটো’ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন।

এর পরপরই জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ মার্কিন একটি টেলিভিশনে ঘোষণা করেন, তিনি ‘মধ্যপ্রাচ্য ন্যাটোর প্রথম সমর্থকদের একজন হবেন’। একই সঙ্গে তিনি এই জোটে আরও বেশি দেশকে দেখতে চান বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

সে সময় এই সামরিক জোটের নিশানা ছিল ইরান, আসাদের সিরিয়া, হিজবুল্লাহ, হামাস এবং পরোক্ষভাবে রাশিয়া। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের ঠিক প্রাক্কালে এই জোট সম্পূর্ণভাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আওতাভুক্ত হয়।

মক্কা চুক্তির ঘোষণার ঠিক কয়েক দিন আগে, অর্থাৎ ৩০ জুলাই সৌদি আরব আরও ১৩টি দেশকে নিয়ে রিয়াদে একটি নতুন সামরিক জোট গঠন করে। এই জোটে ছিল বাহরাইন, বাংলাদেশ, কমোরোস, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক এবং ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত এডেন সরকার।

লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ (হুতি) আন্দোলনের ক্রমাগত হামলা থেকে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পথ সুরক্ষিত রাখতে ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ (এমএমডিএ) নামের এই জোটটি গঠন করা হয়।

এই জোটটি আসলে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’-এরই একটি নতুন সংস্করণ। গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালানোয় হুতিদের শাস্তি দিতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অভিযান শুরু করেছিল।

সেই অভিযানে ২০টি দেশ অংশ নিলেও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাহরাইন সরাসরি যোগ দিয়েছিল। অন্য প্রতিবেশী দেশগুলো নিজেদের আড়ালে রাখতে এবং ইসরায়েলি গণহত্যার সরাসরি সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ভয়ে পিছু হটেছিল।

নতুন গঠিত এমএমডিএ জোটটি এবার সেই জড়তা দূর করেছে। কারণ এটি ইসরায়েলি জাহাজ নয়, বরং সৌদি জাহাজে হুতিদের হামলা প্রতিহত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র মিশর এবং জর্ডান কেন এই নতুন মক্কা চুক্তিতে যোগ দেয়নি?

মিশর এখনো তাদের লাভক্ষতি হিসাব করছে বলে জানা গেছে। তবে জর্ডান ও মিশরের অনুপস্থিতি হয়তো ইঙ্গিত করে যে, বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশগুলো ভয় পাচ্ছে—কখনো যদি মিশর বা জর্ডান ইসরায়েলি হামলার মুখোমুখি হয়, তবে এই জোটের ওপর তাদের রক্ষার দায় এসে পড়তে পারে। ইসরায়েলের বর্তমান যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে জর্ডান ও মিশরের ওপর হামলার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিকল্প নয়, পরিপূরক

অন্যদিকে, ইসরায়েলপন্থি কিছু বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, এই নতুন চুক্তিটি ইসরায়েল এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা তাদের নতুন মিত্রদের স্বার্থে আঘাত হানতে পারে। কারণ এই চুক্তিতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের গবেষক স্টিভেন এ কুকের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কারণে এই অঞ্চলের অনেক দেশ এখন হয়তো ভাবছে, ইরানের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের ফেলে চলে যাবে কি না।

কুক আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সৌদি আরব যখন মার্কিন প্রতিশ্রুতির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান, তখন তারা অন্য পথ খুঁজছে। তাদের নতুন সহযোগীরা হয়তো এমন এক নতুন ব্যবস্থার খোঁজ করছে যেখানে ওয়াশিংটন নয়, বরং তারা নিজেরা এই অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণ করবে।

তবে এই ধারণার ভিত্তিটি দুর্বল। কারণ তুরস্ক নিজেই ন্যাটোর সদস্য এবং জোটের অন্য দুটি দেশও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। এই তিন মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের মতামত ছাড়া সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং ওয়াশিংটনের সবুজসংকেত ছাড়া এমন একটি জোট গড়তে পারবে—তা অবাস্তব।

তাই কুকের এই আশঙ্কাই সত্য যে, মধ্যপ্রাচ্য হয়তো এখন দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। এক পক্ষে থাকবে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের দেশগুলো এবং অন্য পক্ষে মক্কা চুক্তির সদস্যরা।

তবে মক্কা চুক্তিটি মূলত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের কোনো বিকল্প নয়, বরং এর একটি পরিপূরক মাত্র। এর বড় প্রমাণ হলো, তুরস্কের সঙ্গে এখনো ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবও বছরের পর বছর ধরে তেল আবিবের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে আসছে। অন্তত ১৯৮১ সাল থেকে সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের মূলধারায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

সৌদি আরব নিজেকে ইসরায়েলের শত্রু মনে করে না এবং ইসরায়েলও সৌদিকে শত্রু হিসেবে দেখে না। এদিকে পাকিস্তানও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী হতো, যদি না ইসরায়েল তাদের প্রধান শত্রু ভারতের বড় মিত্র না হতো।

দোহার ‘মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাম অ্যাফেয়ার্স’-এর নির্বাহী পরিচালক খালিদ আল-জাবের এই চুক্তিকে ভিন্ন চোখে দেখছেন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব কমে যাওয়ার কারণে এই অঞ্চলে কেবল ইসরায়েল ও ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হতে পারত। মক্কা চুক্তিটি মূলত তৃতীয় একটি শক্তি গড়ে তোলার প্রাথমিক চেষ্টা, যার মাধ্যমে কোনো দেশের সঙ্গেই যুদ্ধ না জড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একচেটিয়া আধিপত্য রোধ করা সম্ভব।

তবে এই ধারণাটিও সঠিক নয়। মাত্র গত নভেম্বর মাসেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ওয়াশিংটনে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছেন। এর মাধ্যমে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই’ মর্যাদা লাভ করেছে এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।

তুরস্ক এখনো ন্যাটোর সক্রিয় সদস্য। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চুক্তি সই হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্বের’ প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাই মধ্যপ্রাচ্যে আদতে কোনো ‘তৃতীয় শক্তি’ বা ‘থার্ড পোল’ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মূলত, নতুন এই মক্কা চুক্তি ও এমএমডিএ জোটকে পুরোনো ‘বাগদাদ চুক্তি’রই একটি আধুনিক সংস্করণ বলা চলে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে একের পর এক গড়ে তোলা সামরিক জোটের ধারায় এটি নতুন সংযোজন মাত্র।

দিনের শেষে, এই জোটগুলোর প্রধান লক্ষ্য মার্কিন ও ইসরায়েলি ক্ষমতার প্রতি অনুগত থেকে এই অঞ্চলের ইসরায়েলবিরোধীদের প্রতিরোধ করা। এতে নতুনত্বের কিছু নেই। আর তাই তো ট্রাম্প অত্যন্ত খুশি হয়ে তিন স্বাক্ষরকারী দেশকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, ‘একটি বড়, সাহসী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।’ এর চেয়ে স্পষ্ট করে বলার আর কিছু নেই।


লেখক পরিচিতি

জোসেফ মাসাদ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আধুনিক আরব রাজনীতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস বিষয়ের অধ্যাপক। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও ইতিহাস নিয়ে অনেক বই ও গবেষণাধর্মী নিবন্ধ লিখেছেন।

[প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার ও প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণের প্রতিফলন। এগুলো এশিয়া পোস্টের সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সঙ্গে সর্বদা মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখায় উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের যথার্থতা ও মতামতের দায়িত্ব লেখকের নিজস্ব; এ বিষয়ে এশিয়া পোস্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ।]