logo
Advertisement

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে অভিন্ন ক্যারিয়ার কাঠামো প্রয়োজন

কৌশিক আজাদ প্রণয়
বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে অভিন্ন ক্যারিয়ার কাঠামো প্রয়োজন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি ছবি

বাংলাদেশে বর্তমানে ৪০টির বেশি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক তপশিলি ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে প্রায় ১০টি ব্যাংক ছাড়া বাকি অধিকাংশ ব্যাংকই বর্তমানে উচ্চ খেলাপি ঋণ বা NPL, দুর্বল ঋণ আদায় এবং আমানতের উচ্চ ব্যয় নিয়ে বাস্তবে সংকটে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সব বেসরকারি ব্যাংকের কর্মীদের ওপর লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক কাজের চাপও অত্যন্ত বেশি। একজন কর্মীর Annual Confidential Report বা ACR মূলত তার কর্মদক্ষতার ওপর নির্ভর করে, যা অনেকাংশেই নির্ধারিত হয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভিত্তিতে।

Advertisement

বাংলাদেশের অনেক বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক বছরের পর বছর ধরে, বিশেষ করে কোভিড ১৯ এর পর থেকে, নিয়মিতভাবে কর্মীদের পদোন্নতি প্রদান করছে না। অধিকাংশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং তাদের মুনাফাও কমেছে। ফলে পদোন্নতি দিলে প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, এই বিবেচনায় অনেক ব্যাংক সাধারণত পদোন্নতি দিতে আগ্রহী হয় না। এমন পরিস্থিতিতেও কিছু ব্যাংক কর্মীবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে তাদের কর্মীদের পদোন্নতি দিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে কর্মীদের মনোবল ও উৎসাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে ব্যাংকগুলো নিয়মিত ও স্বচ্ছ পদোন্নতি নীতি অনুসরণ করে। পাশাপাশি, সব ব্যাংকের সাংগঠনিক পদক্রম বা হায়ারার্কি এক নয়। বিভিন্ন ব্যাংকে পদগুলোর স্তর ও ডেজিগনেশনেও যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

এমনকি রাষ্ট্রায়ত্ব ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতেও পদগুলোর স্তর বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় অনেকটাই সীমিত। মাত্র দুই তিনটি বেসরকারি ব্যাংক জাতীয়করণকৃত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের কাছাকাছি ধরনের পদক্রম অনুসরণ করছে। সব ব্যাংকে একটি অভিন্ন ডেজিগনেশন হায়ারার্কি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ বিষয়টি দ্রুত বিবেচনা করা উচিত।

একজন নতুন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধাপ ও পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করে একটি ব্যাংকে যোগ দেওয়ার পর শুরুতে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বা কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত নাও থাকতে পারেন। তাই তার কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত।

একই সঙ্গে, একটি ব্যাংকের মুনাফা, আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য স্থিতিশীলতার সূচকের ওপর ভিত্তি করে বেতন কাঠামো ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু পদমর্যাদা, পদক্রম এবং সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো যতটা সম্ভব অভিন্ন হওয়া উচিত। এমনকি অ্যাসিস্টেন্ট জেনারেল ম্যানেজার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু হওয়া নির্বাহী পদগুলোর কাঠামোও সব ব্যাংকে একই হওয়া উচিত। অনেক ব্যাংক আবার এসব ডেজিগনেশন নন এক্সিকিউটিভ পদেও ব্যবহার করছে, যা কর্মীদের চাকরি পরিবর্তনের সময় বিভ্রান্ত করতে পারে এবং এ ধরনের অসামঞ্জস্য ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।


লেখক: ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক