গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্য কারণ

গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে পদ থেকে সরানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে যে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সেটির কারণ ছিল ৩ কর্মকর্তাকে বরিশাল, রংপুর ও বগুড়ায় বদলি। দাবি করা হয় তাদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে নতুবা গভর্নরকে পদত্যাগ করতে হবে।
তাদের কী কারণে বদলি করা হয়?
এই ৩ কর্মকর্তার বদলি ছিলো শাস্তিমূলক। কারণ তারা নির্বাচনের চারদিন পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক সংবাদ সম্মেলন ডেকে গভর্নরকে স্বৈরাচার আখ্যা দেন। তাদের মূল আপত্তি ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স দেওয়া, এসআইবিএল ও এক্সিম ব্যাংককে নতুন ৫ ব্যাংকে একীভূত করা।
কর্মকর্তারা কি এভাবে প্রেসে কথা বলতে পারেন?
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী গভর্নরের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন, সভা, সেমিনার, বক্তব্য বা বিবৃতি দিতে পারেন না। ফলে এটি বিদ্রোহের শামিল।
এই ৩ কর্মকর্তা কারা? এক্সিম ও এসআইবিএল নিয়ে তারা এত ডেসপারেট মুভ কেন নিলেন?
এই তিন কর্মকর্তা হলেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা।
এই ৩ জনই আওয়ামীপন্থি নীল দলের নেতা। গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের নির্বাচনে নীল দল নিরঙ্কুশ বিজয় পায়। ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদ পায় আওয়ামী লীগ ও ১টি পায় বিএনপিপন্থি সবুজ দল। স্বতন্ত্র পায় বাকি ৪টি।
আওয়ামী লীগের আমলে এক্সিম ব্যাংক কুক্ষিগত ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মজুমদারের কাছে এবং এসআইবিএল ছিল এস আলমের কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে এখনও আওয়ামীপন্থিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এস আলমসহ অন্যান্য লুটেরারা বিগত দুই দশকে ব্যাংকগুলো খালি করতে পেরেছিলেন।
আপডেট হলো নতুন গভর্নর নিয়োগের পর বদলিকৃত ৩ কর্মকর্তার বদলি আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে এটা অনুমান করা কি ভুল হবে যে আন্দোলনের নামে গভর্নর ও তার উপদেষ্টার বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি এবং এর আগে বিদ্রোহ, একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ— এসবকিছুই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে যোগসাজশে ঘটেছে। পুরো ঘটনা প্রবাহে সরকারের সায় কি স্পষ্ট নয়? না হয় নির্বাচনের পরপরই ৩ কর্মকর্তা বিদ্রোহ করে বসলেন কীভাবে? গভর্নর ভালনারেবল, এই ইঙ্গিত পেয়েই কি?
তবে কি অর্থনীতির মেরুদণ্ড ব্যাংকিং খাতে লুটেরারা আবারও হামলে পড়বে? দেখতে থাকি।
লিখেছেন : সাংবাদিক হাসান আল মাহমুদ