logo

গার্ডিয়ানের কলাম /আরও একটি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সব লক্ষণ বিদ্যমান

ল্যারি এলিয়ট
ল্যারি এলিয়ট
আরও একটি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সব লক্ষণ বিদ্যমান
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের (এনওয়াইএসই) পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা। ছবি: রয়টার্স

এই সেপ্টেম্বরে আবারও উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তেলের আকাশচুম্বী দাম পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বাড়িয়ে চলেছে।

বিশ্বজুড়ে সরকারি বন্ড বিক্রির হিড়িক পড়েছে। এআই খাতের প্রধানদের তরফ থেকে সতর্কবার্তা এসেছে যে, তাদের শিল্পে উন্নয়নের গতি শ্লথ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সব মিলিয়ে এগুলো আরেকটি সংকটময় সেপ্টেম্বরের উপাদান তৈরি করছে।

অবশ্য, এর সবই হয়তো একটি মিথ্যা অ্যালার্ম হতে পারে। আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর ইতোমধ্যে ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে এবং এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব বসন্তকালে যতটা মারাত্মক হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক কম দেখা গেছে।

বর্তমানে বন্ড বাজারকে যে ভয় গ্রাস করে আছে তা দ্রুত কেটে যাওয়া সম্ভব, বিশেষ করে যদি ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

তেলবাহী জাহাজগুলো শীঘ্রই আবারও হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে বলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত আশ্বাস ক্রুড অয়েলের দাম বৃদ্ধিকে সীমিত রেখেছে।

তবে কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যে ইরানের যুদ্ধ প্রভাব ফেলছে, যদিও প্রাথমিক ধারণার চেয়ে কিছুটা দেরিতে। ট্রাম্প যখন বলেন যে ইরানের সাথে একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে চলেছে, তখন বাজার আর তা বিশ্বাস করে না।

ফলে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারেরও বেশিতে পৌঁছে যাওয়ার কারণে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা জোরদার হয়েছে। এবং ক্রুড তেলের দাম আরও অনিয়ন্ত্রিত না হওয়া সত্ত্বেও রিফাইনিং বা শোধন ক্ষমতার ঘাটতির কারণে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম উচ্চপর্যায়েই রয়ে গেছে।

সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং সেপ্টেম্বর ২০০৮-এর মধ্যে কিছু মিল রয়েছে, তবে পার্থক্যও রয়েছে।

২০০৮ সালের ধস ছিল মার্কিন রিয়েল এস্টেটে অর্থায়নের জন্য ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ বাড়াবাড়ির ফল। এবার ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিতে থাকার সম্ভাবনা অনেক কম মনে হচ্ছে, এবং প্রযুক্তির শেয়ারে কিছু বিনিয়োগ ভবিষ্যতের মুনাফা সম্পর্কিত অবাস্তব ধারণার ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকলেও, এআই স্পষ্টতই একটি ইতিবাচক দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে যা ২০০৮-পূর্ব আবাসন খাতের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ছিল না। সব বুদ্বুদ বা 'বাবল' একই রকম মনে করা ভুল।

তবুও, ২০০৮ সালের ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে। একটি শিক্ষা হলো, আর্থিক সংকট যদি অর্থনৈতিক মন্দায় রূপ নেয় যেমনটি ১৮ বছর আগে হয়েছিল তবে প্রথাগত অর্থনৈতিক নীতি বাতিল হয়ে যায়।

তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সুদের হার বাড়ানো কিংবা অর্থ মন্ত্রণালয়গুলোর বাজেট ঘাটতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার কোনো কথা থাকবে না। প্রকৃতপক্ষে, ইউএস ট্রেজারি কর্তৃক সাম্প্রতিক বন্ড পুনঃক্রয় যা বন্ধকী সুদের হার, গাড়ি ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের ঋণের ঊর্ধ্বমুখী চাপ কমানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল তা যেমন ছিল আর্থিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা উদ্বিগ্ন তার একটি ইঙ্গিত। তেমনি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক সংকট তৈরি হলে তারা যে আরও জোরালো হস্তক্ষেপ করবে তার একটি আভাস।

বেশ কয়েকটি ট্রেড ইউনিয়ন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা আরও বেশি হস্তক্ষেপমূলক দৃষ্টিভঙ্গি চায়।

এখন না হলেও, আজ হোক বা কাল আরেকটি আর্থিক সংকট তৈরি হবে। মানুষ ভুলে যায়। তারা আত্মতুষ্ট হয়ে পড়ে। তারা আর্থিক বাজারের সেই চাপগুলোকে উপেক্ষা করে যেগুলোকে অতিরিক্ত বড় ও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তাই সাম্প্রতিক ঘটনাবলী কেটে গেলেও, আরেকটি 'সেপ্টেম্বর মেল্টডাউন' বা সেপ্টেম্বরের মহাধসের জন্য পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শুধু সতর্কতার খাতিরে।


লেখক পরিচিতি

ল্যারি এলিয়ট ইংরেজ সাংবাদিক ও লেখক, যিনি মূলত অর্থনৈতিক বিষয়াবলি নিয়ে কাজ করেন। তিনি গার্ডিয়ানের একজন কলামিস্ট।

[প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার ও প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণের প্রতিফলন। এগুলো এশিয়া পোস্টের সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সঙ্গে সর্বদা মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখায় উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের যথার্থতা ও মতামতের দায়িত্ব লেখকের নিজস্ব; এ বিষয়ে এশিয়া পোস্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ।]