সংকটে পাশে থাকা শিক্ষকই কেন অভিযুক্ত

গত ১৩ জুলাই কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে আসা প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীকে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে গোটা নগরী তলিয়ে গিয়েছিল, আর পরীক্ষার্থীদের কলেজ চত্বরে পৌঁছাতে সাহায্য করতে শেষ পর্যন্ত নামাতে হয়েছিল ছোট নৌকা আর ভ্যানগাড়ি।
দৃশ্যটি ছিল করুণ, কিন্তু তার চেয়েও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ ছিল সেই দৃশ্যের পেছনের ব্যবস্থাপনা—একটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি সরকারি কলেজে, যেখানে বছরের পর বছর ধরে পরীক্ষাকেন্দ্র চলছে, সেখানে সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই কেন প্রাতিষ্ঠানিক জীবন এভাবে অচল হয়ে পড়ে? ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় গণমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
কিন্তু তার ঠিক ১০ দিনের মাথায়, ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিল, তা সমস্যার সমাধান নয়, বরং সমস্যা আড়াল করার এক পুরনো প্রশাসনিক কৌশলের পুনরাবৃত্তি মাত্র; কলেজের উপাধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে একযোগে বদলি করে দেশের দূরবর্তী বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হলো।
এভাবে একযোগে সাতজন শিক্ষক বদলির ঘটনা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন। প্রশ্ন হলো, এই শাস্তির ভিত্তি কী? জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পরও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কি এই শিক্ষকদের হাতে ছিল?

বাস্তবতা হলো, পরীক্ষা চলবে কি বন্ধ থাকবে, নাকি বিকল্প কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হবে—এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একক কোনো কলেজ শিক্ষকের হাতে থাকে না। শিক্ষা বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রে উপস্থিত থেকেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, এমনটাই জানিয়েছেন বদলি হওয়া শিক্ষকেরা। তাহলে সিদ্ধান্তের দায় কেন কেবল কেন্দ্র পরিচালনায় যুক্ত শিক্ষকদের ওপর বর্তাল? বোর্ড বা প্রশাসনের ওপর কেননয়? এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে নেই। এমনকি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিজেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বদলির আদেশে জলাবদ্ধতা বা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থার কোনো উল্লেখ না থাকায় তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না যে এটি সেই ঘটনার সঙ্গেই সম্পর্কিত কি না।
একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যখন নিজের সিদ্ধান্তের কারণ নিজেই স্পষ্ট করতে পারে না বা করতে চায় না, তখন সেটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার নয়, বরং ক্ষমতার নির্বিচার প্রয়োগের প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের সবচেয়ে মৌলিক নীতি হলো, কাউকে শাস্তি দেওয়ার আগে তার বক্তব্য শোনা এবং অভিযোগের বিপরীতে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া। এই ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল কি না, শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে নেই। যা প্রকাশ্য, তা হলো একটি ভাইরাল ছবি, গণমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়, আর তার প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক প্রজ্ঞাপন।
এই ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল সিদ্ধান্তগ্রহণ পদ্ধতি বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে নতুন নয়। যখনই কোনো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তোলে, তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তর প্রকৃত কাঠামোগত সমস্যা সমাধানের বদলে দৃশ্যমান একটি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে জনরোষ প্রশমনের চেষ্টা করে। এতে স্বল্প মেয়াদে সমালোচনার ঝড় থামে বটে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত দুর্বলতাগুলো অন্তরালেই থেকে যায়।
এই প্রবণতা বিশ্লেষণের একটি দরকারি কাঠামো এসেছে বিমান নিরাপত্তা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা থেকে। ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী জেমস রিজনের বহুল আলোচিত ‘সুইস চিজ মডেল’ ব্যাখ্যা করে, বড় কোনো দুর্ঘটনা সাধারণত একজন ব্যক্তির ভুলে ঘটে না, বরং কাঠামোগত একাধিক দুর্বলতার সমন্বয়ে ঘটে, যেখানে প্রতিটি স্তরের সুরক্ষাব্যবস্থার ফাঁকফোকর একে অপরের সঙ্গে মিলে গিয়ে দুর্ঘটনার পথ তৈরি করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দুর্ঘটনার পর প্রথম কাজ হওয়া উচিত মানবিক ভুল খোঁজা নয়, বরং কাঠামোগত ব্যর্থতা চিহ্নিত করা—নিষ্কাশন ব্যবস্থা কেন কাজ করল না, বিকল্প কেন্দ্র কেন প্রস্তুত রাখা হয়নি, পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও প্রস্তুতি কেন নেওয়া হয়নি। বিশ্বের অনেক দেশ পরীক্ষা-ব্যবস্থাপনায় এই নীতি অনুসরণ করে।
২০১৮ সালে কেরালায় ভয়াবহ বন্যার সময় ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পরীক্ষা বোর্ডগুলো বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে পরীক্ষাসূচি পুনর্বিন্যাস করেছিল এবং বিকল্প কেন্দ্র নির্ধারণ করেছিল, কোনো শিক্ষক বা কেন্দ্রসচিবকে প্রকৃতির বিরুদ্ধে ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহি করতে হয়নি। ফিলিপাইনেও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ অঞ্চলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় স্পষ্ট বিধান আছে, স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের ঘোষণার ভিত্তিতে বিদ্যালয় প্রধানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষাস্থগিতের ক্ষমতা পান, ব্যক্তিগত ঝুঁকি ছাড়াই। এসব দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়, শাস্তি নয়।
কুমিল্লার ঘটনায় সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক এর মানবিক প্রতিক্রিয়া। বদলির আদেশের পর শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসে, ছুটির দিনেও শতাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করে। বদলি হওয়া এক প্রবীণ শিক্ষক নিজেই আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে করজোড়ে অনুরোধ করেন যেন তারা প্রতিবাদ প্রত্যাহার করে নেয়, পাছে তার প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সমস্যা তৈরি করে। এই দৃশ্য শুধু আবেগঘনই নয়, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির নগ্ন প্রতিচ্ছবিও—যেখানে একজন শিক্ষক, যিনি নিজে অন্যায়ের শিকার, তাকেই আবার নিজের ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ থামাতে অনুরোধ করতে হয়, কারণ তিনি জানেন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলাটাই আরেকটি ঝুঁকি। এই ভয়ের সংস্কৃতি দীর্ঘ মেয়াদে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা ও মনোবলের ওপর গভীর ক্ষত রেখে যায়।
আরও গভীরভাবে ভাবলে দেখা যায়, এই বদলির আদেশ একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে। ভবিষ্যতে যেকোনো দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার মুখে শিক্ষক বা কেন্দ্রসচিবরা যদি বুঝে যান যে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলেও শাস্তি তাদেরই পেতে হবে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করবেন, অথবা আতঙ্কে এমন সিদ্ধান্ত নেবেন যা তাদের এখতিয়ারেই নেই। এতে সামগ্রিকভাবে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই একই ঘটনার মধ্যে একটি বৈপরীত্যও লক্ষণীয়। যেদিন কুমিল্লা নগরী পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল, সেদিন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিজে উদ্যোগী হয়ে ছোট নৌকা ও ভ্যানগাড়ি সংগ্রহ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কলেজের শিক্ষকেরাও নিজেরাই ছাত্রীদের হাত ধরে পানির মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। অর্থাৎ সংকটের মুহূর্তে স্থানীয় প্রশাসন ও কলেজ একযোগে একটি মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছিল।
অথচ দশ দিন পর কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া হলো সেই একই মানুষদের একাংশকে শাস্তি দেওয়া। যারা সংকটকালে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করে পরীক্ষা সম্পন্ন করালেন, শেষ পর্যন্ত তাদেরই ভুক্তভোগী হতে হলো—এই বৈপরীত্য বাংলাদেশের প্রশাসনিক জবাবদিহি-সংস্কৃতির একটি গভীর সংকটকে সামনে আনে। মাঠপর্যায়ে সংকট মোকাবিলাকারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার বদলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া কর্তৃপক্ষ তাদেরই শাস্তি দিলেন, যা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে একধরনের বিশ্বাসভঙ্গের জন্ম দেয়।
এই ঘটনা বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবনে বদলিকে শাস্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার একটি দীর্ঘদিনের প্রবণতারই সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা প্রশাসনিক ক্যাডারে বহুবার দেখা গেছে, কোনো ঘটনা সংবাদমাধ্যমে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়, যাতে জনসম্মুখে সক্রিয়তা প্রমাণ করা যায়। কিন্তু বদলি কোনো প্রকৃত শাস্তি নয়, বরং এটি সমস্যাকে ভৌগোলিকভাবে সরিয়ে দেওয়া মাত্র।
যে সাত শিক্ষককে কুমিল্লা থেকে সরিয়ে কক্সবাজার, নোয়াখালী, সিলেট বা বরগুনায় পাঠানো হলো, তারা সেসব জায়গাতেও শিক্ষকতাই করবেন, শুধু তাদের পরিবার, শিক্ষার্থী ও কর্মস্থলের সঙ্গে গড়ে ওঠা দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন হবে। প্রকৃতপক্ষে এই ধরনের বদলি প্রশাসনিক শাস্তি হিসেবে যতটা না কার্যকর, তার চেয়ে বেশি কার্যকর গণমাধ্যমের সমালোচনা প্রশমনের একটি জনসংযোগমূলক কৌশল হিসেবে।
যদি এই বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা না করা হয়, তাহলে এটি একটি অশুভ সংকেত রেখে যাবে দেশের অন্য সব পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনাকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য। আগামী বর্ষায় যখন অন্য কোনো জেলার কোনো পরীক্ষাকেন্দ্র একই রকম দুর্যোগের মুখে পড়বে, তখন সেখানকার শিক্ষকেরা কুমিল্লার এই দৃষ্টান্ত মনে রেখে আচরণ করবেন। কেউ হয়তো নিজের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে একতরফাভাবে পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে বসবেন আত্মরক্ষার তাগিদে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়াবে। ফলে এই ঘটনা শুধু সাতজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত ক্ষতির প্রশ্ন নয়, এটি গোটা শিক্ষা প্রশাসনের সংকট-ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাকেই দুর্বল করার আশঙ্কা তৈরি করে।
এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য ও কাঠামোগত সমাধান। প্রথমত, যেকোনো শাস্তিমূলক বদলি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শোনার প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বদলি বা শাস্তিমূলক আদেশে সুনির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে উল্লেখ থাকা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আপিল বা পর্যালোচনার সুযোগ থাকে। তৃতীয়ত, দুর্যোগ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত কার এখতিয়ারে থাকবে, তা শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালায় লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট করতে হবে, যাতে কেন্দ্রের শিক্ষকদের ওপর অন্যায় দায় না বর্তায়। চতুর্থত, সরকারি কর্মচারীদের জন্য শাস্তিমূলক বদলির বিরুদ্ধে আপিলের একটি স্বাধীন ও কার্যকর প্রক্রিয়া থাকা দরকার, যাতে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা যায়।
কুমিল্লার এই ঘটনা আসলে একটি বৃহত্তর সত্যের প্রতিফলন। বাংলাদেশের আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে জবাবদিহিতা প্রায়ই প্রতীকী, প্রকৃত নয়। একজন দৃশ্যমান বলির পাঁঠা খুঁজে বের করে জনরোষ প্রশমন করাই যেন সহজতম পথ, যখন প্রকৃত কাঠামোগত সংস্কার অনেক কঠিন ও সময়সাপেক্ষ পথ। কিন্তু একটি রাষ্ট্র যদি সত্যিকার অর্থে তার শিক্ষাব্যবস্থা ও তার সেবাদানকারীদের প্রতি ন্যায্য হতে চায়, তাহলে তাকে সহজ পথ ছেড়ে কঠিন পথটিই বেছে নিতে হবে— প্রকৃত দায় কোথায় তা খুঁজে বের করে সেই অনুযায়ী সংস্কার করতে হবে, কাউকে বলির পাঁঠা বানিয়ে নয়। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাতজন শিক্ষকের প্রতি যে অবিচার হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে নেওয়াই হবে সেই সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ।
লেখক: এম এম মুসা একজন উন্নয়নকর্মী ও গবেষক।
.png)





