logo

ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি নিয়ে প্রোপাগান্ডা/প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেন শেখ হাসিনার সঙ্গে মেলাবেন না

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেন শেখ হাসিনার সঙ্গে মেলাবেন না
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের একটি ছবি নিয়ে বেশ বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবিটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এবং তারেক রহমানের নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয় ৩ অক্টোবর। জাতিসংঘ সফরকালে একটি অনুষ্ঠানে এই ছবিটি তোলা। এআইয়ের যুগে এই ছবিটি নানাভাবে পরিবর্তন করে প্রোপাগান্ডা শুরু করে বিরোধী পক্ষ। প্রোপাগান্ডায় অংশ নেয় বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও বর্তমান বিরোধী দল জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা। অনেকে না বুঝে তামাশা করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে ৪ অক্টোবর ঢাকার ইউএস অ্যাম্বাসির অফিসিয়াল পেজ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই ছবিটি শেয়ার দিয়ে এই প্রোপাগান্ডিস্টদের মুখে ছাই ঢেলে দিয়েছে।

প্রশ্ন হলো কেন এই প্রোপাগান্ডা? এসবের পেছনের উদ্দেশ্য কী? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে এমন একটি বিপ্লবে ফ্যাসিবাদের পতনের পর কেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিতাড়িত শেখ হাসিনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে? কেন জামায়াতের কর্মীরাও বিতাড়িত আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্য গড়ে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে? এসব কিছুর শেষ কোথায়? তারেক রহমানকে ব্যর্থ করতে এত তৎপরতার পেছনে কারা, কোন শক্তি? এসব প্রশ্নের উত্তর যেমন জানা জরুরি, তেমনি তাদের প্রোপাগান্ডা রুখতে সরকার এবং দল হিসেবে বিএনপির করণীয় নিয়েও আরও সূক্ষ্ম চিন্তা-ভাবনা জরুরি।

মূলত, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান যে বিতাড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নন এবং তাকে ব্যর্থ করলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণ যে হুমকির মুখে পড়বে, দেশবাসীকে সেটা অনুধাবন করার সুযোগ তৈরি করতে হবে সরকারকে। উপরোক্ত বিষয়কে আমি তিনভাগে বিশ্লেষণ করতে চাই।

এক প্রথম প্রশ্ন হলো- তারেক রহমানকে কেন বিতাড়িত শেখ হাসিনার সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়? এ বিষয়ে আমি ২০১৩ সালে শেখ হাসিনার ভুয়া সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির সংবাদ প্রচারের বিষয়টি তুলে ধরতে চাই। সাংবাদিক হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে গিয়েছিলাম ওই বছর। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতেই শুনতে পেলাম, বাংলাদেশের তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ থেকে সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টির জানান দিলেন। বাংলাদেশের সব পত্রিকায় লিড নিউজ ছাপা হলো। শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে ৩২৫ সদস্যের জাতীয় কমিটি ঘোষণা করা হলো।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনিয়র সাংবাদিকের বরাতে আমি জানতে পারলাম, সংবাদটি সঠিক নয়। অনুসন্ধানে পাওয়া গেল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অ্যাওয়ার্ডের প্রাথমিক বাছাইয়েও তার নাম ছিল না। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ইন্টারভিউসহ তখন আমার দেশ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশিত হলো। সাহস করে কোনো পত্রিকা শুরুতে সংবাদটি প্রকাশ করেনি। মানবজমিন অনলাইন ও নিউএজ পত্রিকা পরবর্তীতে ফলো-আপ সংবাদ প্রকাশ করে। কিন্তু এর আগেই বাংলাদেশের অধিকাংশ পত্রিকা শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে পুরো বিশেষ সংখ্যা বের করে ফেলে। অবশ্য, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এ সংক্রান্ত সকল নিউজ ও অভিনন্দন বার্তাও প্রত্যাহার করা হয়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ায় তেমন হইচই লক্ষণীয় ছিল না। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী একটি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরে নিজের দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কিছু বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিজেও মিডিয়ায় অতিরঞ্জিত হইচই পছন্দ করেন না। আর তারেক রহমানের এই পছন্দ না করার বিষয়টি তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবেই সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ‘দেশনায়ক’, ‘রাষ্ট্রনায়ক’, ‘স্যার’ এসব উপাধিকে আনুষ্ঠানিকভাবেই তিনি ব্যবহারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে, এজন্যই শিরোনামে আমি লিখেছি, তারেক রহমানকে বিতাড়িত শেখ হাসিনার সঙ্গে তুলনা না করতে।

তারেক রহমান একজন ‘দেশপ্রেমিক’ জনগণের নেতা। এটি তিনি তার প্রতিটি পদক্ষেপে প্রমাণ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিও তার যে সহমর্মিতা তা উদাহরণ সৃষ্টি করে। যেমন- বাংলাদেশের এমন বিভাজিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেখানে জিয়াউর রহমানের লাশ তুলতে চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ, সেখানে তারেক রহমান গোপালগঞ্জে শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে গেছেন। এ বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক তথ্য পাঠকদের জানিয়ে রাখি। ২০১৪-১৫ সালের দিকে প্রতিনিয়ত ঐতিহাসিক রেফারেন্স দিয়ে তারেক রহমান লন্ডনে ধারাবাহিক বক্তৃতা করে যাচ্ছিলেন। এক দিন কিংসটন লজে আমাকে তিনি বলেন, ‘শোনো, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমরা যত কথাই বলি না কেন, তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে পারবে না। যদি ধরো, ১৯৭২ সালে শেখ মুজিব দেশে ফিরে ইন্দিরা গান্ধীকে তাদের সৈন্য ফিরিয়ে নিতে জোরালো অনুরোধ না করতেন, তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাস ভিন্নভাবে হয়ত লেখা হতো।’ এর মানে হলো- তারেক রহমান ঐতিহাসিক সত্যকে স্বীকার করেন এবং সেভাবেই পারস্পরিক সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন।

সংক্ষেপে, আরেকটি ঘটনা বলি। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা বিজয় নিয়ে শেখ হাসিনা ব্যাপক প্রচারণা করেন ২০১৪ সালে। প্রকৃতপক্ষে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা মামলায় ডা. দীপুমনি দেশের সঙ্গে মীরজাফরি করেছেন। ভারত যা চেয়েছে, তার চেয়েও বেশি কিছু দিয়ে এসেছে। এ বিষয় নিয়ে আমার একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল। বইটি আমি তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়ে এ বিষয়ে বিশদ পর্যালোচনা তার সামনে উপস্থাপন করি। তিনি আমাকে দুই বাক্যে বললেন, ‘তুমি সক্রিয়ভাবে কাজ করো- বাংলাদেশ যতটুকু পেয়েছে, ততোটুকুকে কীভাবে কাজে লাগিয়ে জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং সমুদ্রসম্পদ বাড়ানো যায়। পাশাপাশি, এই রায়ে আমরা যা হারিয়েছি, ভবিষ্যতে তা কীভাবে আইনি লড়াইয়ে ফিরে পেতে পারি, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রস্তুতি নাও।’ এই এক মিনিটের নির্দেশনাই প্রমাণ করে যে তারেক রহমান মূলত একজন দেশপ্রেমিক নেতা এবং তার সঙ্গে কোনোভাবেই প্রতিশোধপরায়ণ বিতাড়িত শেখ হাসিনাকে তুলনা করা ঠিক হবে না।

অতএব, যারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ছবির বিষয়টি নিয়ে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ করে বলছি, তারেক রহমানের ব্যক্তিত্ব নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে লাভ নেই। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অবশ্যই তার সীমাবদ্ধতা থাকবে, তবে তারেক রহমান কোনোভাবেই এই দেশকে পুরোনো ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরতে দেবেন না- এটা তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তাই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে তাকে সহযোগিতা করুন। এ সহযোগিতা যেমন বিরোধী পক্ষ থেকে থাকা জরুরি, তেমনি নিজের দলের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও জোরালো সহযোগিতা প্রয়োজন।

দুই. বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপি কেন তারেক রহমানকে সহযোগিতা করবে? সবার মনেই এ প্রশ্ন থাকবে। এই প্রশ্নের উত্তরও আবার সবার জানা। যেই ফ্যাসিবাদকে আমরা সবাই মিলে বিতাড়িত করেছি, তারা ফিরলে কেউ বাঁচবেন না। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরেছিল। এরপর ২০০৯ সালের পর তারা জামায়াত-বিএনপির কয়েক ডজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গুম-খুন করেছে। এ ইতিহাস সবার জানা।

তবে ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনতে দেশের মাটিতে বহুজন এখনই তৎপর। অদৃশ্য শক্তি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ শুরু করে দিয়েছে। সেদিন যুক্তরাজ্যের একজন শীর্ষ ক্রিমিনাল আইনজীবী কিংস কাউন্সেলের সঙ্গে আলোচনায় জানলাম, ফ্যাসিবাদীরা ফিরতে কী পরিমাণ টাকা ইনভেস্ট করেতেছে। আর এতে সহায়তা করছে ওপারের শক্তি। এভাবে মিডিয়া, পুলিশ, প্রশাসন, আদালতপাড়ায় যেসব ফিসফিস এখনই শুরু হয়েছে, তাতে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বিনষ্ট হলে দেশ নতুন করে সংকটে পড়বে। আর সেই সংকট মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা আপনাদের কারোরই থাকবে না।

যেহেতু দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভঙ্গুর, সেহেতু পারস্পরিক পরামর্শ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল শক্তিকে দেশ গঠনে কাজ করা জরুরি। সেক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান থাকবে। বিরোধী দল জামায়াত ইসলামীকে ১৯৯৬ সালের ভুলের কথা স্মরণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ও ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনে নিজেদের নেতাদের ফাঁসি আপনারা নিশ্চিত করেছিলেন। প্লিজ, আপনারা নতুন করে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করে জুলাই বিপ্লবীদের জীবন বিপন্ন করবেন না। তাহলে এর দায় আপনারা শোধ করতে পারবেন না। অবশ্য, এ ক্ষেত্রে সরকার ও সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকেও আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা আবশ্যক।

তিন. সাম্প্রতিক সংকটে সরকার ও বিএনপি আর কতটুকু দায়িত্বশীল হতে পারতো? কিংবা আর কেমন আচরণ করলে জনগণ সরকারের ওপর খুশি থাকবে? দেখুন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে দেশের সব সমস্যাকেই অ্যাড্রেস করেন। বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে তিনি নানাবিধ বিকল্প পদক্ষেপ নিয়েছেন। মিরপুরে হাসপাতাল ভাঙচুরে একজন এমপিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এবং যুব সংগঠনের কমিটি ভেঙে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি কিন্তু এসব অপরাধের দায় নিয়ে নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ যাতে সংঘটিত না হয়, তাও নিশ্চিতের চেষ্টা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সংকট সমাধানে ছুটে চলছেন দিবারাত্রি।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফিরে তারেক রহমান প্রিয় মা বেগম খালেদা জিয়াকে হারান। দেশের জন্য নিজের প্লানের ঘোষণা দিয়ে দুই মাসের বিশ্রামহীন নির্বাচনি প্রচারণা শেষে সরকার গঠন করেন। প্রথম ছয় মাসেই তিনি তার প্লান বাস্তবায়নে উদ্যোগী হন। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, ফার্মার্স কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পরিকল্পনা তিনি বাস্তবায়ন করেন। তিনি কম কথা বলেন, কিংবা বিরোধী পক্ষের গালাগালির জবাব দেন না। তবে প্রতিনিয়ত তিনি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তবে একটি সংকট তিনি এখনও সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেননি বলে আমার মনে হয়েছে। আর সেটি হলো- দল হিসেবে বিএনপি গত ২০ বছরে খুবই ক্লান্ত-শ্রান্ত। মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়ে ৫ আগস্টের পর একটু হালে পানি পেলেও পুরোপুরি শৃঙ্খলায় ফিরতে পারেনি। যারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, তাদের অনেকের মধ্যে কেবল যেন নেতাকর্মী বিচ্ছিন্ন থাকার একটি ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এতে নেতাকর্মীদের হতাশা আরও বাড়ছে। অর্থনৈতিক দৈন্যদশা কাটাতে অনেকে বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়েছেন- এ বিষয়টির সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

কারণ এবারের বিএনপি সরকারকে নিজেদের সাবেক সহযোগী জামায়াত ইসলামকে যেমন মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি, সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী তরুণ প্রজন্মের দল এনসিপিকে সামলানো। তারা কয়েকদিন আগে রক্ত ঝরিয়েছে, এখনও তাজা রক্ত তাদের ঘ্রাণে। আপনি পুরোনো স্টাইলে তাদের মোকাবিলা করতে পারবেন না। অন্যদিকে, ফ্যাসিবাদীরাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। দেশ-বিদেশে সর্বত্র আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান। এই অবস্থায় নিজের দলের নেতাকর্মীদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করা জরুরি। বিএনপি ও অঙ্গদলের তৃণমূল পর্যন্ত ঢেলে সাজানো যেমন আবশ্যক, তেমনি দেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘প্লান’ যাতে তারা ধারণ করতে সক্ষম হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্রদলের কার্যত কোনো কমিটি নেই। যুবদলের কমিটি নিয়ে বিদ্রোহ চলছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতারা সরকারে। এ অবস্থায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে হতাশা ভর করেছে।

আবার, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কিংবা ‘প্লান’ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কি-না তা নিয়ে অনেক সময় সন্দেহ দেখা দেয়। তাদের চলনে-বলনে তারা প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয় এখনও দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি অনুধাবণ করে পদক্ষেপ নিতে পারছে কিনা- এমন প্রশ্ন ইতোমধ্যে উঠতে শুরু করেছে। এই সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে স্বরাষ্ট্র, আইন, অর্থ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এসব মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর করা জরুরি।

তবে আশার বিষয় হলো- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলমান সংকটেও প্রিয় বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদী। তিনি নিজের জীবন বাজি ধরে দেশ গঠনে সচেষ্ট। আর এজন্যই আধিপত্যবাদের প্রধান টার্গেট তারেক রহমান। সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়েই চলছে প্রোপাগান্ডা। আর এই প্রোপাগান্ডায় না বুঝে জড়িয়ে পড়ছে তরুণ প্রজন্ম, ইনফ্লুয়েন্সার এবং জুলাই বিপ্লবীরাও। আশা করি, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পজিটিভ পথচলায় সহযোগী হবেন এবং গঠনমূলক সমালোচনায় নতুন বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবেন। একইভাবে, জাতীয়তাবাদী সকল শক্তি হতাশা ভুলে পাশে থাকবেন তারেক রহমানের, এই প্রত্যাশায় রাখছি। আসুন, আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহযাত্রী হই।


লেখক: সাবেক সংবাদিক, রয়টার্স এবং বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিমকোর্টের ব্যারিস্টার ও সলিসিটর।