logo

কুমিল্লায় শায়খে চরমোনাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা: বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে উত্থাপিত কিছু প্রশ্ন

কুমিল্লায় শায়খে চরমোনাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা: বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে উত্থাপিত কিছু প্রশ্ন
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের (শায়খে চরমোনাই) বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই মামলাটি নিয়ে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের যেসব বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা জনমনে কিছু যৌক্তিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

গত ২৫ জুন নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জানান, তিনি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই মামলার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা দায়েরের বিষয়ে তিনি পূর্বে অবগত ছিলেন না এবং কে বা কারা এই মামলা করেছেন, সে বিষয়েও তার কিছু জানা ছিল না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি জানার পরপরই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ২৩ জুন প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে’ মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ একই প্রতিবেদনে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, যেকোনো নাগরিক আইনের আশ্রয় নিয়ে মামলা করতে পারেন এবং অভিযোগ যাচাই-বাছাই করার পরই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পর্যালোচনা করলে কয়েকটি বিষয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়, যা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন:

১. মামলাটি দায়েরের প্রক্রিয়ায় আসলে কারা কী ভূমিকা পালন করেছেন, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা প্রয়োজন।

২. ওসির বক্তব্যে উল্লেখিত ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ’ বলতে প্রশাসনিকভাবে ঠিক কোন পর্যায়ের নির্দেশনাকে বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হলে জনমনে বিদ্যমান প্রশ্নের অবসান হতে পারে।

৩. সংসদ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি মামলা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না; অথচ মামলাটি তাঁর নাম ও সম্মানকে কেন্দ্র করেই দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান আরও পরিষ্কার হওয়া দরকার।

৪. মামলার গ্রহণ, তদন্ত এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা জনআস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

একটি গণতান্ত্রিক সমাজে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আলোচিত এই ঘটনার প্রকৃত সত্য এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশ পাওয়া জনস্বার্থে জরুরি। এতে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জনগণ সঠিক ধারণা লাভ করতে পারবেন এবং যেকোনো অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তির অবকাশ কমবে।

লেখক: সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল