Advertisement

মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনার বহিঃপ্রকাশ: সাইফুল হক

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
মাধ্যমিকে ফল বিপর্যয় শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনার বহিঃপ্রকাশ: সাইফুল হক
সাইফুল হক। ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে যে বিপর্যয় ঘটেছে, তা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; বরং শিক্ষাব্যবস্থার চরম বৈষম্য, অদূরদর্শিতা ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক। মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে অবিলম্বে জাতীয় কমিশন গঠন করে উত্তরণের পথ বের করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

বুধবার (১২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সাইফুল হক এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত বছরের ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ কম। এর ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকবে। অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকার এই ঘটনা দেশের শিক্ষা খাতে গুরুতর সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আরও বলেন, এ বছর ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১২টিতে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। অন্যদিকে, শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গতবারের ৯৮৪টি থেকে কমে এবার দাঁড়িয়েছে ৬৬৯টিতে। এতে গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো চরম অবহেলার শিকার হওয়ার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

সাইফুল হক বলেন, একই দেশে বহুধাবিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের সন্তানেরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ও রাষ্ট্রীয় অবহেলার কারণে প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী আজ শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়েছে।

তিনি বলেন, বিগত দেড় থেকে দুই দশকে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তরুণ শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে একের পর এক অদূরদর্শী পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। বিদ্যার চর্চা ও প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পরিবর্তে পাসের হার বাড়ানো, জিপিএ-৫-কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা এবং অটোপাসের সংস্কৃতি চাপিয়ে দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

সাইফুল হক বলেন, প্রায় সাত লাখ পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং একাদশ শ্রেণিতে ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন ফাঁকা থাকা শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষতি নয়; এটি পুরো পরিবারের ওপর মানসিক ও আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি।

তিনি সরকার, বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারপ্রধানের প্রতি অবিলম্বে সংকট কাটিয়ে উঠতে সর্বজনীন, বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।