logo

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি দুই দলের

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি দুই দলের
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। পৃথক বিবৃতিতে দল দুটির নেতারা এ সিদ্ধান্তকে জনদুর্ভোগ বাড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মূল্যবৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নতুন দাম নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটারে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর প্রতিবাদে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

তারা বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের বেশি। এমন সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। তাদের দাবি, গত পাঁচ মাসে সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এরপর গ্যাসের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

বিবৃতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে দলটির নেতারা বলেন, বেতন ১০০ থেকে ১৪৪ শতাংশ বাড়ানোর ফলে মাত্র ১৪ লাখ মানুষের বেতন ও জীবনমান বেড়েছে। কিন্তু দেশের সিংহভাগ সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।

তারা প্রশ্ন তোলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না থাকলে শুল্ক-কর আদায় হবে কীভাবে। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার যতটুকু ভর্তুকি কমাবে, তার চেয়ে বেশি রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে এতে মানুষের জীবন-জীবিকা আরও দুর্বিষহ হবে।

খেলাফত মজলিস নেতারা জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার দাবি জানান। পাশাপাশি বর্ধিত জ্বালানি তেলের দাম অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তারা।

অন্যদিকে, একই দিন পৃথক বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, জনগণ যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি ও গ্যাস সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শিল্প-কারখানার স্থবিরতায় দিশেহারা, তখন গভীর রাতে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে সরকার জনগণের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে পড়বে। জনগণের কষ্ট কমানো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হলেও বারবার জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতের মূল্য বাড়িয়ে মানুষের জীবন আরও কঠিন করে তোলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, জনগণ যখন স্বস্তি চায়, তখন তাদের ওপর নতুন বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গভীর রাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া জনগণের সঙ্গে প্রহসনের শামিল।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। তার দাবি, হত্যা, অপহরণ ও অপরাধের ঘটনায় জনমনে অস্থিরতা রয়েছে। পাশাপাশি শিল্প ও উৎপাদন খাতও নানা সমস্যায় জর্জরিত। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের দায়িত্ব ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার বদলে নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত স্থায়ী জনসমর্থন তৈরি করতে পারে না। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে উন্নয়নের কথা বলা গেলেও তাদের কষ্টের বাস্তবতা আড়াল করা যায় না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বড় অঙ্কের লোকসান হয়েছে।