হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা, ঢাকায় বিক্ষোভ

হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষ করে মৌলভীবাজার ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। যৌথভাবে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির নেতারা।
মিছিলে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা জয়নাল আবেদীন ও তারিকুল ইসলামসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা হবিগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।
মিছিল শেষে এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছেন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা হয়। এ সময় এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে সারজিস ও নাসীরুদ্দীনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
এনসিপির অভিযোগ, হামলাকারীরা দলটির গণমাধ্যমকর্মীদের বহনকারী একটি গাড়ি ভাঙচুর এবং ক্যামেরা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়েছেন। হামলার মুখে সারজিস আলম একটি ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নিলে তাঁকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
তবে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান দাবি করেছেন, এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। এর জেরেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
হামলার প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে এনসিপি।
